আজকের বার্তা | logo

৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ঘটনাটি ছিল প্যাকেজ ষড়যন্ত্র !

প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০১৮, ০২:২৯

সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ঘটনাটি  ছিল প্যাকেজ ষড়যন্ত্র !

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

খন্দকার রাকিব ॥ গত ১৪ জুলাই বরিশাল কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনালে সুন্দরবন-১১ লঞ্চে সৃষ্ট ঘটনাটি একটি প্যাকেজ ষড়যন্ত্র ছিল বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। মূল লক্ষ্য ছিলো সুষ্ঠু সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কার্যক্রমে বিঘœ ঘটানো। একটি মহল হীনস্বার্থ হাসিল করার অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়। ষড়যন্ত্রকারীরা ঘটনাটিকে যেদিকে প্রবাহিত করতে চাচ্ছে তার সত্যতা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। সৃষ্ট ঘটনাটিকে নিয়ে যেভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিলো, প্রকৃতপক্ষে তেমন কিছুই হয়নি সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ভিআইপি লাউঞ্জে। বিশেষ করে দায়ীত্বশীল সূত্র থেকেই সরবরাহকৃত নিউজটি প্রকাশের উদ্দেশ্যে মিডিয়ার নজরে আনা হয়েছিলো। সরেজমিনে জানা গেছে, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে বিদায় জানাতে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম (বিপিএম, পিপিএম) ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহাফুজুর রহমান সেখানে যান। ঠিক সে সময় লঞ্চের ভিআইপি লাউঞ্জে বহিরাগত কিছু অস্ত্রধারী লোকের উপস্থিতি দেখে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী কন্সটেবল হাসিব তাদের পরিচয় জানতে চেয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ত্যাগ করতে বলেন। এসময় তাদের সাথে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী কন্সটেবল হাসিবের বাগবিত-া শুরু হয়। পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বহিরাগতদের নিবৃত্ত এবং অস্ত্রের লাইসেন্স দেখাতে অনুরোধ করেন। অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অস্ত্রের লাইসেন্স না দেখাতে চাইলে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী বহিরাগতদের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বাহিরে যাওয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ করেন। অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে সৈকত ইমরান-সহ অন্যরা কমিশনারের দেহরক্ষীর সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তি ও সৈকত ইমরান উত্তেজিত হয়ে তাদের সাথে থাকা সঙ্গীদের নিয়ে পুলিশ কন্সটেবল হাসিব’র পথরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এসময় পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম তাদের থামাতে চেষ্টা করলে কন্সটেবলসহ তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করেন তারা। এসময় পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা পুলিশের লোক, এখানে সরকারি নিরাপত্তার কাজে এসেছি।” পরিচয় দেয়ার পরেও সৈকত ইমরান-সহ আরো ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ওপর হামলা চালান। এসময় বিএমপি’র মিডিয়া বিভাগে কর্মরত কন্সটেবল ওবায়েদ ঘটনার ছবি তুলতে চাইলে তাকেও মারপিট করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার ও ডিআইজি বিষয়টি জেনে ভিআইপি কেবিন থেকে বের হয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের সাথে কথিত “পিস্তলের” কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনুসন্ধান করতে গিয়ে সুন্দরবন-১১ লঞ্চের কর্মরত স্টাফগণের কাছে পুলিশ কমিশনারের মাথায় পিস্তল ঠেকানো ও শারীরিক লাঞ্ছিতের বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে, তারা পিস্তল ঠেকানো ও পুলিশ কমিশনারকে লাঞ্ছিত করার কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানান। প্রকাশিত সংবাদে যেভাবে ঘটনার রূপ দেয়া হয়েছে সেরকম কোন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই কোন না কোন প্রত্যক্ষদর্শী খুঁজে পাওয়া যেত, কিন্তু ঘটনাটি মিডিয়ায় প্রকাশের তথ্যের কোন প্রত্যক্ষদর্শী এখনও খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধানে সৃষ্ট এই ঘটনার ষড়যন্ত্রের কাহিনীতে জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার গন্ধও বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। মামলা দায়ের করার আগেই মিডিয়ার কাছে মামলার খসড়া কপি ওই কর্মকর্তা পাঠিয়ে দিয়ে কোন কোন মিডিয়ায় নিউজটি প্রকাশে আগ্রহ দেখিয়ে মৌখিক আরও কিছু তথ্য দেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ কমিশনারের মাথায় পিস্তল ঠেকানোর তথ্যটি ছিলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, সুপরিকল্পিত এবং প্যাকেজ ষড়যন্ত্রের অংশ। বরিশালে মাদক নির্মূল ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিকতর সাফল্যজনক। এখানে মাদকের রাজ্যের কথিত মসনদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক ভেঙে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার কর্মকা-ে ক্ষিপ্ত মাদক সংশ্লিষ্টরা। দিশেহারা হয়ে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে পরোক্ষভাবে হেনস্থা করার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে এর ছায়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। অপরদিকে, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন ৩০ জুলাই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রশাসন বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিকল্পনায় যখন ব্যস্ত সময় পার করছে, সেই সময় পুলিশ প্রশাসনের মনোযোগ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য এ ঘটনাটি আমদানি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা যে মুহূর্তে ব্যস্তময় সময় পার করছেন সেই সময় লক্ষ্য করা গেছে, বরিশালের আবাসিক হোটেলগুলোতে অচেনা-অজানা ব্যক্তিরা অগ্রিম রুম বুকিং-এর পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। অনেকে আবার শহরতলী এলাকায় আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়ি এবং বৈঠকখানা ইত্যাদি স্থানে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।