আজকের বার্তা | logo

১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

সাদিক আবদুল্লাহ রাজনীতির “যোগ্য” উত্তরাধিকার….

প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০১৮, ০২:২৯

সাদিক আবদুল্লাহ রাজনীতির “যোগ্য” উত্তরাধিকার….

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি ॥

সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ রাজনীতির এক “যোগ্য উত্তরাধিকার”। বংশ পরম্পরায় যার ধমনীতে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র রক্ত প্রবাহিত।
বাবার আপন মামা জাতির জনক বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ফুফু প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা, দাদা “কৃষককূলের নয়নের মনি” সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এবং পিতা আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (মন্ত্রী)’র আদর্শের সিঁড়ি পথ বেয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বাবা ও মায়ের সঙ্গে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনের রক্তে ভেজা সেই সময়ের দেড় বছরের শিশু আজকের বরিশালের রাজনীতির ‘আইকন’ যুবরতœ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ নিজেকে যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় উঠে আসা এক “উদীয়মান সূর্য”। যার আলোয় “আলোকিত” বরিশালের আওয়ামী রাজনীতির অঙ্গন। শুধু তাই নয়, বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমানে তার নেতৃত্বে বরিশালে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত। সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদ প্রার্থী হিসেবে সর্বাপেক্ষা আলোচিত ও জনপ্রিয় এক নেতা।
তার দাদা বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিক আব্দুর রব সেরনিয়াবাত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুধু ভগ্নিপতিই ছিলেন না, বিশ^স্ত এক অকৃত্রিম বন্ধুও ছিলেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হয়ে বেকার হোস্টেলে থাকার সময় আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’র সঙ্গে তৎকালীন উদীয়মান ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমান’র পরিচয় ঘটে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মায়ের মুখের ভাষা প্রতিষ্ঠা ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সঙ্গে সতীর্থ সহযোদ্ধা ছিলেন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত। দু’জনের আস্থা ও বিশ^াসের সম্পর্ক এক সময় বন্ধুত্ব থেকে আত্মীয়তার চিরবন্ধনে রূপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধে তিনি জোনাল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ^ বিবেকের সামনে মুক্তিযুদ্ধের বিশাল ভাবমূর্তি নির্মাণের অন্যতম কারিগর ছিলেন গণ মানুষের নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত। স্বাধীনতা অর্জনের পরে বিভিন্ন সময় তিনি ভূমি প্রশাসন, বন, মৎস্য ও পশু সম্পদ, বিদ্যুৎ, সেচ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও বারে বারে ছুটে যেতেন নিজের আপন ঠিকানায় অর্থাৎ কৃষক সম্প্রদায়ের মাঝে। কৃষকের মনের ভাষা যেমন তিনি বুঝতেন, ঠিক তেমনি মেহনতি কৃষক শ্রেণিও তাকে আত্মার আত্মীয় হিসেবে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারতো। তাইতো কালক্রমে তিনি হয়ে ওঠেন “কৃষককূলের নয়নের মনি”। মন্ত্রী হলেও সাধারণের কাছে তিনি ছিলেন তাদেরই লোক। তার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক “ফারাক্কা” চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিলো। ভূমি ব্যবস্থার সংস্কার, ভূমিহীন কৃষককে খাস জমি দান, পরিবেশ ও বনায়ন, ভূমিহীনদের জন্য সমবায় গ্রামের পরিকল্পনা, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণে উপকূলীয় বৃক্ষ রোপণ পরিকল্পনা, সেচ, খাল ও নদী খননের প্রকল্প, বাংলার হারানো ঐতিহ্য তুলা চাষের জন্য উন্নয়ন বোর্ড গঠন এবং তুলা চাষের প্রবর্তন; এমনি আরও অনেক ভূমিকা রয়েছে তার এ মাটি ও মানুষের কল্যাণে। নির্মোহ ও সৎ রাজনীতিকের পথিকৃৎ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত-কে ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির জনকের পরিবারের সঙ্গে ঘাতকরা হত্যা করেছে দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার অভিলিপ্সায়। এদিকে ১৯৯৭ সালে অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সু-বাতাস বইয়ে দিতে ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পাদনের মাধ্যমে তৎকালীন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ’র চেহারার অবয়বে “বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছায়া” আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা’র পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায় তারও নাম লিখিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মামা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেই সময়ের সাহসী টগবগে যুবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ “স্বাধীনতার লাল সূর্য” ছিনিয়ে আনতে বরিশাল অঞ্চলে “মুজিব বাহিনী” প্রধান হিসেবে মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য মনে করে সম্মুখ সমরে জীবনপণ লড়াই করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি তরুণ বয়সে বরিশাল পৌরসভার সফল ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়ন কর্মকা-ে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। পরবর্তীতে বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গোটা বরিশাল অঞ্চলে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আবির্ভূত হন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বিভাগ, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, পাসপোর্ট অফিস, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, দোয়ারিকা-শিকারপুর ও দপদপিয়া ব্রিজ নির্মাণসহ বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে তার অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে রক্ত ঝরা অচিন্ত্যনীয় বিয়োগান্তক অধ্যায়ের শোকগাঁথায় মামা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র পরিবারের সঙ্গে বাবা তৎকালীন মন্ত্রী ও ‘‘কৃষককূলের নয়নের মনি’’ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও নিজের শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু আবদুল্লাহ-সহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারান তিনি। সেদিন রাতে মৃত্যুর দুয়ার থেকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন’র অপার কৃপায় অলৌকিকভাবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বুলেটবিদ্ধ স্ত্রী সাহান আরা আবদুল্লাহ ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশুপুত্র সাদিক আবদুল্লাহ বেঁচে যান। শরীরে ৫টি বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সাহান আরা আবদুল্লাহ স্বামী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র মতো আ’লীগের সুখ-দুঃখের অংশীদার। ৭৫’র পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তার পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয় ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এ পরিবারটি। তবে সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও এ পরিবারটি বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের একমাত্র ভরসাস্থল ও শেষ ঠিকানা। স্বাধীনতার পরে বরিশাল অঞ্চলে দৃশ্যমান যতো বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকা- হয়েছে তার শুরুটা করেছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এবং তা অব্যাহত রেখেছেন তার সুযোগ্য পুত্র আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তাইতো গৌরব ও ঐতিহ্যের “যোগ্য উত্তরাধিকার” সাদিক আবদুল্লাহ-কে ঘিরে আগামীর উন্নত, আধুনিক ও আলোকিত এক “তিলোত্তমা” বরিশাল নগরীর “স্বপ্নের” জাল বুনছেন নগরবাসী।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।