আজকের বার্তা | logo

২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

ভাসছে বাড়িঘরসহ ফসলি জমি: বিপাকে ২০ হাজার মানুষ

প্রকাশিত : জুলাই ১৮, ২০১৮, ০১:৫০

ভাসছে বাড়িঘরসহ ফসলি জমি: বিপাকে ২০ হাজার মানুষ

বার্তা ডেস্ক ॥ অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে গেছে বরিশালের নিম্নাঞ্চল। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর সাগরপাড়ের জনপদ কলাপাড়ার গোটা উপকূলীয় জনপদে অস্বাভাবিক জোয়ারের তা-ব এখন জলোচ্ছ্বাসে পরিণত হয়েছে। যা নিয়ে দুর্যোগ আতঙ্কে রয়েছে দরিদ্র এ জনগোষ্ঠী। গত দেড় মাসে অন্তত ছয় হাজার পরিবারের কুড়ি হাজার মানুষের বাড়িঘর প্রায় ২০দিন জোয়ারের দুই দফার ঝাপটায় বিধ্বস্ত করে দেয়। বহু পরিবার স্থায়ীভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চার হাজার পরিবার এখন বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় পড়েছে। কারণ স্বাভাবিক জোয়ারের ঝাপটাও এখন এসব মানুষের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। অমাবস্যা ও পুর্ণিমার জোতে অন্তত টানা ছয়দিন দুই দফা চার/পাঁচ ঘণ্টা ডুবে থাকে বাড়িঘর। বসতঘরের ভিটেমাটি পর্যন্ত ধুয়ে যায়। ভেসে যায় রান্নার চুলা থেকে  শুরু করে আসবাবপত্র। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সবজিসহ ফসলের ক্ষেত পর্যন্ত নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি টয়লেট পর্যন্ত ডুবে ব্যবহারের পানি পর্যন্ত দূষিত হয়ে পড়ছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে এখন ছয় হাজার দরিদ্র পরিবারের বসতভিটে বাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্রমশ জোয়ারে পানির উচ্চতা বেড়ে বাড়িঘর ডুবে অসহায় হয়ে পড়ছে এসব গরিব মানুষ। কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার প্রায় চার শ’ কিমি বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস অন্তত ছয় হাজার পরিবারের। এরা অধিকাংশ ভূমিহীন। সাইকোন সিডরের তা-বে এসব পরিবার হারায় সহায়-সম্বল, সবকিছু। তাই বাধ্য হয়ে বেড়িবাঁধের এই সেøাপে বসবাস করছেন। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বিনিদ্র রাত কাটছে তাদের। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সরকারিভাবে ভূমিহীনদের যখনই খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তখনই এসব মানুষের অধিকাংশ ঘুষ না দিতে পারায় তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি এক চিলতে খাস জমি। যেখানে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হতে পারত। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সার্ভেয়ারসহ ভূমি অফিসের এক শ্রেণির ধান্ধাবাজ কর্মচারীর যোগসাজশে ৯০ ভাগ খাস জমি প্রভাবশালীরা হাতিয়ে নেন। এদেরই একজন মোঃ হাবিব। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রাম ঘেঁষা বেড়িবাঁধের বাইরের সেøøাপে বসবাস করছেন। ঘরটির বারান্দাসহ সব জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে। এ মানুষটির দাবি, তাকে মাত্র পাঁচ শতক খাস জমি দিলেও একটি বসতবাড়ি করতে পারতেন। অথচ ওই গ্রামের সম্পদশালী এক দলিল লেখককে দেড় একর খাস জমি ভূমিহীন দেখিয়ে ২০১৭ সালে দলিল করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া লালুয়ার চারিপাড়াসহ আট গ্রামের আরও তিন হাজার পরিবার তো নিত্যদিন জোয়ারের ঝাপটায় ভাসছে। এখন রাবনাবাদ পাড়ের এ মানুষের চলাচল নৌকায়। দীর্ঘ এলাকায় আট কিমি বেড়িবাঁধের অর্ধেকটা নেই। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। একই দুঃখ মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর, কমরপুর, সুধীরপুর, মহিপুরের পাঁচটি গ্রামের মানুষের। এদেরও বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত। মোট কথা পুর্ণিমা-অমাবস্যার জো’র অস্বাভাবিক জোয়ারে ভাসছে কলাপাড়ার ছয় হাজার পরিবারের কুড়ি হাজার মানুষ। বহুমুখী সঙ্কট থেকে এদের বের হওয়ার কোন পথ আছে কি না তা জানাতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা উপজেলা পরিষদ। তবে এসব পরিবারকে এখনই বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। নইলে যে কোন ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে জলোচ্ছ্বাসের কারণে।

কাঠালিয়া : বিষখালী ও হলতা নদীর জোয়ারের পানি গত ৪ দিন যাবত স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাগর উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি, মাছ, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে আমুয়া ফেরিঘাটের গ্যাং-ওয়ে। গত ৪ দিনের প্রবল বর্ষণে বিষখালী, হলতানদীসহ এ অঞ্চলের খাল-বিলের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের সংযোগ কাঁচারাস্তা ২-৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে জয়খালী, চিংড়াখালী, আমুয়া, কচুয়া, বিল ছোনাউটা, পাটিখাঘাটা, আওরাবুনিয়া, আউরাগ্রামের যোগাযোগ রাস্তা ও ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমুয়া ফেরিঘাটের গ্যাং-ওয়ে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন পুকুরের মাছ, সাক, সবজি, পানের বরজ, কলা ও পেঁপে বাগানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিষখালী নদীর কাঠালিয়া অংশে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর এ মৌসুমে কাঠালিয়ায় কৃষি, মৎস্য, ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ  শহীদুল ইসলাম জানান,  কাঠালিয়ায় বেড়িবাঁধ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানির চাপ এভাবে ২/৩ দিন অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আংশকা রয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।