আজকের বার্তা | logo

৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং

দুই পতিতাসহ ধরা পড়েও বহাল তবিয়তে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী

প্রকাশিত : জুলাই ১৭, ২০১৮, ০২:১৩

দুই পতিতাসহ ধরা পড়েও বহাল তবিয়তে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল গণপূর্ত উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম দুই পতিতাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েও রয়েছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু একই অপরাধে অপরাধী হয়েও ওই দুই পতিতাকে যেতে হয়েছে জেলে। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গনি মোটা অংকের টাকা দিয়ে বেআইনিভাবে ‘বিভাগীয় ব্যবস্থা’র মুচলেকা দিয়ে ডিবি অফিস থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছিলেন মোল্লা রবিউলকে। ওই সময় দুই পতিতাসহ প্রকৌশলী আটকের বিষয়টি ছিলো ‘টক্ অব দ্যা টাউন’। সেইথেকে প্রায় এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি মোল্লা রবিউলের বিরুদ্ধে। বরং পদোন্নতি পেতে উচ্চ পর্যায়ের প্রশিণ নিয়েছেন মোল্লা রবিউল ইসলাম। একই অপরাধে আটক তিন জনের মধ্যে দুই জনের জেল-জরিমানা হলেও কোন্ মতার বলে শাস্তির ঊর্ধ্বে বরিশাল গণপূর্ত উপ-বিভাগের এই উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী! এনিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন? সূত্র মতে, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মুচলেকা দিয়ে মোল্লা রবিউল ইসলামকে পুলিশের হাত থেকে নিয়ে আসলেও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গনি গোপনে ট্রেনিং এ পাঠান রবিউলকে। ছয় মাস ট্রেনিং শেষে স্বপদে কাজ শুরু করেন মোল্লা রবিউল ইসলাম। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের (২য় রমজান) জুন মাসের ২ তারিখ এই উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলামকে দুইজন পতিতাসহ নগরীর একটি হোটেলের ৪০৫ নম্বর ক থেকে আটক করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দেলোয়ার। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলামের সাথে ভ্রাম্যমাণ পতিতা ছিলেন সোনিয়া আক্তার ওরফে ছোঁয়া এবং তানিয়া আক্তার। আটকের পর তানিয়া ও সোনিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করলেও প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলামকে মুচলেকায় ছেড়ে দেন। যদিও তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তম কুমার পাল লিখিতভাবে মোল্লা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ রাখেন। কিন্তু ঘটনার ১০ মাস অতিবাহিত হলেও কোনো শাস্তির আওতায় আসেননি মোল্লা রবিউল। এছাড়াও মোল্লা রবিউলের বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডারবাজদের সহায়তা করার অভিযোগ। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বরিশাল গণপূর্ত উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ষড়যন্ত্র করে আমাকে পুলিশের হাতে আটক করানো হয়েছিল।” বিভাগীয় ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি দপ্তরের বিরুদ্ধে অন্য একটি দপ্তর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলে কিভাবে। এছাড়া তিনি অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, ‘‘যেহেতু গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজে এসে তাকে আমাদের কাছে মুচলেকা দিয়ে নিয়ে গেছেন, সেখানে শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের।” এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘আমরা সঠিক সময়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কপি ডাক মারফত গণপূর্ত বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছি।” এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিপন কুমার রায় জানান, গণপূর্তের কোনো প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাননি তিনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কন্সটেবল গনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রবিউলের অপরাধ সংক্রান্ত নোটিশ গণপূর্ত অফিসে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেখানে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির একজন আয়া সেই নোটিশ গ্রহণ করেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।