আজকের বার্তা | logo

৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

মোটামুটি নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা

প্রকাশিত : জুন ১৫, ২০১৮, ১০:৫৬

মোটামুটি নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা

অনলাইন সংরক্ষণ  // গতকাল বিকেল নাগাদ মহাসড়কে কোনো কোনো স্থানে যানজট দেখা দেয় সব ট্রেনই দেরিতে ছেড়ে গেছে কোথাও ঠাঁই নাই। বাস, ট্রেন, লঞ্চে তো বটেই; স্টেশন কিংবা টার্মিনালেও দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থা নেই। হাজার হাজার মানুষ। সবার গন্তব্য—গ্রামের বাড়ি, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া।

 

এদের অনেকেই বাস, ট্রেন, লঞ্চে টিকিট পাননি। বাধ্য হয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের যেতে হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেসব বাস, লঞ্চ ও ট্রেন ছেড়েছে তাতে কোন তিল ধরনের জায়গা ছিল না।

সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ও কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকেই ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত ঈদযাত্রা ছিল আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেকটাই নির্বিঘ্ন। রাজধানীর উপকণ্ঠ এলাকায় মহাসড়কে ধীরগতি ছিল গতকাল। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ছুটির পর, সন্ধ্যায় ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা অংশে যানজট হলেও অতীতের ঈদযাত্রার মতো স্থবিরতা ছিল না।  বাস চালক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, এবার পথের দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। পথে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্ব হলেও ঘরের ফেরার আনন্দের কাছে এ দুর্ভোগ তুচ্ছ।

 

গতকাল ছিল ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস। আগেই ধারণা করা হয়েছিল, ছুটির পর ভিড় বাড়বে। তবে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় ছিল ট্রেনে ও লঞ্চে। অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে না ছাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে। আধা ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে গতকালের ট্রেন। আগের দিনের মতো গতকালও পাটুরিয়ায় ফেরি পারাপারে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের।

 

দুপুরে মহাখালী টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের ঈদযাত্রার অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় নির্বিঘ্ন। মহাসড়কের কোথাও দীর্ঘ যানজট হয়নি। বৃষ্টি ও দুর্ঘটনার কারণে যেখানে ছোটখাট যানজট হয়েছে, সেখানেই তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে যানজট নিরসন করা হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ। সবাই বাড়ি যেতে নির্দিষ্ট বাসের অপেক্ষা করছেন। অনেকেই অগ্রিম টিকিট কাটেননি বলে দ্বিগুন দামে হলেও টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

 

বগুড়াগামী একতা পরিবহনের বাস কাউন্টারের সামনে দেখা গেছে টিকিট কিনতে শত শত যাত্রীর লাইন। এই পরিবহন অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেনি।  যারা বগুড়া যেতে অগ্রিম টিকিট পাননি তাদের শেষ ভরসা এই পরিবহন। তাই টার্মিনালে অনেকেই বাসের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে থাকেন। এই টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি বাসই গড়ে ১ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টা দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়েছে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল গতকাল এক জনস্রোতে পরিণত হয়। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে টিকিট পেতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বেশিরভাগ বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০/৬০ টাকা বেশি দামে টিকিট বিক্রি হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের পরিচালক ওমর ফারুক খন্দকার জানান, ঈদের আগে যেহেতু বাস ঢাকায় বেশির ভাগ আসন খালি নিয়েই ফিরে আসে তাই ঐ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কেউ কেউ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে। বাস টার্মিনালে কুমিল্লা, ভৈরব, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী ইত্যাদি স্থানে যেতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়। অন্যদিকে, তিল ধরনের ঠাঁই ছিল না সদরঘাটে। সকাল থেকেই টার্মিনালে আসতে থাকেন যাত্রীরা। দুপুরের পর সদরঘাটে নামে জনস্রোত। যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভও ছিলো অনেক।

 

 

বরিশালের যাত্রী শাহেদ বলেন, কয়েকদিন ঘুরে কেবিন পাননি। তাই কষ্ট করে  হলেও ডেকে যাচ্ছি। বাবা-মাসহ পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ করার মজাটাই আলাদা। পটুয়াখালীর যাত্রী নজরুল ইসলাম জানান, সদরঘাটে ঢোকার আগেই শুরু হয় হয়রানি। গুলিস্তান থেকে শুরু হওয়া যানজট শেষ হয়েছে সদরঘাটে। রিকশা-ট্যাক্সি ক্যাব অথবা সিএনজি থেকে নামার আগেই শুরু হয় লাগেজ টানা হ্যাঁচড়া। অন্যদিকে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া বেশিরভাগ লঞ্চই ছিল মাঝনদীতে নোঙর করা। যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে লঞ্চে চড়তে হয়েছে।

 

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল আন্ত:নগর ট্রেনের কোন আসন খালি ছিল না। রেলওয়ে নির্ধারিত আসনের বিপরীতে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করেছে। গতকাল তীব্র ভিড় ছিল ট্রেনে। ট্রেনের ছাদে, ইঞ্জিনের সামনে, পাদানিতে ঝুলে যাত্রীরা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন ঢাকা থেকে। ঢাকার বাইরে থেকে যেসব ট্রেন কমলাপুরে আসে, সেগুলোও ছিল যাত্রীতে পূর্ণ।

 

যাত্রীরা জানালেন, ট্রেনে ওঠার দুর্ভোগ এড়াতে বিমানবন্দর স্টেশন থেকেই যাত্রীরা উঠে বসছেন ট্রেনে। গতকাল ঢাকা থেকে ৬৯টি ট্রেন ছাড়ে। ‘সিল্কসিটি’, ‘পদ্মা’ ‘নীলসাগর’, ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ‘একতা’ ‘দ্রুতযান’ ‘লালমনি’সহ সবকটি ট্রেন বিলম্বে ঢাকায় ফেরে। কমলাপুর থেকে আবার ছেড়েও যায় বিলম্বে। ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ছাড়ার কথা ছিল সকাল আটটায়। সেই ট্রেন ছাড়ে বেলা সাড়ে ১১ টায়। ট্রেনের যাত্রী সাইদুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন। ট্রেনের দেখা নেই। সবচেয়ে বিলম্ব করে ‘লালমনি ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন। সকাল সোয়া নয়টার ছাড়ার কথা ছিল। ছেড়ে যায় দুপুর সোয়া ১২টায়। খুলনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনগুলো এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব করেছে।

 

স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ। ছাদে, ইঞ্জিনে সবখানে যাত্রী। এ কারণে ট্রেন ধীরে চালাতে হচ্ছে। যাত্রী ওঠানামাতেও বাড়তি সময় যাচ্ছে। এ কারণেই বিলম্ব। গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। গত বছর ঈদে এ মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট হয়েছিল। মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত হলেও তিনটি গুরুত্বপুর্ণ সেতু এখনো দুই লেনের। গোমতী সেতুর পাশেই ফেরি চালু করা হয়েছে।

 

মহাসড়ক এলাকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঢাকার কাঁচপুর থেকে গোমতী সেতু পর্যন্ত সড়কে দিনভর গাড়ি স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলাচল করেছে। বিকেলের পর ছন্দপতন হয়। দীর্ঘ যানজট না হলেও গাড়ি ধীরগতিতে চলেছে। সেতু এলাকায় টোলপ্লাজায় এক দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির সারি ছিল।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।