গতকাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটি খবরে চোখ আটকেছে। নির্বাচনে যাচ্ছেন মাশরাফি। বিষয়টি নিয়ে তাই দু চারটে লাইন লিখার চিন্তা করলাম। খবরের শিরোনাম অনেকটা এরকম যে- “জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন” – জানিয়েছেন আইসিসির সাবেক সভাপতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামল। নির্বাচনে সাকিব আল হাসানও অংশ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই পেস বোলারের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ইনজুরি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। শুধু হাঁটুতেই সাতবার অস্ত্রোপচার করিয়েছেন মাশরাফি। ‘ক্রিকেট যেহেতু খেলেছি ক্রিকেটকে দেয়ার অনেক কিছু আছে, প্রায় ১৭-১৮ বছর ক্রিকেট খেলে অনেক কিছু পেয়েছি ক্রিকেটের সাথে থাকতে পারা আনন্দের ব্যাপার, তবে অবশ্যই আমি চাই মানুষকে সহযোগিতা করতে’- অবসরের পর পরিকল্পনা কি ক্রিকেট কোচিং না রাজনীতি? বিবিসির এ প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহানায়ক তিনি। তরুণ একটা দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে তার অবদান কতটুকু, তা নতুন করে আর কাউকেই স্মরণ করিয়ে দিতে হয় না। এখনও দেশের টানে খেলে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। টাইগার ওয়ানডে অধিনায়ক কয়েকদিন আগেই জানিয়েছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে চান। পাশাপাশি তিনি চালিয়ে যাবেন রাজনীতির অধ্যায়ও। এজন্য নড়াইলের মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন তিনি।

কিন্তু, সামাজিক মিডিয়া ঘেঁটে দেখলাম, কিছু মানুষ অন্ধ আচরণ করছেন। হতাশ হই এমন উদ্ভট আচরণে। মাশরাফি কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন, তা তো তিনিই ঠিক করবেন। উনার আওয়ামী লীগ পছন্দ তাই তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়াতে চান। মাশরাফির জনপ্রিয়তা দেশে তুঙ্গে। তিনি একজন ওভারঅল ক্লিন ইমেজের খেলোয়াড়। মাশরাফির রাজনীতির উপর আওয়ামী লীগের কোন চাপ বা মতামতের কোন অবকাশ নেই।

মাশরাফি বা সাকিব দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁদের বিবেচনা এবং বুদ্ধিমত্তা প্রমাণিত। তাঁরা যখন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দে তখন বুঝাই যায়, আসলে দেশের গণতন্রের এবং উন্নয়নের প্রতীক কোন দলটি। তাঁদের নিজস্ব মতামতে তাঁরা বুঝেছেন আওয়ামী লীগই বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে সফল এবং জনবান্ধব দল। কেননা, তা না হলে মাশরাফি হয়ত অন্য কোন দলের সমর্থন নিতেন। সুতরাং, যারা আজকে নেতিবাচকতার ঝুড়ি নিয়ে বসেছেন, তারা কোন আদর্শে বিশ্বাসী তা জনগণ ভালোই বুঝেছেন।

এই খবরের আগেও বিএনপি মাশরাফি বা সাকিবকে নিয়ে কোন নেতিবাচক কিছু বলে নি। যখনই মাশরাফি সাকিবরা আওয়ামী লীগের প্রতি আগ্রহ দেখাল, পাল্টে গেল বিএনপির চেহারা। এই হল বিএনপি। পায়ের তলায় মাটি না থাকা রাজনীতি করে আর কতকাল পার করবে তাদের কর্মী সমর্থকেরা? একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্বকেও তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মেনে তাঁর বিরুদ্ধাচারণে নেমে গেছে।

মূলত মানুষের সম্মান নির্ভর করে তার কর্মের উপর। আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য ভাল করেছে বলেই আজ তাদের সমর্থন দেশব্যাপী। অপপ্রচার চালিয়ে, বিচ্ছিন্ন ভুয়া খবর ছড়িয়ে একজন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত খেলোয়াড়কে নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন।

মোহাম্মদ সোহেল, সাংবাদিক