আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

এবারের ঈদ যাত্রা ছিল স্বস্তির এবং আনন্দদায়ক

প্রকাশিত : জুন ২৪, ২০১৮, ১৯:৫০

এবারের ঈদ যাত্রা ছিল স্বস্তির এবং আনন্দদায়ক

ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল সমন্বিত উদ্যোগ। ফলশ্রুতিতে এবারের ঈদ যাত্রা হয়েছে বিগত সব বছরের থেকে ব্যতিক্রম। বাড়ি ফেরা মানুষের উল্লেখ করার মত কোনো প্রকার ভোগান্তি পোহাতে হয়নি   এবছর। বিগত বছর গুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী সমাধান করা হয়েছিল যাতে ঈদ যাত্রা হয় নির্বিঘ্নে এবং স্বস্তিদায়ক।

এবার ঈদে দেশের মহাসড়কের অবস্থা ছিল বেশ ভালো। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক গুলো চার লেনে উন্নীত করার ফলে যাত্রীবাহী পরিবহন যাতায়াতে কোনো সমস্যা হয়নি । ঈদ উপলক্ষে পুনরায় ঠিক করা হয়েছিল মহাসড়ক গুলো। ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের আসা যাওয়ার সুবিধার্থে ১২ জুন চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন উন্মুক্ত করা দেয়া  হয়েছিল। ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাতে মহাসড়কে না থাকে এজন্য তৎপর ছিল  ভ্রাম্যমান আদালত।

ঈদ উপলক্ষে যারা রাত্রিকালীন যাত্রা করেন তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাবার পথে পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, বিশেষ আয়োজন করে অতিরিক্ত জনবল দেয়া হয়েছে । সমন্বিতভাবে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, রিজার্ভ পুলিশ সবাই মিলে ব্যবস্থা নিয়েছে । ফলশ্রুতিতে যাত্রাপথে এর সুফল ভোগ করেছে যাত্রীরা।

ঈদে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিরুদ্ধেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর ছিল। ঈদের আগে বেশ কিছু গ্যাং ধরা পরে। এছাড়া মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান থাকতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয় সচেতনামূলক ব্যবস্থা। মহাসড়কগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা হাইওয়ে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের টহল থাকায় যাত্রাপথে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

যেহেতু এবারের ঈদ অনেকটা দুর্যোগপ্রবণ মৌসুমে হয়েছিল  তাই  বাড়তি নজর ছিল  নৌপথেও। রমজানের শেষ ১০ দিনে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো প্রায় ২০ লাখ মানুষকে বহনে ২০৯টি লঞ্চ নিয়োজিত ছিল । বিভিন্ন রুটের ৫টি নতুন বিশালাকৃতির লঞ্চ ঈদ উপলক্ষে নতুন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে। অপরদিকে ২০৪টি লঞ্চের মধ্যে যেগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো সেগুলোর ত্রুটি  সারিয়ে ফের চলাচল উপযোগী করা হয়েছিল। গত ৫ জুন থেকে ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলমুখী প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে এসব নৌযান। পরবর্তীতে ঈদের পর আবার ঢাকামুখী এসব মানুষকে নির্বিঘ্নে রাজধানীতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে এসব নৌযানগুলো।

সড়কপথ ও নৌপথের মত ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলপথেও বিশেষ নজর দিয়েছিলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।  এবার ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সাত জোড়া ট্রেন দেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেলপথে চাঁদপুর স্পেশাল-১ ও চাঁদপুর স্পেশাল-২, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রেলপথে রাজশাহী স্পেশাল, পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর রেলপথে পার্বতীপুর স্পেশাল। এই পাঁচটি স্পেশাল ট্রেন ঈদের আগে ১৩ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যাত্রী বহন করেছে। এছাড়া জনসাধারণের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঈদের দিন চালু ছিল বাকি দুটি স্পেশাল ট্রেন। ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে চলাচল করেছে  শোলাকিয়া স্পেশাল–১ ও ২ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চালু ছিল  শোলাকিয়া স্পেশাল–২।

পরবর্তীতে আবার ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি এই স্পেশাল ট্রেন গুলো নির্বিঘ্নে যাত্রী পরিবহন করে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। বিভিন্ন রেলষ্টেশনে সরোজমিনে ঘুরে যাত্রীদের চোখে মুখে স্বস্তির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কল্যাণে এবং সংশ্লিষ্টদের সার্বিক প্রচেষ্টায় নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরে এবং ঈদ পালন শেষে আবারো স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফেরত আসতে পেরে সাধারণ মানুষ খুশি। তাই এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।