আজকের বার্তা | logo

৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৪ই আগস্ট, ২০১৮ ইং

সেশন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত : মে ৩১, ২০১৮, ০২:৩১

সেশন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত হতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৮২০ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে দ্বাদশ শেণিতে উন্নীত করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। অপরদিকে, ঝালকাঠি সরকারি কলেজে একই খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। ছাত্রীদের অভিযোগে জানা যায়, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশ শেণিতে ভর্তির সময় ছাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৮২০ টাকা করে ভর্তি ফি নিয়েছে। দ্বাদশ শেণিতে উন্নীত হওয়ার সময়  বে-সরকারি কলেজে ফি নেওয়া না হলেও ঝলকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের ২৮২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উপবৃত্তিপ্রাপ্তদের ১০০ টাকা কম ধরা হয়েছে। ছাত্রীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কি কারণে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানায়, সেশন ফি হিসেবে পুনরায় দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি, বার্ষিক ক্রীড়া, মিলাদ মাহফিল, রেডক্রিসেন্ট, পরিবহনসহ অন্যান্য খাতে ২৮২০ টাকা ফি দিতে হবে। এ ধরনের ফি নির্ধারণ করায় ক্ষুব্ধ কলেজের গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এতো টাকা জোগাড় করাও অনেক অভিভাবকের কাছে কঠিন হয়ে পড়েছে। টাকা দিতে না পারলে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন আল্টিমেটামে বিষন্নতায় ভুগছেন একাদশ শ্রেণির ৫৪২ শিক্ষার্থীর অধিকাংশই। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন ফি দিতে না পারা শিক্ষার্থীরা। কলেজে গিয়ে দেখা যায়, নোটিশ বোর্ডে কর্তৃপক্ষ দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দিয়েছে। এতে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে একাদশ বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখায় নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে কলেজে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও বিশেষ বিবেচনায় আগামী ৩ জুন পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০-১২ জন শিক্ষার্থী জানান, এক বছর আগে কলেজে ভর্তির সময় ২৮২০ টাকা নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এখন আবার দ্বাদশ শ্রেণিতে সেশন ফিসহ নানা অজুহাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কোনো ফি অন্য সরকারি কলেজ তো দূরের কথা, বেসরকারি কলেজেও নেই। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ২৮২০ টাকা ফি চাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এটা কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত গবির ও মেধাবী এক শিক্ষার্থী। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “আমরা বিষয়টি জানাতে জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম, তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ খবর কলেজের শিক্ষকরা জানার পরে শিক্ষকরা হন্যে হয়ে খুঁজছেন, কোন্ কোন্ শিক্ষার্থী ডিসি অফিসে গিয়েছিলো। শুনেছি যারা ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করেছে, তাদের না কি সন্ধান পেলে নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করানো হবে। আমরা এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছি।” অপর এক শিক্ষার্থী জানান, “ঝালকাঠি সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত হতে সেশন চার্জ নির্ধারণ করেছে ১৮০০ টাকা। কিন্তু আমাদের কলেজে ১ হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন খাতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা, অথচ আমাদের কলেজে কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই।” শহরের বাঁশপট্টি এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিন দিন বাড়ছে। তার মধ্যে আমাদের মত গরিব পরিবারের সন্তানদের কলেজে বাড়তি টাকা দেওয়া মোটেও সম্ভব নয়। সন্তানদের ওপর এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হলে, ওদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।” এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর খান বলেন, কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে না। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে। গত বছর নেয়া হয়েছিল ২ হাজার ১০০ টাকা। এ বছর একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রী প্রতি তিনশ টাকা পরিবহন ফি এবং অত্যাবশ্যকীয় খাতে ৭০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এ খাতে গত বছর ছিল ৩৫০ টাকা। তিনি আরও বলেন, সরকারি মহিলা কলেজে কোনো পরিবহন নেই। পরিবহন খাতের টাকা দিয়ে কলেজের জন্য একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করা হবে। আর সেশন ফি সরাসরি ব্যাংকে জমা হচ্ছে যার কারণে তা তসরুফের কোনো সম্ভাবনা নেই।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।