আজকের বার্তা | logo

৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

মুলাদীতে আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ২জন ডাক্তার

প্রকাশিত : মে ০৬, ২০১৮, ০০:১১

মুলাদীতে আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ২জন ডাক্তার

মুলাদী প্রতিনিধি ॥ মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ার বদলে কমে গেছে। উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় মুলাদী হাসপাতালে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ২ জন। মুলাদী উপজেলার মানুষ ছাড়াও পাশ্ববর্তী হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাটের বিশাল একাংশের মানুষ মুলাদী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসলেও তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২৮ জন ডাক্তারের মধ্যে ২৪টি পদ শূণ্য থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে চিকিৎসা সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা তার দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং আরেক জন ডাক্তার অনিয়মিত থাকায় দুইজন ডাক্তারই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালে ২৪ জন নার্সের স্থলে ১৩ জন নার্স ভর্তিকৃত রোগীদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে স্টোর কিপার, পরিসংখ্যানবিদ, এক্সরে টেকনেশিয়ান, ল্যাব টেকনেশিয়ান, সিকিউরিটি গার্ড, বাবুর্চিসহ বেশ কয়েকটি পদে লোক না থাকায় হাসপাতালে বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালে প্যাথলজি ল্যাবসহ সকল প্রকার ডায়াগনষ্টিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রোগীরা বাধ্য হয়েই বাইরে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা করাচ্ছেন। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায় ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুলাদী হাসপাতালটি ২০১৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণের ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়। কিন্তু ৫০ শয্যা হাসপাতালের ২৮ জন ডাক্তারের স্থলে কাগজ-কলমে ৬ জন ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসা দিতে পারছেন ২জন। কাগজ-কলমের ৬জন ডাক্তারের মধ্যে ডাঃ প্রসিনজিৎ সাহা শুভ প্রায় ৩ মাস আগে ছুটি গিয়ে আর হাসপাতালে যোগদান করেননি। তিনি কোথায় আছেন তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানেন না বলে দাবী করেন। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে ডাঃ আফজাল করিম বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ডেপুটেশনে যান। তার ডেপুটেশন শেষ না হওয়ায় মুলাদী হাসপাতালে যোগদান করছেন না। গত ৫ মে সকালে ডাঃ শাকিল খান যোগদান করলেও তিনি কতদিন থাকবেন তা নিয়ে রোগীরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। শুধু মাত্র ডাঃ মেহেদী হাসান খান এবং কনসালটেন্ট ডাঃ সুব্রত সাহা নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সাইয়েদুর রহমান জানান ২ জন ডাক্তার দিয়ে মুলাদী, হিজলা ও কাজিরহাট এলাকার প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। কমপক্ষে ১৫/১৬ জন ডাক্তার থাকলে মানুষকে কিছুটা সেবা দেওয়ায় যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। অপরদিকে উপজেলার ২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে কোনমতে চলছে ওইসব কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা। সেখানেও স্বাস্থ্য সহকারীরা বেশিভাগ সময়ই অনুপস্থিত থাকেন বলে রোগীরা অভিযোগ করেছেন। সরকার স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার জন্য কমিউনিটি কিনিক স্থাপন করলেও সেখানে মিলছেনা চিকিৎসা সেবা। কমিউনিটি কিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারগণ কোন দিন আসবেন তা জানে না কেই। এসব কমিউনিটি কিনিকের ঔষধ কোথায় যায়? এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও উত্তর মিলছে না। উপজেলাবাসী ন্যূনতম চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালে ডাক্তার বৃদ্ধি এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি কিনিকগুলো সচল করার দাবী জানিয়েছেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।