আজকের বার্তা | logo

১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

দুর্যোগ আতংকে বরিশালবাসী: কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে এক মাসে নিহত-৮

প্রকাশিত : মে ০৯, ২০১৮, ০০:৫৫

দুর্যোগ আতংকে বরিশালবাসী: কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে এক মাসে নিহত-৮

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাতের মত দুর্যোগের আতংক বিরাজ করছে বরিশালের সাধারণ মানুষের মাঝে। একের পর এক ঘটছে দুর্যোগ। গত এক মাসে বরিশালের ৪ থেকে ৫ বার কালবৈশাখী বয়ে গেছে। আবার একটু বৃষ্টিতেই বজ্রপাত ও শীলাবৃষ্টি ঘটছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এতে প্রাণ ঝরছে জেলে, কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের। বরিশালে বজ্রপাত এবং কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে গত এক মাসে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত অর্ধশত। গেল চৈত্র মাসের মাঝামাঝি বরিশালে এ বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটে বেশ কয়েকজনের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বিচারে গাছপালা নিধন, উঁচু আকারের গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া সর্বোপরি অসেচতনতার কারণে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার আগৈলঝাড়ায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে শ্রমিক খোকন প্রামাণিক (২৮) এর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় আহত হন অপর তিন শ্রমিক। ৪ মে বাউফলের নওমালা ইউনিয়নের পূর্ব নওমালা গ্রামে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান সরদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার দিন বিকালে হাবিবুর বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন। এসময় তার গরুটিও মারা যায়। গত সপ্তাহে হিজলায় বজ্রপাতে নিহত হন দুই জন। ১৭ এপ্রিল মুলাদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের তা-বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের সময় গাছ চাপায় রাশিদা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হন, আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। ঝড়ের সময় পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের জালাল মজুমদারের স্ত্রী নিহত রাশিদা গোয়াল ঘরে গরু বাধার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ৭ এপ্রিল ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের খুলনা গ্রামে বজ্রাঘাতে সাগরিকা দেবনাথ (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যু ঘটে। সকালে ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে বাড়ির পাশের বাগানে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা যান তিনি। গত ৩১ মার্চ বরগুনার তালতলী উপজেলার মরানিদ্রা গ্রামে সজল (২৩) নামের এক জেলে বজ্রপাতে নিহত হন। সকালে বাড়ি থেকে ট্রলার ঘাটে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের আঘাতে সজলের শরীর ঝলসে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। গত মাসের শেষে দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে নিহত হয় একজন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন দুর্যোগের কারণে আকাশে মেঘ দেখলেই গ্রামগঞ্জের মানুষ মাছ ধরতে কিংবা কৃষি কাজে নামছেন না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা আতংকে থাকছে সারাক্ষণ। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বছরের এ সময় বজ্রঝড় স্বাভাবিক ঘটনা। তাই আকাশে কালো মেঘ ও বজ্রপাত দেখলে অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা উচিত বলে অভিমত দিয়েছে তারা। জানতে চাইলে বিএম কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেখা সুলতানা বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বর্তমানে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ মৃত্যুর হার শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে আশংকাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। সাধারণত অসচেতনার জন্যই মানুষ বজ্রপাতের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। তিনি বলেন, অনাকাঙ্খিত এ দুর্ঘটনারোধে স্কুল এবং বাড়িতে অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার করা যেতে পারে। পাঠ্য বইয়ে এ বিষয়ে সহশিক্ষা অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তিগত ও সমন্বিত উদ্যোগে অধিকহারে গাছ লাগানো হলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।