আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

কামরুল একটু অন্য রকম

প্রকাশিত : মে ০২, ২০১৮, ০০:৩১

কামরুল একটু অন্য রকম

অনলাইন সংরক্ষণ  // গতি, লাইন, লেন্থ, সুইং আর আক্রমণাত্মক মনোভাব-এই মিলেই তো পেস বোলার। কারও কারও তূণে তির হয়তো আরও বেশি। জানতে হয় নিজের শক্তি-সামর্থ্যের সঙ্গে খামতিগুলোও। অনেকে হয়তো জানেনও। কিন্তু সেগুলো জনসমক্ষে স্বীকারের সাহস কজনেরই বা থাকে? জাতীয় দলে অনিয়মিত হতেই পারেন, তবু এই সাহসটুকু হয়তো অন্যদের চেয়ে আলাদা করে দেবে কামরুল ইসলামকে।

একটা সময় আদর্শ টেস্ট পেসার হিসেবেই ভাবা হচ্ছিল তাঁকে। গত বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের সবুজ উইকেটে যা করেছিলেন, সেটা দুই ম্যাচে সাকল্যে ৬ উইকেটের পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি কিছু। বাউন্সারে টালমাটাল করে দিয়েছিলেন কিউই ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু এরপর আর যেন খুঁজে পাওয়া গেল না সেই কামরুলকে। হায়দরাবাদে ভারতের বিপক্ষে টেস্টের পর বাদ পড়লেন। সেই তাঁর শেষ টেস্ট খেলা।

মাঝের সময়টাতে নিজের ভেতর ডুব দিয়েছিলেন কামরুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে লম্বা এই বিরতিতে খুঁজেছেন নিজের ঘাটতিগুলো। আত্মসমালোচনার মতো করে সেগুলোকেই কাল মিরপুরে যেন মেলে দিলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে, ‘আমার ঘাটতি ছিল নিজে থেকে দায়িত্ব নেওয়ায়, আমার ঘাটতি ছিল পরিকল্পনায়, চিন্তা-ভাবনায়। এই এক-দেড় বছরে অনেক কিছুই শিখেছি। শিখেছি আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কী কী দরকার হয়।’

শুধু ভাবনা-চিন্তায় পরিবর্তনই নয়, বোলিং নিয়েও কাজ করেছেন প্রিমিয়ার লিগের ফাঁকে ফাঁকে, ‘চম্পকা রমানায়েকে ও কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের মাঝেও বেশ কিছুদিন কাজ করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল, ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল করে যাওয়া। কবজির ব্যবহার নিয়ে কিছু কাজ করেছি। আমরা তো সব সময় ফ্ল্যাট উইকেটে খেলি, তখন উইকেটে কোনো সুইং থাকে না। সুইংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলে থাকবেন কি না জানেন না। তবু নিজেকে তৈরি রাখছেন, যদি সুযোগ আসে। ২০১১ সালে ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে এসেছেন কামরুল। কন্ডিশন আর উইকেট তাই একেবারে অচেনা নয়। ওই কন্ডিশনে একজন পেসারের ভূমিকাটা কী হওয়া উচিত, সেটাও পরিষ্কার তাঁর কাছে, ‘ওখানে খুব বেশি ঘাস থাকবে না, যেমন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে থাকে। শুধু বল করার জন্য বল করা নয়, উইকেট নেওয়ার জন্য বল করতে হবে। আমাদের আরও চৌকস হতে হবে। শুধু খেলার জন্য না খেলে, নিজের দায়িত্বটা পালন করতে হবে। একটা জুটি হয়ে গেলে, পেসারদের আনা হয় সেটা ভাঙার জন্য। আমাকে বুঝতে হবে কেন আমাকে আনা হয়েছে।’

কে বলবে, কথাগুলো যিনি বলছেন, তাঁর মাত্র ৫ টেস্টের অভিজ্ঞতা! কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিকেও যেমন দেখছেন অন্যভাবে। মুখে না বললেও চাপা হা-হুতাশ তো থাকে অনেকেরই, কিন্তু এখানেও আলাদা কামরুল, ‘যে বেতন পেতাম আমরা, সেটার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না। প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল, জাতীয় লিগ, বিসিএল আছে। তাই ওটা নিয়ে অত চিন্তা করছি না। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তিটা থাকলে আত্মবিশ্বাসী থাকি। একটা জিনিস হারালে সেটা ফিরে পাওয়ার ক্ষুধাটা থাকে। আমি আগের চেয়ে আরও ভালো করে আবার সেটা অর্জন করব।’

সেই অর্জনের জন্য আপাতত অপেক্ষা আর পারফরম্যান্স ছাড়া তো কিছু করার নেই কামরুলের। সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপট ধরে রাখা। এবারের ঢাকা লিগ বা বিসিএলে সেটা অবশ্য দেখাতে পারেননি কামরুল। বিসিএলে নিয়েছেন ১২ উইকেট, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১০ টি। সেরা বোলিং যথাক্রমে ৯৩ রানে ৪ উইকেট এবং ৩৫ রানে ৩ উইকেট। কাজী অনীক-রবিউল হকের মতো তরুণেরাই নজর কেড়েছেন বেশি। ইয়াসিন আরাফাত তো ৪০ রানেই নিয়ে নিলেন ৮ উইকেট। তারুণ্যের জোয়ারে চাপ অনুভব করছেন?

কামরুলের কথা শুনে সে রকম কিছু মনে হলো না, ‘আমরা আট-নয় বছর ধরে আমাদের জায়গাটা ধরে আছি। নতুন একটা ছেলেকেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে, মোস্তাফিজের মতো। আসলে ও (মোস্তাফিজ) সবার চেয়ে আলাদা। তিন-চার বছর ধরে সবখানেই ভালো করে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এ রকম ভালো খেলাটা ধরে রাখতে হবে তরুণদের। নতুন যারা আসছে, তারাও লম্বা সময় ধরে খেলবে। তবে আমার মনে হয় না আমরা যাঁরা ৮-৯ বছর খেলছি, তাঁদের জন্য এটা কোনো চাপ।’

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।