আজকের বার্তা | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

লালমোহন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের হয়রানি

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৫, ২০১৮, ০১:৩১

লালমোহন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের হয়রানি

এসবি মিলন, লালমোহন প্রতিনিধি ॥ ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রোগী গেলে সেখানে পদে পদে হয়রানি করা হয় বলে জানান একধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা। ভুক্তভোগীরা জানান, ইমার্জেন্সিতে বেশিরভাগ সময় ডাক্তার থাকেন না। সেখানে অবস্থানকারী স্বাস্থ্য সহকারী ও চতুর্থ শ্রেণির স্টাফরা রোগীদের সার্বিক সহায়তা না করে অসদুপায় অবলম্বনে ব্যস্ত থাকেন। চাহিদা মাফিক টার্গেট পূরণ না হলে অপেক্ষাকৃত বেশি অসুস্থ রোগীদের ভর্তির পরিবর্তে দায়সারা চিকিৎসা দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করেন ইমার্জেন্সিতে অবস্থানকারী স্টাফরা। এ ক্ষেত্রে ঝুঁিকপূর্ণ রোগীরাও অনেক সময় রেহাই পান না। অভিযোগ উঠেছে, কখনও কখনও রোগীর স্বজনদের সাথে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে ঠাট্টা মসকরা করা হয়। উপায় না পেয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভে-দু:খে চলে যেতে বাধ্য হন। জানা গেছে,অনেক সময় ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা দালাল টাইপের ছেলে-পেলেরাও ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। ফলে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনরা এদের কাছে এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের প্রধান ডাক্তার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি হাসপাতালে নতুন এসেছি। সব ঠিক করে ফেলব। একটু সময় দিন।’ সূত্র জানায়, ইমার্জেন্সি বিভাগের এরকম ধারাবাহিক হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হন উপজেলার  কচুয়াখালী গ্রামের বশিরের স্ত্রী রেখা বেগম (৩৩)। ৩ মাসের প্রেগনেন্সি অবস্থায় জরায়ু দিয়ে রক্ত ক্ষরণ শুরু হলে গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইমার্জেন্সিতে যান। সেখানে রক্তক্ষরণ অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে ভর্তি দেয়া হলেও রাত ১০টা পর্যন্ত তার কোনো চিকিৎসা শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ।

রেখার স্বজন নাজমা বেগম জানান, সিটে ওঠানোর পর দায়িত্বরত নার্সরা চরম খারাপ আচরণ করেন রেখা ও তার স্বজনদের সাথে। অনেক কাকুতি মিনতির পর স্যালাইন লাগানো হয়। কিন্তু রেখার রক্তক্ষরণের কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। এভাবে যায় সারারাত। পরদিন ১৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে রেখার রক্ত লাগবে বলে জানানো হয়। রেখাকে নেয়া হয় হাসপাতাল সংলগ্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখান থেকে পুনরায় হাসপাতালে নেয়া হলেও তাকে আর সিটে ওঠানো হয়নি। রেখা এক পর্যায়ে থেকে যান হাসপাতালের বারান্দায়। পরে রক্ত সংগ্রহ করা হলেও রক্ত প্রয়োগ করা হয়নি রেখার শরীরে। এভাবে অবজ্ঞা আর অবহেলায় রেখার জীবন যখন সংকটাপন্ন তখন বেলা দেড়টার দিকে তড়িঘড়ি করে রক্ত প্রয়োগ করে রেখাকে কালবৈশাখীর ঝড় চলা অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে রেফার করা হয়। ঝড়ের মধ্যে বরিশাল যেতে না পেরে সন্ধ্যায় রেখাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। রেখার স্বজন নাজমা বেগম আরো জানান, ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরদিন রেফার পর্যন্ত ইমার্জেন্সি বিভাগে ইসমাইল, কালাম ও রিয়াজ নামের এক ফার্মেসির দালাল অসহনীয় আচরণ করেছেন। রেখার অবস্থা দেখে তার স্বামী বশির অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটে পড়লে তা নিয়েও সেবার পরিবর্তে ঠাট্টা করেন তারা। এমনকি গাইনি ডাক্তার বিনয় কৃষ্ণ তাকে দিয়ে রেখার স্বামীকে মাটি থেকে গাড়িতে ওঠাতে বাধ্য করেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের পরামর্শক ডা: বিনয় কৃষ্ণ বলেন, ‘এই রোগীটি প্রথমে ৯ এপ্রিল হাসপাতালে এসেছিলেন। তাকে বিভিন্ন পরামর্শ ও চেকআপ দেয়া হয়েছিল। তিনি আমাদের পরামর্শ মত চিকিৎসা নেন নি। যার ফলে আরো অসুস্থ হয়ে ১৬ তারিখ সন্ধ্যায় আবার হাসপাতালে আসেন। সেময় আমার ডিউটি ছিল না। পর দিন সকালে আবার আমার ডিউটি শুরু হলে রোগীটির সংকটাপন্ন অবস্থার খবর পাই এবং দ্রুত বরিশাল রেফার করি। তার অবস্থা এতই খারাপ ছিলো যে লালমোহন হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা সম্ভব ছিল না।’

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।