আজকের বার্তা | logo

৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারবে রাশিয়া?

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৩, ২০১৮, ১৫:২৬

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারবে রাশিয়া?

অনলাইন সংরক্ষণ ।।।। সিরিয়া যুদ্ধ হঠাৎ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এখন এই রণক্ষেত্রে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মুখোমুখি। সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হবে বলে শাসিয়েছে রাশিয়া। এমন প্রেক্ষাপটে একটা প্রশ্ন সামনে এসেই যায়, সিরিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে রাশিয়া কি তা ঠেকিয়ে দিতে পারবে?

এক বছর আগে, ২০১৭ সালের এপ্রিলে সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান, সরঞ্জামসহ বিমানঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। আসাদ ভবিষ্যতে যাতে আর তাঁর নিজের জনগণের ওপর রাসায়নিক হামলা না চালান, সেই বার্তা দেওয়াই ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য।

এক বছরের মাথায় ফের আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহান্তে দেশটির পূর্ব গৌতার বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত দুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলা হয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। রাসায়নিক হামলার জন্য আসাদ সরকার ও তার মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে দামেস্ক ও মস্কো এই অভিযোগ নাকচ করেছে।

দুমার ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে। রাশিয়াও কম যায়নি। তারা বলেছে, সিরিয়ার দিকে মিসাইল এলে তা ভূপাতিত করা হবে।

সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলছে। পরাশক্তি, আঞ্চলিক শক্তিসহ বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণে সেখানকার যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। আসাদ সরকারের অনুরোধে ২০১৫ সালে সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন শুরু করে মিত্র দেশ রাশিয়া। উদ্দেশ্য, আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখা। এদিকে গৃহযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে সিরিয়ায় আইএস ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির একটা বড় অংশ তারা দখলে নেয়। এর জেরে সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আইএস-বিরোধী অভিযান শুরু হয়। সিরিয়ায় মার্কিন হস্তক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে দামেস্ক। তবে এই কথা আমলে না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ বহুপক্ষীয় বাহিনীর অভিযানে সিরিয়ায় এখন পতনের মুখে আইএস। এর মধ্যে দুমায় কথিত গ্যাস হামলার ঘটনা ঘটল। এখন পরিস্থিতি এমন যে, সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা পর্যন্ত করা হচ্ছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা হামলার বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতারসহ মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

ফ্রান্স বলছে, দুমায় আসাদ বাহিনীর গ্যাস হামলার ব্যাপারে তাদের কাছে প্রমাণ আছে। সিরিয়াকে তারা কড়া জবাব দেবে।

সিরিয়ায় হামলার পক্ষে মত দিয়েছে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জানিয়েছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের ভবিষ্যৎ ব্যবহার ঠেকাতে আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর সরকার একমত। এ বিষয়ে মিত্রদেশগুলোর যেকোনো পদক্ষেপে ভূমিকা রাখবে যুক্তরাজ্য।

সিরিয়ায় হামলা চালাতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত দুটি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও ডুবোজাহাজ প্রস্তুত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন নির্দেশের অপেক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ও সিরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ার দিকে কোনো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র এলে তা তারা ভূপাতিত করবে। শুধু তা-ই নয়, পাল্টা জবাবও দেওয়া হবে।

লেবাননে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থান গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সক্ষমতা রাশিয়ার আছে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল কাজ করছে।

রাশিয়া অনেক দিন ধরেই তার সমরাস্ত্র আধুনিকায়নে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষার প্রধান হুমকি রাশিয়া।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে নিউজউইক এক প্রতিবেদনে বলেছ, মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দেশটির অন্যান্য অগ্রসরমাণ অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। সাম্প্রতিককালে দেশটির এই তৎপরতা নতুন করে বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডগলাস ব্যারি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাশিয়ার আছে। কিন্তু সিরিয়ায় এই কাজটি করা তাদের জন্য সহজ হবে না।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে যেসব সামরিক ব্যবস্থা কাজ করতে সক্ষম, এর মধ্যে মিগ-৩১ ফক্সহৌন্ড ইন্টারসেপটর এয়ারক্র্যাফট, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এসএ-২১ ও এসএ-২২ অন্যতম।

রুশ সেনাদের উপস্থিতির অংশ হিসেবে সিরিয়ায় এসএ-২১ ও এসএ-২২ ব্যবস্থা মোতায়েন আছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডগলাস ব্যারির মতে, সিরিয়ায় রাশিয়ার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। এটাই তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।