আজকের বার্তা | logo

৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বোরো-ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষতি: জানা নেই কৃষি কর্মকর্তাদের

প্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০১৮, ১২:৫১

বোরো-ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষতি: জানা নেই কৃষি কর্মকর্তাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কালবৈশাখী ঝড়ে ও শীলা বৃষ্টিতে বরিশালে বোর-ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ ক্ষতির ফলে অনেক কৃষকের মাথায় ঋণের বোঝা চাপবে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে এই ক্ষয় ক্ষতির কোনো হিসেব নেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে। তারা জানিয়েছে, কোথাও কোনো শীলা বৃষ্টি হয়নি। বরং বৃষ্টি ও শীলা বৃষ্টি ফসলের জন্য জরুরি। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো-ইরি মৌসুমে উফশী আউশ বরিশাল জেলার ৭৩৭ হেক্টর ও ভোলায় ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় আউশ বরিশাল জেলায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে, পিরোজপুরে ১০০ হেক্টর ও ভোলায় ১১ হাজার ৬৮০ হেক্টরে উৎপাদন হচ্ছে। যা কোনো কোনো স্থানে কর্তনও শুরু হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ উইনিয়নের আটহাজার ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দাস জানান, তিনি শীলা বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে শীলা বৃষ্টি পড়ে প্রায় ২৫ হেক্টরের বোরো-ইরির ক্ষতি হয়েছে। পাকা ধান শুয়ে পড়েছে। কাঁচা ধানেরও ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে সেখানকার ব্লক ম্যানেজার মো: কবির খান জানান, তাদের প্রায় ৫শ বিঘা জমির ফসল শীলা বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই এলাকার আরেক ব্লক ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা জানান, শীলা বৃষ্টি তাদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। শুধু ধানই নয় তাদের অন্যান্য ফসলেও ক্ষতি করেছে। সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কৃষক মো: হারুন বলেছেন, তাদের আশা ভরশার ফসল ঝড়-হাওয়া ও শীলা বৃষ্টি নষ্ট করে দিয়েছে। এখন কি করবেন বুঝতে পারছেন না। বরিশাল সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াসমিন জানান, শায়েস্তাবাদ ও চরমোনাই এলাকায় শীলা বৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে না পারায় রিপোর্ট এখনও দেয়া যায়নি। একইভাবে জেলার গৌরনদীতেও শীলা বৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সেখানেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যেসব স্থানে ধান পেকে এসেছে সেখানে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি। সেখানকার কৃষক আলাউদ্দিন খাঁ জানান, তার জমির ধান সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। ঋণ করে জমির চাষ করিয়েছেন। কিন্তু এখন কি করে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন বুঝতে পারছেন না। তবে উপজেলা কৃষি অফিস সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারেনি। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ৬ জেলার কোথাও শীলা বৃষ্টি হয়নি। তা ছাড়া কোথাও কোনো ক্ষয় ক্ষতির বিষয়েও তাদের জানা নেই। বরং এ মৌসুমে বৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া শীলা বৃষ্টিতেও প্রচুর পরিমাণের নাইট্রোজেন রয়েছে। তরমুজ প্রায় সব স্থানেই উঠে গেছে। সেক্ষেত্রে শীলা বৃষ্টিতে তেমন কোনো ক্ষতি নেই। বরং প্রচুর বৃষ্টির প্রয়োজন। এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণের পরিচালক ওমর আলী শেখ বলেন, ‘আমি গত তিনদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছি। যার কারণে বরিশালের কি অবস্থা তা সঠিক বলতে পারছি না। তবে জেলার ডিডি সাহেবরা ভাল বলতে পারবেন।’ এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার উপ পরিচালক ফরিদা শিকারী জানান, এই মৌসুমে ঝড়-বাতাস হবেই। তাতে ধান শুয়ে পড়ে একটু ক্ষতি হতে পারে। তবে তা সামান্য। কৃষকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন একটু পাকলেই ধান কেটে নেয়া হয়। তাতে করে ক্ষতির পরিমাণ কমবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।