আজকের বার্তা | logo

৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বাউফলে বার্লি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৩, ২০১৮, ০১:২০

বাউফলে বার্লি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

বাউফল প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বার্লি চাষের সফলতা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। এ বছরই প্রথম পরীামূলকভাবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বাউফলে বার্লির আবাদে প্রাপ্ত সফলতায় কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বাউফলের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, ‘চলতি বছর প্রথমবারের মত বাউফল উপজেলার কেশবপুর, দাশপাড়া, বগা এবং কাছিপাড়াতে পরীামূলকভাবে বার্লির কয়েকটি প্রদর্শনী প্লটে আমরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। আমরা সেখানে হেক্টর প্রতি দুই থেকে আড়াই টন পর্যন্ত ফলন পেয়েছি। সাধারণত রবি মৌসুমে আমাদের অঞ্চলে মুগ, বোরো এবং গমের অধিক আবাদ হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মুগ চাষ এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। আবার অন্যদিকে বোরো চাষে সার, কীটনাশক এবং পানি সেচের পাশাপাশি পরিচর্যা প্রয়োজন। পান্তরে গম চাষের প্রধান শত্রু হচ্ছে ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ। এসব বিষয় বিবেচনায় বার্লি চাষ হচ্ছে আদর্শ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে আমাদের কৃষিকে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত কৃষি থেকে কৃষকদের নির্ভরতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণে বার্লি চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষকদের সম্পৃক্ত করা গেলে তা উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিতে নতুনমাত্রা যোগ করবে।’ বার্লির পুষ্টিগুণ এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে কৃষিবিদ সরোয়ার জামান বলেন, ‘আমাদের দেশে যে পরিমাণ বার্লির চাহিদা রয়েছে সেই পরিমাণ উৎপাদন হয় না। যার ফলে আমাদেরকে বিপুল পরিমাণ বার্লি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বার্লি চাষ বাড়ানো সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বার্লি নির্ভর অনেক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। পান্তরে বার্লি অনেক উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি শষ্য। বার্লির আটা দিয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরি করা হয় যেমন রুটি, বিস্কুট, শিশুখাদ্য, স্যুপ এমনকি রোগীর পথ্য হিসেবেও বার্লির চাহিদা ব্যাপক।’ উপকূলীয় অঞ্চলে বার্লি চাষের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেন, উপকূলীয় চরাঞ্চলের অনুর্বর জমিতে খুবই স্বল্প খরচে বার্লির চাষাবাদ করা সম্ভব। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে রবি মৌসুমে যেখানে অন্য ফসলের চাষাবাদ ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে বার্লির চাষাবাদ সফলভাবে করা যেতে পারে। বার্লি যথেষ্ট লবণাক্ততা সহনশীল একটি ফসল। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে (বাংলা মধ্য কার্তিক থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ) বার্লির বীজ রোপণের জন্য আদর্শ। বার্লি চাষে বাড়তি সার এবং কীটনাশকের প্রয়োজন নেই। নেই বীজতলা তৈরিরও ঝামেলা। সব মিলিয়ে বার্লি একটি লাভজনক ফসল। হেক্টর প্রতি বার্লি আবাদে সর্বোচ্চ ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে আড়াই থেকে ৩ টন পর্যন্ত বার্লি উৎপাদন করা সম্ভব। অগ্রহায়ণ মাসে রোপা আমন ধান কাটার পরে ওই জমিতে বার্লির আবাদ করা যায়। চৈত্র মাসে বার্লি ফসল কাটার পরে আবার ওই জমিতে আউশ ধানের আবাদ হতে পারে। ফলে বর্তমানে প্রচলিত এক ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।