আজকের বার্তা | logo

৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ: এশিয়ার সবচেয়ে ‘চমকপ্রদ এবং অপ্রত্যাশিত’ সাফল্য(ভিডিও)

প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৮, ২১:০৭

বাংলাদেশ: এশিয়ার সবচেয়ে ‘চমকপ্রদ এবং অপ্রত্যাশিত’ সাফল্য(ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী আজ উন্নয়নের যেকোন আলোচনায় বাংলাদেশ প্যারাডক্স একটা আলোচ্য বিষয়। স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ এমন সব ভয়াবহ ঘটনা-দুর্ঘটনার শিকার হয় যে অনেকের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল দেশটি টিকে থাকবে কিনা। হেনরি কিসিঞ্জার অভিহিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’টি কেমন করে উন্নয়ন ধরে রাখছে সেটিই হয়ে উঠেছে গবেষণার বিষয়।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক কৌশিক বসু সম্প্রতি ‘হোয়াই ইজ বাংলাদেশ বুমিং’ নামে একটি লেখায় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায় বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সবচেয়ে ‘চমকপ্রদ এবং অপ্রত্যাশিত’ সাফল্যের কাহিনীগুলোর একটি। তাঁর লেখাটি গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশ করেছে ‘প্রজেক্ট সিন্ডিকেট’ নামের একটি ওয়েবসাইট।

সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে একসময়ের দারিদ্র আর দুর্ভিক্ষপীড়িত এই দেশটি এখন শুধু পাকিস্তানকেই নয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকেও ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। কৌশিক বসুর মতে, মাত্র ১২ বছর আগে ২০০৬ সালেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এতটাই হতাশাচ্ছন্ন মনে হচ্ছিল যে, বাংলাদেশ হয়তো আর কখনই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু ‘২০০৬ সালের পর হতে পরবর্তী প্রতিটি বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল পাকিস্তানের চেয়ে মোটামুটি আড়াই শতাংশ বেশি। আর এ বছরতো এটি ভারতের প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

বাংলাদেশ কীভাবে এই অসাধারণ কাজটি করলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন কৌশিক বসু। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর কারও কাছে নেই, কারণ এ ধরনের ব্যাপক ঐতিহাসিক বিষয়ে সেটা থাকেও না। কিছু ‘ক্লু’ বা সূত্র খোঁজা যেতে পারে মাত্র। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পালাবদলের পেছনে বড় ভূমিকাটি পালন করেছে সামাজিক পরিবর্তন। বিশেষ করে সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারও নারী শিক্ষার প্রসার এবং সমাজে মেয়েদের ভূমিকা জোরালো করতে ব্যাপক ভূমিকা নিয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পালাবদলে কৌশিক বসু দ্বিতীয় যে কারণটির কথা উল্লেখ করছেন, সেটি গার্মেন্টস শিল্প। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ যে ভারতের তুলনায় গার্মেন্টস শিল্পে অনেক বেশি ভালো করেছে, এর পেছনে অনেক কারণ আছে। তবে একটি কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রম আইন। তাঁর মতে, ভারত এবং পাকিস্তানের যে শ্রম আইন, তা নানাভাবে এই দুই দেশের কারখানা মালিকদের শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে এসব দেশের কারখানাগুলো খুব বড় আকারে করা যায়নি, সেখানে বেশি সংখ্যায় শ্রমিকও নিয়োগ করা যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম বাড়াবাড়ি কোনো আইনের অনুপস্থিতি বড় বড় গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

কৌশিক বসু বলছেন, এখনো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কিন্তু কিছু ঝুঁকির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন, যা নিয়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের এখনই সচেতন হওয়া দরকার। তাঁর মতে, যখন কোনো দেশ অর্থনীতিতে ভালো করতে থাকে, তখন সেদেশে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য- এসবও বাড়তে থাকে। যদি এসবের রাশ টেনে ধরা না যায়, তা সমৃদ্ধির গতি থামিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও কোনো ব্যতিক্রম নয়।

তবে তাঁর মতে, এর চেয়েও বড় ঝুঁকি হলো বাংলাদেশে চিহ্নিত কিছু কট্টর ধর্মীয় এবং সামাজিক রক্ষণশীল শক্তির উপস্থিতি। ধর্মীয় উগ্রবাদ বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এরা প্রগতিশীল সামাজিক খাতে বাংলাদেশের যে বিনিয়োগ, তার বিপক্ষে। অবশ্য বর্তমান সরকারের সময়ে তার বিস্তার রোধ করার আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত আছে। এরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠলে বাংলাদেশকে আবার অনেক পেছনে নিয়ে যাবে। কিভাবে ইতিহাসে এরকম ঘটনা বহুবার ঘটেছে তার কিছু নজির তিনি টেনেছেন।

ভারতও এখন এই বিপদের মুখে পড়েছে বলে মনে করেন কৌশিক বসু। তিনি বলছেন, কয়েক বছর আগেও ‘সেকুলার গণতন্ত্র’ বলে পরিচিত ভারতের অর্থনীতি বাড়ছিল ৮ শতাংশ হারে। কিন্তু সেখানে হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এবং নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য এখন উচ্চ শিক্ষা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান গবেষণা- সবকিছুকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এসব উদাহরণ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে। যদি বাংলাদেশ এই ধর্মীয় মৌলবাদ রুখে দিতে পারে, তাঁর মতে, বাংলাদেশ হবে এশিয়ার এমন এক ‘সাফল্য কাহিনী’, যা দুই দশক আগেও ছিল অকল্পনীয়।

 

অর্থনীতিবিদরা লক্ষ্য করছেন বাংলাদেশ এ পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়নি। আমাদের অবস্থা গ্রিস, সাইপ্রাস, স্পেন বা ইতালির মতো তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশে জীবন ধারণ করা যায় অতি সহজে। সামান্য জীবনোপকরণ নিয়ে বাংলাদেশ এক ধরনের স্বাচ্ছন্দ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের হাসি আজ সবচেয়ে সুখী মানুষের হাসি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।