আজকের বার্তা | logo

৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বরিশালে রেণু পোনা পাচারকারীর মূল হোতা টুলুসহ আটক ২২ জনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৯, ২০১৮, ১৯:৪০

বরিশালে রেণু পোনা পাচারকারীর মূল হোতা টুলুসহ আটক ২২ জনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন সংরক্ষণ ॥ বরিশালে ট্রাক বোঝাই বাগদা চিংড়ির রেণুপোনা জব্দ করেছে র‌্যাব-৮। আজ সোমাবার সাকাল ৮ টার দিকে নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু (দপদপিয়া সেতু) থেকে এ চিড়ি রেণু পোনা জব্দ করা হয়। এ সময় বরিশাল দিয়ে রেণু পোনা পাচারকারীদের মূল হোতা টুলুসহ ২২ জনকে আটক করে র‌্যাব। আটক ২২ জনকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আটককৃত ৪ লাখ রেণু পোনার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। রেণু পোনাকে কীর্তনখোলা নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হুমায়ন কবির জানান-আটক ২২ জনের মধ্যে শ্রমিক ২০ জনকে ৩ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাক চালক ও ট্রাক মালিক টুলুকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়–ন ঃ বরিশালে পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার রেনু পোনা বাণিজ্য করা কে এই টুলু ?
বরিশাল বিভাগের পুলিশ, মৎস্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা টুলু ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা। প্রতিনিয়ত বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক প্রজাতির লখ লক্ষ মাছের রেনু পোনা পাচার করছে তারা। যার ফলে মৎস্য খাত নিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির মূখে পড়ছে সরকার।
সূত্র জানায়, রেনু পোনা পাচার কাজে টুলু বরিশাল নগীর এক রাজনৈতি নেতার নাম ব্যবহার করছেন। আর ওই রাজনৈতিক নেতার সেল্টার এনে দিচ্ছেন হারুন ও রনি নামের দুই ব্যাক্তি। হারুন ও রনি বরিশাল পোর্টরোড এলাকার এক প্রভাবশালী মৎস নেতার মাধ্যমে ওই রাজনৈতিক নেতার সেল্টার পেয়েছেন বলে জানাযায়। অপরদিকে বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাডা, মহিপুর, কুয়াকাটা ও আলীপুরের সকল প্রশাসন, সাংবাদিক ও রাজনৈতক ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেন দেলোয়ার নামের এক ব্যাক্তি। দেলোয়ারকে সবাই টুলুর ম্যানেজার বলে জানেন।
অবৈধ ভাবে রেনু পোনা পাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে টুলু বলেন, বিগত বছর গুলোতে রেনু পোনা পাচারের বিষয়ে আমি সরাসরি কাজ করছি। এবার আমি সরাসরি কাজ করছি না। (ৃ) ভাইর লোক রনি ও হারুন বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে রেনু পোনা ট্রাকে বহন করে গৌরনদী পর্যন্ত পৌছে দেয়। গৌরনদী থেকে আমি সেগুলো নিয়ে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় বিক্রয় করি। তবে রেনু পোনা মাছ বহনকারী ট্রাকগুলো আমার। আমি রনি ও হারুনের কাছ থেকে ট্রাকের ভাড়া নেই। তিনি আরও বলেন আপনাদের যদি কোন কথা থাকে তাহলে রনি ও হারুনের সাথে বলতে পারেন।
এ বিষয়ে বরিশাল নৌ-থানা পুলিশের ওসি বেল্লাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশির বাগ রেনু পোনা ডাঙ্গা দিয়ে যায়। আর ডাঙ্গার মাছ আটক করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তিনি আরও বলেন, মৎস কর্মকর্তারা যদি আমাদের নিয়ে অভিযান করেন তাহলে আমরা অভিযানে অংশ নিতে পারি। তাছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।
এ বিষয়ে কথা হয় বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র’র সাথে, তিনি বলেন, যারা এই ব্যবসা করে তারা খুব ধুরান্দার প্রকৃতির লোক। আমরা যখন অভিযান চালাই তারা তখন তাদের বৃহত সোর্সের মাধ্যমে যানতে পেরে রেনু পোনা পাচার কাজ বন্ধ রাখে। তবে তিনি বলেন, মৎস্য কর্মকর্তারা সর্বদাই রেনু পোনা পাচার বন্ধের জন্য কাজ করছেন, এবং অভিযান অব্যহত রেখেছেন। তারা কোষ্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ই অভিযান চালায় কিন্তু তাদের ধরতে পারেনা। মৎস্য কর্র্মতাদের ম্যানেজ করেই টুলু তার অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকতে পারে তবে মৎস্য অধীদপ্তর কোন ভাবেই ম্যানেজ হয়নি এবং হবেও না।
জানতে চাইলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন বলেন, এটি যে মৎস্য ভান্ডারের জন্য বিরাট হুমকি তা বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম উপায়ে (হ্যাচারি পদ্ধতি) চিংডি রেণু উৎপাদনকে উৎসাহিত করা দরকার।
উল্লেখ্য, প্রশাসনের চোখের সামনে বাগদা ও গলদা চিংডির পোনা ধরার নামে ভোলা গলাচিপা বরগুনাসহ দেশের দক্ষিণ উপকূলে প্রতিদিন মশারির জাল দিয়ে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লাখ মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার হুমকিতে পড়েছে। এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, পোনা সংগ্রহকারীরা একটি বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে ধ্বংস করছে ৩৮ প্রজাতির চিংডি ছাড়াও ছয় প্রজাতির অন্যান্য মাছ এবং ৫৬ প্রজাতির জুপ্লাংটনসহ ১০০ প্রজাতির জলজ প্রাণী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার উপকুলে চিংডি পোনা শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে দরিদ্র জেলেদের চিংডি ধরার কাজে উৎসাহিত করছে। পাথরঘাটার চরদুয়ানি মৎস্য উপকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৮টি ট্রাক গলদা ও বাগদা রেণু নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট যায়। বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাডা, মহিপুর, কুয়াকাটা ও আলীপুর মোকাম থেকে কমপক্ষে ১০টি ট্রাক এবং বরগুনা সদর থেকে দুটি ট্রাক বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় যায় টুলু নেতৃত্বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল পাথরঘাটার কয়েকজন পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাকভেদে ১৮ থেকে ৩০টি পাতিল বহন করা যায়। একেকটি পাতিলে ১০ হাজার করে পোনা বহন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ পোনা বহন করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই তিন পথে ৩০টি ট্রাকে গড়ে ৬০ লাখ পোনা পাচার হয়। এ ছাডা নদীপথে ট্রলারে করে পাচার হয় কমপক্ষে আরও ৪০ লাখ পোনা। বাগদা রেণুর প্রতি হাজার এক হাজার টাকায় কিনে মোকামে দেড় হাজার এবং গলদা পোনা দেড় হাজার টাকায় কিনে মোকামে দুই হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। ভোলা গলাচিপা বরিশাল সদর পাথরঘাটার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পাতিলপ্রতি, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও ক্যাডারদের মাসে এক লাখ টাকা, ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর মধ্যে কোষ্টগাট, নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ, ফিসারি, ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ, ফাঁরি পুলিশ , টহল পুলিশসহ জিরো থেকে উপর লেভেল সবাইকে মাসিক বিশ লাখ টাকা দিয়ে এসব ট্রাকে করে পোনা পাচার করা হয় বলে জানান একাধিক ব্যাবসায়ী।
সবাই যদি এভাবে টাকার কাছে নিজের দেশ কে বিক্রি করে তাহলে কে রক্ষা করবে দেশের সম্পদ তাই দেশের সম্পদ রক্ষার্থে সবাইকে এক হওয়ার আহব্বান জানান সচেতন জনগণ।
যে সকল নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে, যে সকল মৎস কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে টুলু। তাদের সকলের নাম প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশের জন্য কাজ চলছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।