আজকের বার্তা | logo

২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত কুয়াকাটা

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৭, ২০১৮, ২০:১১

পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত কুয়াকাটা

অনলাইন সংরক্ষণ  //// ছুটি দীর্ঘ হলেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায়। এটা কুয়াকাটার চিরাচরিত নিয়ম। আগামী এক সপ্তাহের ছুটিকে কেন্দ্র করে এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। তবে অন্য সময়ের ছুটির দিনগুলোর তুলনায় এবার পর্যটকের চাপ অনেক কম বলে কুয়াকাটার ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টির মতো আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। ছুটির এ দীর্ঘ সময়ে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিটি হোটেলই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে কিছু হোটেলের কক্ষ আগাম ভাড়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে বাকি হোটেলগুলোও বুক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে গরম বেশি থাকায় পর্যটকের চাপ কিছুটা কম বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জিরো পয়েন্ট, বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান, লেম্বুর চর, শুঁটকিপল্লি, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধমন্দির, রাখাইন মহিলা মার্কেটসহ আকর্ষণীয় সব পয়েন্টের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং মহিপুর থানা-পুলিশ এ জন্য কাজ করছে। বিশেষ দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের আগমনের কারণে খাবার হোটেল, চায়ের দোকান, শামুক-ঝিনুকের দোকানগুলো পর্যটক-দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যাতে অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারে, এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর রহমান আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

কুয়াকাটার একাধিক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কুয়াকাটার অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। পর্যটকেরা বেড়াতে এলে গাড়ি নিয়ে চলাচল করা দূরের কথা, হেঁটেও চলতে পারেন না। এখানকার অধিকাংশই কাঁচা রাস্তা। ধুলাবালিতে সবকিছু নষ্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া কুয়াকাটা সৈকতসহ অভ্যন্তরীণ সড়কপথে রাতের বেলা আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বহুদিন ধরে এ সমস্যার কথা পৌর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দুর্বল অবকাঠামোসহ নানান অব্যবস্থাপনার কারণে ছুটির বিশেষ দিনগুলোতে কুয়াকাটার প্রতি পর্যটকেরা বিমুখ হয়েছেন।

কুয়াকাটা উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মাত্র ২২ কিলোমিটার সড়কপথে তিনটি নদীতে ফেরি পারাপার ছিল একসময় চরম ভোগান্তির। সেখানে ফেরির পরিবর্তে সেতু হয়ে গেছে। এখন মাত্র ২৫ মিনিটে এ পথটুকু পার হওয়া যায়। তবে কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটায় যেতে এ অংশের সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।
এ প্রসঙ্গে রুম্মান ইমতিয়াজ পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্য বন্দর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের কথা উল্লেখ করেন। এর পুরো অংশই খানাখন্দে ভরা। এর সিলকোটসহ বালু উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ পথে চলাচল করতে গিয়ে কুয়াকাটায় আগন্তুকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কুয়াকাটার মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানের পর্যটনের স্বার্থে এ সড়কের মেরামত করে দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পর্যটকদের আগমনের কারণে কুয়াকাটা সৈকতসহ আশপাশের স্পটগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি। সৈকতে গোসল করতে নেমে কেউ যাতে বিপদে না পড়ে, এ জন্য ওয়াটার বাইকসহ পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার ২৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিল এ জন্য দরপত্র ডাকা হবে। পল্লী বিদ্যুতের অসহযোগিতার কারণে সৈকত এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে বিদ্যুৎ বাতি দেওয়াসহ বিদ্যুৎ–ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতি করা যাচ্ছে না। তবে এ সমস্যার যথাযথ সমাধানে আমরা অল্প দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।