আজকের বার্তা | logo

১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

দাদনের টাকার জন্য ভাই বোনকে শিকলে বেঁধে  অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০১৮, ২৩:৩০

দাদনের টাকার জন্য ভাই বোনকে শিকলে বেঁধে  অমানুষিক নির্যাতন

কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ উত্তাল সাগরে মাছ শিকারে যেতে না চাওয়া এবং দাদনের কথিত ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ১৯ বছরের তরুণ জেলে রাসেল মিরাকে ডেকে নিয়ে শিকলে বেঁধে রাখা হয়। ভাইকে বেঁধে রাখার খবরে ছোট বোন আট বছরের কেয়ামনি গিয়ে কান্নাজুড়ে দিলে তাকেও শিকলে বেঁধে রাখেন ট্রলার মালিক আলমাছ সরদার ও তার দুই সহযোগী বাবুল সরদার, নাসীর সরদার। দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুই মাসের মধ্যে দাবিকৃত টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করলেও দমেননি গোঁয়ার পরিচিত আলমাছ সরদার। প্রকাশ্যে বেধড়ক পেটানো হয় রাসেলের মা রেবেকা বেগমকে (৩২)। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে সাদা কাগজে সই রেখে দেন। চেতনা ফিরলে ক্ষত শরীর নিয়ে অবশেষে কলাপাড়া থানায় এসে রেবেকা জানালে পুলিশ গিয়ে রাসেল ও কেয়ামনিকে উদ্ধার করে। রেবেকা বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে নির্যাতনের অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন নিয়ে কাতরাচ্ছেন। লালুয়ার চারিপাড়া গ্রামের এ দরিদ্র পরিবারটি এখন আছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। দুই সন্তানসহ স্বামীকে নিয়ে চরম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছেন। বুধবার বিকেলের এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। কলাপাড়া থানা পুলিশও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। একই স্থানে, পাশাপাশি বাড়ি থাকায় উল্টো বাড়িঘরে থাকা এখন অনিরাপদ হয়ে গেছে এ পরিবারের জন্য। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে শুধু অঝোর ধারায় কান্না করছেন রেবেকা।

তিনি জানান, স্বামী রফিক মিয়া সোজা মানুষ। অভাবের তাড়নায় ঢাকায় পোশাক কর্মীর কাজ করতেন। স্বামী-সন্তান বাড়িতেই থাকতেন। পাঁচ মাস আগে ছেলে রাছেলকে তার অনুমতি ছাড়াই আলমাছ সরদারের ট্রলারে পাঁচ হাজার টাকার মাসিক বেতনে কাজে রাখেন। এরই মধ্যে বাড়িতে আসলে রেবেকাকে তার ছেলে বলে, ‘আমি আর ট্রলারে কাজে যামুনা, আমার ভয় লাগে।’ আলমাছ সরদারকে একথা বলায় তিনি বাড়িতে গিয়ে মারধর করে রাছেলকে ফের  কাজে নিয়ে যান। সর্বশেষ রাছেল বাড়িতে এসে আর যেতে চায়না। এরপরে ধরে নিয়ে তাদের বাড়িতে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালান। ভাইকে আনতে গেলে ছোট বোনকেও বেঁধে রাখেন। ছেলে-মেয়েকে কেন আটকে রেখেছে জানতে চাইলে দাদন বাবদ ১৬ হাজার টাকা পাবেন বলে রেবেকাকে  সালিস বৈঠকে যেতে বলা হয়। বৈঠক বসান আলমাছ সরদার নিজের মতো। রাছেলের কাছে টাকা দাবি করে তার মাকে সাদা কাগজে টিপ সই দিতে বলেন। রেবেকা জানান, কোন টাকা পাবেন না আলমাছ সরদার। তারপরও টাকা পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগে জোর করে কাগজে সই দিতে বাধ্য করতে চান। তারপরও দুই মাস সময় চেয়ে ধার্য টাকা দেয়ার সালিস মেনে নেন। কিন্তু এরপরও তাকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মিজু হাওলাদার বাধা দিলে তাকেও অপদস্থ করা হয় বলে রেবেকার বক্তব্য। মিজু জানান, তারা বসে দুই মাসের মধ্যে ১৬ হাজার টাকা শোধ করা প্রস্তাব দিলে তাও মানেননি আলমাছ। আলমাছের দাবি পাওনা টাকা না দিয়ে ট্রলার থেকে পালিয়ে যায় রাসেল। একারণে ডেকে নেন। মারধরের বিষয়ে নিরুত্তর। বর্তমানে এ পরিবারটি আছে চরম নিরাপত্তাহীন। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগে তার মা থানায় আসলে পুলিশের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে রেবেকা বেগমকে মারধরের বিষয় তার জানা নেই, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।