আজকের বার্তা | logo

১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

কলাপাড়ায় বাঁধ দিয়ে খাল দখল: শত শত কৃষকের প্রতিবাদ

প্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০১৮, ২৩:২৬

কলাপাড়ায় বাঁধ দিয়ে খাল দখল: শত শত কৃষকের প্রতিবাদ

কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ বালিয়াতলী ইউনিয়নের সেখাউ খালের দুই পাড়ের শত শত কৃষক পরিবার শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন প্রতিবাদ করেছে। খালটি দখল করে একের পর এক বাঁধ দিয়ে দখলের প্রতিবাদে কৃষকরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছেন। দুই পাড়ের কৃষক পরিবারের অভিযোগ, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটিতে অন্তত পাঁচটি বাঁধ দেয়া হয়েছে। ফলে দুই পাড়ের কৃষকের বোরো ক্ষেতে সেচ দিতে পারেননি। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসলসহ রবিশস্য। খালের পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোন গরিব মানুষ পর্যন্ত খালে ঝাকি জাল দিয়েও মাছ ধরতে পারছেনা। স্থানীয় সরকারি কর্মচারী ইউসুফ আলী ও স্থানীয় আলতাফ হোসেন সরকারি এই খালে একাধিক বাঁধ দিয়ে দখল করে রেখেছেন। এমনকি ওই বাঁধ কেটে দেয়ার জন্য চাপ দিলে খালকে নিজেদের মাছের ঘের দেখিয়ে মাছ চুরির মিথ্যা মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। এসব নিয়ে এখন সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, নলবুনিয়া, তুলাতলী, পূর্ব সোনাপাড়ার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটির দুই পাড়ে হাজারো কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের বসবাস। খালটির পানির ওপর নির্ভর করে অন্তত অর্ধশত চাষি বোরোর আবাদ করেছেন। করেছেন বহুজনে শত শত একর জমিতে রবিশস্যের আবাদ। খালটিতে সরকারিভাবে অর্ধকোটি টাকার বেশি ব্যয় করে দু’টি ব্রিজ ও দুইটি কালভার্ট করা হয়েছে। ইউপি মেম্বার বাদল চাকলাদার জানান, খালটিতে অন্তত পাঁচটি বাঁধ দিয়ে ইউসুফসহ কয়েকজনে জবরদখল করে রেখেছেন। কৃষক সালাম হাওলাদারের দাবি, খালের পানি কাউকে ওই প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করতে দেয়না। সকল কৃষক জানান, এই খালটি দুই বছর আগে সরকারিভাবে পুনঃখনন করার পরে ১২ মাস মিঠাপানি থাকছে। আমতলীর বড় খালের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। কিন্তু বাঁধ দেয়ার কারণে পানি প্রবেশ করানো যায়না। ফলে এবছর বোরোর আবাদ করলেও কৃষকদের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কৃষক এখন প্রচ- ক্ষীপ্ত হয়ে আছেন। তাদের দাবি, খালটি দখলমুক্ত করে দেয়া হোক। দরিদ্র চল্লিশোর্ধ্ব গৃহবধূ শামসুন্নাহার জানান, এই খালটিতে ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরে সাতজনের সংসারের যোগান দিচ্ছিলেন তার স্বামী। এখন পারেন না। দখলদাররা মাছ ধরতে দেয় না। ব্যবহারের পানিও মিলছেনা। মানুষ এসব দখলদারদের কবল থেকে মুক্তি চেয়েছেন। এছাড়া এই খাল দখলে বাধা দেয়া এবং প্রতিবাদ করায় দায়েরকৃত মামলাও প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে তিনিও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, খাল দখলদার যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বর্তমানে সোনাপাড়া গ্রাম সংলগ্ন খালপাড়ের দুই দিকের কৃষকসহ শত শত পরিবারে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় দখলদারদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শঙ্কা রয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।