আজকের বার্তা | logo

৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বাউফল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় যখন ডাক্তার!

প্রকাশিত : মার্চ ৩০, ২০১৮, ০২:১৯

বাউফল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় যখন ডাক্তার!

 

বাউফল প্রতিনিধি ॥ বাউফল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মোঃ ইউনুসকে দিয়ে জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের কাটা-ছেঁড়া ও সেলাই করানো হচ্ছে। অথচ এই কাজটি করার কথা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড বয় ইউনুস এর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের মোঃ ইউনুস বাউফল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় পদে চাকরি করলেও তিনি সব সময় জরুরি বিভাগে কাজ করেন। অথচ এই কাজটি বাউফল হাসপাতালের করার কথা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের। বাউফল হাসপাতালে ৫ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার থাকা সত্ত্বেও ওয়ার্ড বয় ইউনুস জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের কাটা-ছেঁড়া, সেলাই ও ড্রেসিং এর কাজ করেন। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সিন্ডিকেট তাকে দিয়ে এই কাজ করায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, ওয়ার্ড বয় ইউনুসের মাধ্যমেই রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সর্ব নিম্ন ২০০ থেকে ১০০০ টাকা বা তারও বেশি আদায় করা হয়। জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আদায়কৃত ওই অর্থের ভাগ বণ্টন করেন।  ওয়ার্ড বয় মোঃ ইউনুসের দায়িত্ব হল হাসপাতালের ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের সেবা দেয়া। কিন্তু তিনি এ হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই নিজ দায়িত্ব পালন করছেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যেসব রোগীদের কাটা-ছেঁড়া ও সেলাই করেন, কিছু দিন পর সেখানে ইনফেকশন দেখা দেয়। অথবা পুনরায় তাকে সেলাই দিতে হয়। বাউফল শহরের ভিআইপি রোড এলাকার বাসিন্দা ফেরদৌস ভূট্টো অভিযোগ করেন, ২৭ মার্চ তার ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সিয়ামের দুর্ঘটনাজনিত কারণে জিহ্বা কেটে গেলে তাকে নিয়ে বাউফল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে দায়িত্বরত কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার রেবেকা সুলতানা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেলাই (স্টিচ্) করেননি। ওয়ার্ড বয় ইউনুস তার ছেলের জিহ্বা সেলাই করে দিয়েছেন। বাসায় নেয়ার পর তার ছেলের জিহ্বার সেলাই কেটে যায়। পরে অন্য এক সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার এসে তার ছেলের জিহবায় সেলাই করেন। এরকম আরও বহু অভিযোগ রয়েছে ওয়ার্ড বয় ইউনুসের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার ফেরদৌস ভূট্টো উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জরুরি বিভাগে যে সিন্ডিকেট দায়িত্ব পালন করছে তাদের বেশিরভাগ সদস্যই স্থানীয় হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন। বছরের পর বছর একই স্থানে চাকুরি করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে হেনস্থা হতে হয়।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।