আজকের বার্তা | logo

৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

ফুটপাত দখলের পেছনে চাঁদাবাজি!

প্রকাশিত : মার্চ ২৬, ২০১৮, ১৭:৩০

ফুটপাত দখলের পেছনে চাঁদাবাজি!

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা–সংলগ্ন রাস্তাগুলোর ফুটপাত ধরে হাঁটার জো নেই। ফুটপাতসহ রাস্তার অনেকটা দখল করে বসানো হয়েছে হকার। তার বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। স্থানীয় প্রভাবশালী, সিটি করপোরেশনের লোকজন আর থানা–পুলিশের পকেট পুরছে এই টাকায়। চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার কথা অকপটে স্বীকারও করছে হকাররা।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শহীদ ফারুক সড়ক, যাত্রাবাড়ী-দোলাইরপাড় সড়ক, চৌরাস্তা–সংলগ্ন শহীদ জিয়া গার্লস স্কুলের সামনে বসানো দোকান থেকে আকারভেদে টাকা আদায় করা হয়। এই টাকা আদায়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লাইনম্যানও।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার তিনজন পুলিশকে হকারদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার কাগজে লিখতে দেখা যায়। পরে একজন হকার জানান, নিয়মিত চাঁদা আদায়ের জন্য এ তালিকা করা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে শহীদ ফারুক সড়কের টনি টাওয়ার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ ধরে কাপড়, ফল ও সবজিসহ ছোট–বড় মোট ৫৮টি দোকান বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ছোট দোকানগুলোকে প্রতিদিন দিতে হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা, আর বড় দোকানকে দিতে হয় ৫০ থেকে ৮০ টাকা করে। তোরাব আলী নামের এক লাইনম্যান পুলিশের হয়ে এই টাকা তোলেন। পাশাপাশি এ রাস্তার মার্কেটগুলোর সামনে বসতে সংশ্লিষ্ট মার্কেটের মালিকদেরও টাকা দিতে হয়। এ টাকাও দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে নির্ধারিত হয়; যা পঞ্চাশ থেকে এক শ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে মার্কেটের টাকা সপ্তাহ বা মাস হিসেবেও দিয়ে থাকেন অনেক হকার।

চৌরাস্তা থেকে দোলাইরপাড়ের দিকে যেতে রাস্তাটির প্রায় অর্ধেকজুড়েই বসানো হয়েছে কাপড়, খেলনা ও ফলের রসের দোকান। সংখ্যায় ৪৮টি।

চৌরাস্তার অপর পাশে শহীদ জিয়া গার্লস স্কুলের সামনে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে ডেমরার দিকের সড়কে ফল, সবজিসহ ছোট–বড় মোট ৬৪টি দোকান দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে চারজনকে টাকা তুলতে দেখা যায়। এর মধ্যে একজন তুলছিলেন বিদ্যুৎ লাইটের বিল, বাকি তিনজন তুলছিলেন নিয়মিত চাঁদা। প্রতিটি বাল্বের জন্য তোলা হয় ৫০ টাকা। আর নিয়মিত হারে চাঁদা ৩০ টাকা থেকে শুরু করে যে যা দিয়ে পার পেতে পারেন, তাই দেন বলে জানান হকাররা।

ফুটপাতে ফলের দোকানদারের কাছ থেকে চাঁদা তুলছেন নীল গেঞ্জি পরা এই ব্যক্তি। পরিচয় জানতে চাইলে সটকে পড়েন তিনি।ফুটপাতে ফলের দোকানদারের কাছ থেকে চাঁদা তুলছেন নীল গেঞ্জি পরা এই ব্যক্তি। পরিচয় জানতে চাইলে সটকে পড়েন তিনি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানদার বলেন, লাইটের টাকা নেন জসিম নামের এক ব্যক্তি। আর চাঁদা নেন কয়েকজন। এর মধ্যে সেলিম নামের একজনকে তিনি চেনেন।

ফলের দোকান থেকে টাকা তোলার সময় একজন লাইনম্যানের পরিচয় জানতে চান এই প্রতিবেদক। কিন্তু তিনি কথা না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে পাঁচজন টাকা তোলেন। তবে একজন হকার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, চাঁদা দিতে দিতেই শেষ। কতজন যে আসে তার হিসাব নাই।

এসব দোকান সিটি করপোরেশন মাঝে মাঝে উচ্ছেদ করে। কিন্তু উচ্ছেদের ঘণ্টাখানেকের মাথায় আবারও বসে পড়ে। উচ্ছেদের তথ্যও হকাররা আগাম জানতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন হকার বলেন, ‘রবিবার আবার উচ্ছেদ অভিযান হবে।’ কীভাবে জানলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এগুলো জানা যায়।’

রাস্তার ওপরে সারি সারি দোকান। ভ্যানের ওপর হলেও এগুলো দিন–রাত এখানেই থাকে। জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের তোয়াক্কা নেই তাদের।

রাস্তার ওপরে সারি সারি দোকান। ভ্যানের ওপর হলেও এগুলো দিন–রাত এখানেই থাকে। জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের তোয়াক্কা নেই তাদের।রোববার এই এলাকায় কোনো উচ্ছেদ অভিযান আছে কি না জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫–এর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাঈম মুঠোফোনে হ্যাঁ সূচক জবাব দেন। উচ্ছেদের চার দিন আগে হকাররা কীভাবে এ তথ্য জানল, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটা জানার কথা না। আমরা হঠাৎ করেই অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু এটা সত্য, আগামী রোববার (আজ) যাত্রাবাড়ীতে আমাদের উচ্ছেদ অভিযান করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

আবু নাঈম বলেন, ‘বারবার উচ্ছেদ করার পরও হকাররা বসে পড়ছে। এ সাহসটা তাদের কে দিচ্ছে এটি খতিয়ে দেখা দরকার। আমি এ মাসে নতুন এসেছি। তাই তেমন কিছু বলতে পারব না।’

আগে অঞ্চল-৫–এর নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি এখন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক। তিনি কে বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন সপ্তাহে দুবার করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতাম। আসলে এখানে পুলিশের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না।’

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু বলেন, ‘আমরা বারবার উচ্ছেদ করি, কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা রয়েছেন, যাঁরা টাকার বিনিময়ে এখানে দোকান বসতে দেয়। পুলিশেরও যোগসূত্র থাকতে পারে।’

টাকার বিনিময়ে হাকার বসানোর বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো টাকাপয়সা নেই না। আমরা বরং উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করি। যারা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা সত্য বলছেন না।’

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।