আজকের বার্তা | logo

৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

পানিতে নেমেছে দেশের সর্ব বৃহৎ যাত্রীবাহী লঞ্চ

প্রকাশিত : মার্চ ২২, ২০১৮, ০০:১৪

পানিতে নেমেছে দেশের সর্ব বৃহৎ যাত্রীবাহী লঞ্চ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যুক্ত হচ্ছে দেশের সর্ব বৃহৎ লঞ্চ এমভি কীর্তনখোলা-১০। যাত্রীবাহী অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিলাসবহুল লঞ্চটি তিন তারকা হোটেলের ন্যায় তৈরি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে লঞ্চটি বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চটি উদ্বোধন হবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। লঞ্চটি নির্মাণ করেছে সালমা শিপিং কর্পোরেশন। শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আহসান ফেরদাউস বলেন, প্রায় ৯০ ঘণ্টারও বেশি সময় নদীতে চালিয়ে ইঞ্জিন পরীা করা হয়েছে। কোনো ত্রুটি ছাড়াই সব পরীায় উত্তীর্ণ হয়েছে লঞ্চটি। বুধবার রাতে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করলেও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার সদরঘাটে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লঞ্চটির উদ্বোধন হবে। লঞ্চটি নির্মাণ হয়েছে বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে বেলতলা ফেরিঘাট এলাকায় বাগেরহাট শিপ বিল্ডার্স নামের একটি ডকইয়ার্ডে। সেখানে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক মানুষ। কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চটি ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে লঞ্চে প্লে-গ্রাউন্ড, ফুড কোর্ট এরিয়া, বিনোদন স্পেস, বড় পর্দার টিভি, অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, ইন্টারকম যোগাযোগের ব্যবস্থা, উন্মুক্ত ওয়াইফাই সুবিধাসহ রয়েছে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা। অভিজাত শ্রেণির বিলাসী যাত্রীদের জন্য লঞ্চটিতে রয়েছে ১৭টি ভিআইপি কেবিন। কেবিনগুলো বানানো হয়েছে বিলাসবহুল আবাসিক তিন তারকা হোটেলের আদলে। ব্যয়বহুল ও দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্রে সাজানো প্রতিটি ক। প্রতিটি কেবিনের সঙ্গে রয়েছে সুবিশাল বারান্দা। এখানে বসে নদী, পানি, আকাশ আর আশপাশের মনোরম প্রকৃতি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। করে ভেতরে রয়েছে এলইডি টিভি। রিভার সাইডের কেবিনের ভেতর থেকেও সহজেই দেখা যায় বাইরের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী। লঞ্চের করিডরগুলোতে রয়েছে নান্দনিক ডিজাইন। নকশা ও কারুকাজ যে কারো মন কাড়বে। ভিআইপি ও কেবিন যাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা সু-সজ্জিত খাবার হোটেল। এছাড়া দুই হাজার যাত্রী ধারণমতা সম্পন্ন লঞ্চটিতে রয়েছে ৭০টি ডাবল ও ১০২টি সিঙ্গেল কেবিন। ৪ তলা লঞ্চটির ডেকের যাত্রীদের জন্য যাত্রা আরামদায়ক করতে নিচতলা ও দোতলায় রয়েছে মসৃণ কার্পেট। আলোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল লাইট। বিনোদনের জন্য তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্য থাকছে বড় পর্দার টিভি এবং অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। খাবার জন্য ক্যান্টিন ও পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে লঞ্চটিতে। এছাড়া ডেকের যাত্রীদের জন্য রয়েছে মোবাইল চার্জের ১২৪টি পয়েন্ট। যেখানে ২৪৮টি মোবাইলে একসঙ্গে চার্জ দেয়া সম্ভব হবে। সর্ববৃহৎ যাত্রীবাহী এই জাহাজে রোগীদের জন্য থাকছে আইসিইউ, সিসিইউসহ মেডিকেল সুবিধা। যাত্রীদের নামাজের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নামাজের স্থান। যেখানে একসঙ্গে ৩০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। পুরো লঞ্চটি কোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতাভুক্ত। আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত লাইফ-বয়া রাখা হয়েছে। লঞ্চটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সালমা শিপিং কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল করিম জানান, বিশেষজ্ঞ নৌ-স্থপতির নকশায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই বছর ধরে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০ জন শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমে লঞ্চটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ৩০০ ফুটেরও বেশি দৈর্ঘ্যরে নৌযানটির প্রস্থ ৫৯ ফুট। লঞ্চের হুইল হাউজে (চালকের ক) সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়েছে। এর রাডার-সুকান ‘ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক’ ও ‘ম্যানুয়াল’ দ্বৈত পদ্ধতির। পাশাপাশি নৌযানটিতে জিপিএস পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে লঞ্চটি চলাচলরত নৌপথের ১ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে গভীরতা ছাড়াও এর আশপাশের অন্য যে কোনো নৌযানের উপস্থিতি চিহ্নিত করতে পারবে। এমনকি ঘন কুয়াশার মধ্যেও নৌযানটি নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবে। লঞ্চটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সম।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।