আজকের বার্তা | logo

১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

নির্বাচনের পথেই বিএনপি

প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০১৮, ০৭:৩৮

নির্বাচনের পথেই বিএনপি

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও নির্বাচনের পথ থেকে সরে যায়নি বিএনপি। দলটি এখনো নির্বাচনের পথেই আছে। পাশাপাশি সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিএনপি মনে করছে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে সরকার শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও ছাড় দেবে। তবে ওই ‘ছাড়’ কী হতে পারে, সে সম্পর্কে দলটি এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ভেতরে। কোন দলের কে কোন আসনে মনোনয়ন চায়, তা বাছাই করার জন্য বিএনপির তরফ থেকে শরিক দলগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, জোটের বাইরের কয়েকটি দলকেও আসন বাছাই করার তাগিদ দিয়েছে বিএনপি। রাজনৈতিক হিসাব বা সমীকরণ মিললে সংশ্লিষ্ট ওই দলগুলোর সঙ্গেও নির্বাচনী জোট গড়ার আগ্রহ রয়েছে বিএনপির।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে গত ৭ মার্চ বিএনপির স্থায়ী কমিটির আট সদস্য কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে কার্যত সেটি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরিণত হয়। বিএনপি নেতাদের মতে, একটি সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে যেখানে ছাড় দেওয়া হয় না, সেখানে কারাগারে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এভাবে একসঙ্গে বসার অনুমতি দেওয়াটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির কেউ কেউ ওই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ কিছুটা বিস্মিত হয়ে অন্য হিসাব মেলাচ্ছেন। তাঁদের মতে, রাজনীতির কোনো হিসাব থেকে সরকারই হয়তো চেয়েছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেতাদের দেখা হোক। অর্থাৎ এমন কোনো নির্দেশনা, যাতে খালেদার সঙ্গে নেতাদের দেখা হওয়া প্রয়োজন ছিল। যদিও ওই বৈঠকে খুব গোপন বা নীতিনির্ধারণী কোনো আলোচনা হওয়ার খবর বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায়নি। খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ পথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন—এটিই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কেউ কেউ মনে করেন, ওই ঘটনার নেপথ্যে ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার প্রশ্নেও সরকারের শেষ সময়ে কূটনীতিকদের ভূমিকা থাকবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপি নেতাদের মতে, ব্যাপক জনসমাগম হবে এমন আশঙ্কা থেকে তাদের সভা-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তারই প্রকাশ ঘটছে। ফলে বিএনপির শেষ ভাবনা হলো নির্বাচনে যাওয়া। এমনকি শেষ পর্যন্ত কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি না মিললেও নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার পক্ষে দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের পথেই আছে। আর আছে বলেই সরকার নানা বাধার সৃষ্টি করতে চাইছে, যেন আমরা নির্বাচনে না যাই।’ তিনি বলেন, চেয়ারপারসনকে কারাগারেও নেওয়া হয়েছে যাতে বিএনপি নির্বাচনে না যায়। কিন্তু তাঁকে মুক্ত করে তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। দলটির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক আরো বলেন, নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি রয়েছে।

নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে আছে। বিএনপিও নির্বাচনের পথে আছে। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রশ্নে অবশ্যই কোনো না কোনো সমঝোতার প্রয়োজন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবশ্যই কোনো না কোনো ‘ছাড়’ লাগবে। বিএনপি মনে করে, জনগণের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত সরকার সেই ছাড় দেবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে নির্বাচনের পথকে সংকীর্ণ করার জন্য। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনের পথ থেকে সরে যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন ও নির্বাচন একসঙ্গে চালিয়ে যাব। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনাও এমনই।’ এক প্রশ্নের জবাবে এই নেতা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাইলে অবশ্যই সরকারকে ছাড় দিতে হবে। জনগণের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কোনো নির্বাচন হবে না, এটি সরকার জানে। ফলে সময় হলে অবশ্যই তারা এ বিষয়ে চিন্তা করবে।

সুধীসমাজে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, আন্তর্জাতিক বা যেকোনো চাপের কারণেই হোক শেষ পর্যন্ত সরকার কিছু ছাড় দেবে এটি বুঝেই বিএনপি নির্বাচনের পথে হাঁটছে। এ ছাড়া দলটির ব্যাপক জনপ্রিয়তাও এর আরেকটি কারণ। তাঁর মতে, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও বিএনপিতে ভাঙন ধরানো যায়নি। এমনকি জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে দুর্বলও করা যায়নি। এসব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সরকার ইতিবাচক কোনো উদ্যোগ নিতেও পারে।

বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত আরেক সুধীজন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার চাপে আছে, আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে চাপে আছে বিএনপি। ফলে ভালো একটি নির্বাচন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটজনকে জেলখানায় বৈঠক করতে দেওয়ার ঘটনা ইতিবাচক। সরকারকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে হবে। তাই বিএনপিকে ঘন ঘন বলতে হবে যে তারা প্রতিশোধ নেবে না। তাহলেই পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে যাবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে। অন্যদিকে সরকারকেও ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছর সাজা হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি কর্মসূচিতে ব্যাপক লোক সমাগমের ঘটনা বিএনপিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে দলটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়। পাশাপাশি দলের মধ্যে এ পর্যন্ত ভাঙনের কোনো আলামত দেখা যায়নি। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপি ভেঙে যাবে, এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক দিন ধরে চলছিল। উপরন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির ঐক্য আগের তুলনায় আরো অটুট হয়েছে বলে গত ৭ মার্চ সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করে এসেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এদিকে ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রমাণ বলে মনে করে দলটি। বিএনপি নেতাদের মতে, ব্যাপক জনসমাগম হবে, এমন আশঙ্কা থেকে সরকার সভা-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে বিএনপি মনে করে, ন্যূনতম সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। তাই খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহে ঢাকাসহ সারা দেশে কর্মসূচি দিয়ে দলকে চাঙ্গা রাখা হচ্ছে। যদিও বেশির ভাগ স্থানে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তার পরও বিএনপি মনে করছে, এতে রাজনৈতিকভাবে তারা লাভবান হচ্ছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।