আজকের বার্তা | logo

৯ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

জাহাজ নির্মাণের টুকটাক শব্দে মুখরিত নদীর দুই পাড়

প্রকাশিত : মার্চ ২৭, ২০১৮, ২২:২৪

জাহাজ নির্মাণের টুকটাক শব্দে মুখরিত নদীর দুই পাড়

পিরোজপুর: পিরোজপুরের ৭টি উপজেলার সবগুলোই নদী দ্বারা বেষ্টিত। এদের মধ্যে নেছারাবাদ (পূর্বের নাম স্বরূপকাঠি নামে পরিচিত) উপজেলাটি সন্ধ্যা নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত। জেলার মধ্যে এ উপজেলাটি একটি ব্যবসা প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পাড়ের মানুষের কানে ভেসে আসে হাতুড়ি আর লোহার মিতালীতে উৎপন্ন টুকটাক শব্দ। এ শব্দ আসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত জাহাজ নির্মাণের জন্য তৈরিকৃত ডকইয়ার্ড থেকে। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে নেছারাবাদে জাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। আগে হাতেগোনা কয়েকটি ডকইয়ার্ডে ছোট আকৃতির জাহাজ তৈরি হলেও, গত ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে এই শিল্পটি।

ফলে ২৫টিরও বেশি ডকইয়ার্ডে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষের। শুধু সন্ধ্যার দুই পাড়ে নয়, এই নদীতে মিশে যাওয়া বড় বড় খালের পাড়েও গড়ে উঠেছে জাহাজ নির্মাণের ডকইয়ার্ড। সময়ের ব্যবধানে এসব ডকইয়ার্ডেই এখন তৈরি হচ্ছে ছোট-বড় নানা আকৃতির জাহাজ। বানানো হচ্ছে লঞ্চ, কার্গো জাহাজ, উন্নতমানের ট্রলারসহ নানা নৌযান।

এখানকার ডকইয়ার্ডে উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এটি রূপ নিয়েছে সম্ভাবনাময় শিল্পে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে জাহাজ-মালিকরা তাদের নৌযান নির্মাণ ও মেরামত করতে আসছেন। জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে ওয়ার্কশপ, হার্ডওয়ার, স্টিলপ্লেট, ওয়েল্ডিং রড ও রঙের কারখানাসহ নানা ধরনের ছোট-বড় শিল্প। বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এসব কারখানায়।

অধিকাংশ ডকইয়ার্ডগুলো নেছারাবাদের সোহাগদল, সুটিয়াকাঠি, স্বরুপকাঠি, পঞ্চবেকি, বাইরুলা, বরছাকাঠি এবং ছারছিনায় অবস্থিত। শুধু নেছারাবাদ উপজেলা নয়, পার্শবর্তী বিভিন্ন এলাকার লোকজনও কর্মসংস্থানের খোঁজে ছুটে আসছেন ডকইয়ার্ডগুলোতে। তারা সর্বোচ্চ ৪০ টাকা ঘণ্টা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের কাজ করছেন।

বালু বহনকারী কার্গোসহ প্রায় ১০ ধরনের লোহার তৈরি নৌযান তৈরি হয় নেছারাবাদের ডকইয়ার্ড গুলোতে। যেখানে বর্তমানে ৩০ ফুট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা জাহাজ তৈরি হচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ছাড়াও ঢাকা থেকে লোকজন নেছারাবাদের ডকইয়ার্ডে আসে জাহাজ তৈরি করার জন্য। ডকইয়ার্ডের ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি কম হওয়ার কারণেই লোকজন এখানে আসেন বলে জানান জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সাথে জড়িত আব্দুর রশিদ।

তিনি জানান, নতুন জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি পুরাতন জাহাজও নির্মাণ করা হয় এসকল ডকইয়ার্ডে। খরচ কম হওয়ায় দূর-দূরান্তের লোকজন এখানে ছুটে আসেন তাদের পুরনো জলযানগুলো মেরামত করতে।

জাহাজের আকারভেদে জায়গার ভাড়া হিসেবে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা দিতে হয় ডকইয়ার্ডের মালিকদের। বর্তমানে উপজেলার শতাধিক লোক জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে জাহাজ নির্মাণের অধিকাংশ ঠিকাদার ঢাকার গোয়ালন্দ এলাকার।

ডকইয়ার্ডে যে সকল মিস্ত্রি কাজ করেন, তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নাই। তারা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই কাজ করেন। সরকারি উদ্যোগে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা গেলে, কাজের মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাদের আশা।

অন্যদিকে কোনো ডকইয়ার্ডেই নেই যথাযথ যন্ত্রপাতি। তাই ডকইয়ার্ডগুলোর মান উন্নয়নের জন্য সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সালেহিয়া ডকইয়ার্ডের একজন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম।

এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটায় কাজের মারত্মক ব্যাঘাত ঘটে বলেও জানান জাহাজ শিল্পের সাথে জড়িতরা। শিল্পটির আরও সম্প্রসারণের জন্য এই সমস্যারও সমাধান চান তারা।

নির্মাণ শ্রমিক মো. পারভেজ সেখ জানান, একসময় বেকার ছিলাম। ১০ বছর আগে প্রতিবেশী ফারুকের সহায়তায় স্বরূপকাঠি ডকইয়ার্ডে প্রথমে ১২০ টাকা বেতনে কাজ শুরু করি। বর্তমানে ৬’শ টাকা দৈনিক মজুরি পাই।

তারাবুনিয়া ডকইয়ার্ডের নির্মাণ ঠিকাদার মোমিন শেখ জানান, ১ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার একখানা জাহাজ তৈরি করতে ৭-৮ মাস সময় লাগে। সব খরচ বাদে তার ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয়।

ডকইয়ার্ড মালিক সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ জানান, ডকইয়ার্ড শিল্প মানুষের কর্মসংস্থানের একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সম্ভাবনাময় এ ডকইয়ার্ড শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

স্বরূপকাঠী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু সাঈদ জানান, এখানকার জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এখানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে এ উন্নতি কাঙ্খিত মাত্রার নয়। এখানে আরো বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যা ব্যক্তি পর্যায়ে সম্ভব নয়। সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণদানের ব্যবস্থা হলে এ শিল্প আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।