আজকের বার্তা | logo

২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

চলন্ত বাস থেকে যাত্রী ফেলে দেয়ার অভিযোগ: গ্রেপ্তার-২

প্রকাশিত : মার্চ ২৫, ২০১৮, ০১:৩৩

চলন্ত বাস থেকে যাত্রী ফেলে দেয়ার অভিযোগ: গ্রেপ্তার-২

আমতলী প্রতিনিধি ॥ কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে বাসের সিট চাওয়ার অপরাধে চলন্ত বাস থেকে যাত্রীদের ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, তোয়া পরিবহন বাসের সুপারভাইজার মিজান এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালী-কলাপাড়া মহাসড়কের আমতলীর তুলাতলী নামক স্থানে। এ ঘটনায় ৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ গাড়িসহ চালক আলমগীর মাতুব্বর (৩২) ও সুপারভাইজার মিজানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা শহরের টাউন জৈনকাঠী গ্রামের হারুন গাজী, তার বেয়াই আবদুল মালেক দু’পরিবারের মহিলা শিশুসহ ১০জন শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আমতলী বাস কাউন্টার থেকে তোয়া পরিবহনের বাসে (বি-বাড়িয়া জ ০০-০১) ৯ টি টিকেট কাটেন। গাড়িতে উঠে কাউন্টার থেকে দেয়া সিট খালী না পেয়ে সুপারভাইজার মিজানকে সিটে বসিয়ে দিতে বলেন তারা। মিজান যাত্রীদের সিটে বসিয়ে দেয়ার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায় যাত্রী হারুন গাজী ও আবদুল মালেকসহ তাদের লোকজন চালক আলম মিয়া ও সুপারভাইজার মিজানকে বাস থামিয়ে তাদের নামিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু তারা যাত্রীদের কথায় কর্ণপাত করেননি। এ নিয়ে ওই যাত্রী ও সুপারভাইজারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় সুপারভাইজার মিজান যাত্রী মুন্নির কোল থেকে ১ বছরের শিশু ঈশিতাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন অপর যাত্রীরা। পরে সুপারভাইজার চলন্ত গাড়ি থেকে প্রথমে শারমিন, মুন্নি, মাহফুজা, আনোয়ারা, আবদুস ছত্তার, আনোয়ার গাজী ও হাসান মৃধাকে নামিয়ে দেন। এতে মুন্নি, মাহফুজা ও আবদুস ছত্তার আহত হন। পরে হারুন গাজী ও আবদুল মালেককে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে সুপারভাইজার মিজান ফেলে দিয়ে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যান। এতে হারুন ও আবদুল মালেক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। গুরুতর আহত হারুন ও মালেককে চিকিৎসা শেষে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ তোয়া পরিবহনের বাস, চালক আলমগীর মাতুব্বর ও সুপারভাইজার মিজানকে আমড়াগাছিয়া খানকার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রত্যক্ষদর্শী বাস যাত্রী শাহজাহান, জামাল হোসেন, শিপন ও নজরুল জানান, সিটের জন্য সুপারভাইজারের সাথে কয়েকজন যাত্রী কথা কাটাকাটি করছিলেন। এক পর্যায় চলন্ত বাস থেকে সুপারভাইজার চার  নারী ও তিন জন পুরুষকে নামিয়ে দেন। একটু সামনে গিয়ে অপর দুই যাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। আহত হারুন গাজী ও আবদুল মালেক জানান, ‘আমতলী বাস কাউন্টার থেকে ৯ টি টিকেট কেটে বাসে উঠে সুপার ভাইজারকে সিট খালী করে দিতে বলি। সিটে না বসিয়ে চালক দ্রুত গাড়ি ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে সুপারভাইজারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় সুপার ভাইজার আমাদেরকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, আহত হারুন গাজীর কপাল-মুখম-ল থেঁতলে গেছে ও তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে। এছাড়া হারুন ও মালেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমতলী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম পাইক বলেন, ‘খবর পেয়ে বাস, বাসের চালক ও সুপার ভাইজারকে গ্রেপ্তার করেছি।’ পটুয়াখালী বাস ও মিনি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা দুলু মৃধা বলেন, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সমিতির আইনানুযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমতলী থানার ওসি সহিদ উল্যাহ বলেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং বাসটি থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।