আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ওরা ছদ্মবেশী খুনি!

প্রকাশিত : মার্চ ১৯, ২০১৮, ১৬:৩১

ওরা ছদ্মবেশী খুনি!

অনলাইন ডেক্সঃ অবসরপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা আবু তাহের। অন্যান্য দিনের মতো রাতের খাবার আর ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এই ঘুম যে তার শেষ ঘুম হবে- কে জানত। দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মালামাল নিয়ে পালিয়েছে।

রাজধানীতে আলোচিত এই খুনের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, খুনি আর কেউ নয়। বাসার বিশ্বস্ত দুই কাজের বুয়া সেলিনা ও নূরজাহান আর গাড়ি চালকের পরিকল্পনায় খুন করা হয় আবু তাহেরকে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এর মূল ঘটনা বেরিয়ে আসে। গ্রেফতার হয় ওই দুই কাজের বুয়া। বাসায় লোকজন না থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পনা মতো টাকা আর সোনা-গয়না লুট করতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় তারা। নেত্রকোনার পারভীন। অভাবের তাড়নায় ঢাকায় এসে গুলশান বনানী এলাকায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ নেয়। কিন্তু তার উদ্দেশ লুট করা। আর লুট করতে বাড়ির লোকজনকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে নেয়। শুধু সে একা নয়, তার একটি ভয়ঙ্কর বাহিনী রয়েছে এ কাজের জন্য। প্রথমে সে বাসার কাজের বুয়া হিসেবে ঢুকলেও পরবর্তীতে তার সহযোগীদের নিয়ে ওই বাসা লুট করত। গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে কাজের বুয়া হিসেবে কাজ নেয় পারভীন আক্তার। এক দুপুরে বাসার গৃহকর্তার অনুপস্থিতিতে গৃহকর্ত্রীকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে। এরপর বাসার আলমারির তালা ভেঙে ৬০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পারভীনসহ তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পরই পুলিশ তাদের খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে ঢাকা ও নেত্রকোনা থেকে পারভীনসহ তার ৬ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার মহাজনপুর গ্রামের সুমি বেগম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বুয়া হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে চুরি-ডাকাতি করাই ছিল তার পেশা। তার কথাবার্তা ও আচরণে মনে হবে সে খুবই ‘আলাভোলা’ নারী। আসলে সে কোনো সাধারণ নারী নয়, রীতিমতো ভয়ঙ্কর। রাজধানীর অদূরে সাভারের আমিনবাজারে কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করা অবস্থায় চাকরিজীবী দম্পতির দুই সন্তানকে ঘরের ভিতর আটকে রেখে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে সুমি। পুলিশ সাতক্ষীরায় তার গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ জানতে পারে, সে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ কাজ করে আসছে। আমিনবাজারের ঘটনায় মামলা হলে সে গ্রেফতার হয়। এর আগে অন্য জায়গার ঘটনায় মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, বাসাবাড়ির লোকজনকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেওয়াই তার নেশা ও পেশা। গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে লুট করা ৭ ভরির কিছু বেশি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের কাছে এরা স্বীকার করে বলেছে, রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করত। কৌশলে বাড়ির মালিক কিংবা তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বস্ততা অর্জন করে। এরই এক পর্যায়ে এরা বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সম্পদ চুরি করে নিয়ে চলে আসে। প্রয়োজনে তারা খুন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। পুলিশ জানায়, এরা আসলে ছদ্মবেশী পেশাদার ভয়ঙ্কর অপরাধী। এরা খুন, ডাকাতি, চুরি ছাড়াও গৃহকর্তার বাচ্চা চুরি- এমনকি গৃহকর্তা ও গৃহকর্মী কর্মস্থলে থাকার সুবাদে বাচ্চা নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের সব খানেই চলছে এমন অবস্থা। ভয়ঙ্কর এমন ছদ্মবেশী কাজের বুয়া রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানায়, অনেক কাজের বুয়া শুধু অপরাধ করতেই ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুযোগ মতো কাজের বুয়া হিসেবে পরিবারে যোগ দিয়ে তারা চুরি করে আবার নিজ বাড়িতে চলে যায়। অনেক পরিবার থানায় অভিযোগ করে আবার ঝামেলার আশঙ্কায় অনেক পরিবার থানা পর্যন্ত আসেন না। চট্টগ্রামেও ছদ্মবেশী কাজের বুয়া স্বর্ণালঙ্কার লুট করার অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। পেশাদার অপরাধী চক্র কাজের বুয়ার ছদ্মবেশ নিয়ে অপরাধ করে যাচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেট, চাকরিজীবী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ সব পেশার মানুষের বাসা থেকে লাখ লাখ টাকার মূল্যবান সম্পদ লুটে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। পেশাদার চোর হিসেবে বিভিন্ন সময় তারা গ্রেফতার হলেও টাকার লোভে তারা একই পেশায় বার বার ফিরে আসে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান জানান, কাজের বুয়া হোক আর দারোয়ান হোক- তাদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চারিত্রিক সনদ এবং পরিচিত কারও নাম মোবাইল নম্বর রেখে তারপর তাদের নিয়োগ দিতে হবে। এতে করে যে কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যায়। আবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটালে দ্রুত তাকে শনাক্ত এবং আইনের আওতায়ও আনা সম্ভব হয়।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।