আজকের বার্তা | logo

৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

একশ পয়েন্ট থেকে কীর্তনখোলায় পড়ছে ২২০ টন বর্জ্য: নদীকৃত দিবসে বক্তারা

প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৮, ০১:২১

একশ পয়েন্ট থেকে কীর্তনখোলায় পড়ছে ২২০ টন বর্জ্য: নদীকৃত দিবসে বক্তারা

সাঈদ পান্থ ॥ বরিশাল নগরী ঘেঁষে বয়ে চলা কীতর্নখোলা নদীর প্রায় একশ পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন ১৮০ থেকে ২২০ টন তরল, কঠিন ও ই-বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়াও এসব বর্জ্য উন্মুক্তাবস্থায় সংগ্রহ ও ডাম্পিং করা হয়। আর এসব ডাম্পিং পয়েন্টের কারণে আবর্জনা মিশ্রিত হয়ে দূষিত হচ্ছে পানি। পাশাপাশি সৃষ্টি করছে নগরীতে জলাবদ্ধতার। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নদীকৃত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় ‘বিপর্যস্ত বরিশালের নদী-খাল-জলাশয়, বিপন্ন পরিবেশ-প্রতিবেশ ঃ চাই জনসম্পৃক্ততামূলক প্রতিকারের কার্যকরি উপায়’ শীর্ষক উপস্থাপনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাপা বরিশাল আহবায়ক ও জাতীয় নদী রা আন্দোলন বরিশালের সমন্বয়ক মোঃ রফিকুল আলম তার উপস্থাপনে আরো উল্লেখ করেন, মেঘনার শাখা নদী হিসাবে বিভিন্ন নামে সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদ-নদী থেকে প্রবাহিত হয়েছে আরো বহু নামের নদী। ছিল জালের মত খাল। প্রবাহমান নদী ও খালের নৈসর্গিক দৃশ্যে মুগ্ধ হয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বরিশালকে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ এর সাথে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু নদী-খালের উপর অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় লো-কস্ট অবকাঠামো নির্মাণ, নদী-খালের তীরকে বর্জ্য অপসারণের ভাগাড় হিসাবে ব্যবহারকরণ,  কারখানার তরল ও রাসায়নিক বর্জ্যসমূহ ইটিপি ছাড়াই নির্গমন করানোর কারণে দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া নৌযানের পোড়া তেল-মোবিল, পলিথিন নিপে ও মনুষ্য বর্জ্য নির্গমন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিঘাতজনিত কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাষ্পীভূতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং নদী খেকো-ভূমি দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট মহলের দায়ীত্বহীনতায় নদী তার নিজস্ব চরিত্র হারিয়ে ফেলছে। নদী দূষণের পাশাপাশি ভরাট ও দখল নদীকে সংকুচিত করে ফেলছে। নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএ’র নিজস্ব ৩৬ একর জমির ৮ একর বিভিন্ন সময়ে ৩০৬ জন প্রভাবশালী অবৈধ দখল ও ভরাট করেছে। কীর্তনখোলা নদীর রসুলপুর বাঁকে নাব্যতা সৃষ্টির কারণে চর পড়ে এবং তা দখল হচ্ছে। ওষুধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নদীর ভেতরে বেষ্টনী দিয়ে দখল-ভরাট করে রেখেছে। এমনি সিটি কর্পোরেশনও নদীর তীরে ওয়াকওয়ে প্রকল্পের নামে নদী অংশ ভরাট করছে। এ অবস্থায় নদী রার উচ্চ আদালতের রায় অনুসরণে নদীর জোয়ারকালীন সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। বরিশাল অঞ্চলের নদী-খালের পরিমাণ ও সীমানার হালনাগাদকরণ করতে হবে। ডাটা ব্যাংক গঠন করে নদী-খালগুলোকে সংরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নদীর ফোরসোর এলাকা কোনোভাবে ইজারা প্রদান করা যাবে না ও অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান। আন্তর্জাতিক নদীকৃত দিবস সম্মিলিত উদযাপন পর্ষদ বরিশালের আহ্বায়ক রনজিৎ দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এম মিজানুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রমজান আলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশালের সহকারী পরিচালক আরিফিন বাদল, বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও লঞ্চ মালিক সুলতান মাহামুদ। বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের পর আরো বক্তব্য রাখেন বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অ্যাড. এসএম ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।