আজকের বার্তা | logo

৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

একদিন তো মরেই যাবো!

প্রকাশিত : মার্চ ২৮, ২০১৮, ২২:৪৯

একদিন তো মরেই যাবো!

ফেসবুক আমাদের অনেক কিছুই সহজ করে দিয়েছে। আমাদের ভাবনাগুলো আমরা খুব সহজেই এখন প্রকাশ করতে পারি। খুব সহজেই অন্যের সমালোচনায় লিপ্ত হতে পারি। কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে হাস্যরসে মেতে উঠতে পারি। প্রাণ ওষ্ঠাগত এমন রোগীকে হাসপাতালের কেবিনে দেখতে গিয়েও সেলফি তুলে খুব সহজে প্রকাশ করতে পারি। মরণের মত কঠিন, বাস্তব, ভীতিকর, জটিল বিষয়কে সহজ, হাসরসাত্মক, খেলো হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি সামাজিক এই মাধ্যমটির কল্যাণেই।

কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নতুন একটি ট্রেন্ড চোখে পড়ছে ‘একদিন তো মরেই যাবো’। বিষয়টি ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল।

নেটিজেনরা খুবই উচ্ছ্বসিত। ফেসবুক ইউজারকারীরা ট্রল করার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করছেন বাক্যটি। বিভিন্ন মানুষের ওয়ালেও দেখা যাচ্ছে ‘একদিন তো মরেই যাব’ শীর্ষক নানা ট্রল। এই মরে যাওয়া নিয়েই ফেসবুক এতো উল্লাসিত।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মৃত্যু নিয়ে কেন এই ট্রল?

তাই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই মজা নিলেও অনেকই বিরক্ত প্রকাশ করছেন। একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তো রীতিমতো এই বিষয়টির প্রতি তীক্ত বিরক্ত হয়ে নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘একদিন যেহেতু মরেই যাবা, বাঁইচা থাইকা কি লাভ! দয়াকরে তোমরা আইজকাই মইরা যাও, মইরা গিয়া আমাদের একটু শান্তি দাও।’

কিন্তু আপনি কী জানেন ‘একদিন তো মরেই যাবো’ ট্রলটির উৎপত্তি কোথা থেকে?

এই ট্রোলটি কে শুরু করছে কিংবা কোথায় থেকে ভাইরাল হয়েছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায় নি। ধারণা করা হয়, ফেসবুকের ‘রূপকথার রাজকুমার’ নামের একটি আইডিতে সর্বপ্রথম এমনি একটি মজার ট্রল পাওয়া গিয়েছে। আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলোয়াড লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করেই মূলত এই ট্রলটি বানানো হয়েছিলো।

ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার বর্তমান টিম খুবই দূর্বল, এবং আর্জেন্টিনা এতো শক্তিশালী দলগুলোর সাথে লড়াই করে কাপ কিভাবে নেবে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে লিওনেল মেসি বলেন, ‘এখন তো সময়টা ফুরিয়ে গেছে, কাপ নিয়ে কী লাভ, একদিন তো মরেই যাবো।’ মেসির এই কথাটিই আজ ট্রল হয়ে কয়েকদিন ধরে নেট দুনিয়ায় কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক ‘একদিন তো মরেই যাবো’ বাক্যটা কিভাবে ট্রল করছেন নেটিজেনরা।

আম্মু আনিকার দাঁত এতো হলুদ আর এতো গন্ধ কেন? কারণ আনিকার দাঁত মেজে কী হবে একদিন তো মরেই যাবে! ছি: আনিকা এতো খাচ্চর!

দোস্ত কী করছ? জেনে কী করবি? একদিন তো মরেই যাবো। আমি বাইরে আছি তুইও আয়। এসে কী করবো, একদিন তো মরেই যাবো। আমার সাথে দুইটি মেয়ে বান্ধবীও আছে। কই আছস তোরা? বলে তো লাভ নেই, একদিন তো মরেই যাবো।

আমার এখনো ঘুম আসেনা কেন? ঘুমিয়ে কী লাভ, একদিন তো মরেই যাবো। চুপ, চুপ করে কী লাভ, এক দিন তো মরেই যাবো।আচ্ছা যাও, যে কী লাভ, একদিন তো মরেই যাবো। কোনদিন? কোনদিন বলে কী লাভ, একদিন তো মরেই যাবো।

তো জনাব কী চলছে? এতো জেনে কী করবেন, একদিন তো মরেই যাবেন।

কী হবে বের হয়ে, একদিন তো মরেই যাবো।

বাংলাদেশে এখন কী চলে ভাই? শুনে কী হবে, একদিন তো মরেই যাবো।

আমি তাকে খুঁজছি, যে আবিষ্কার করেছিলো, বেঁচে থেকে কী লাভ একদিন তো মরেই যাবো।

এতো ক্লাস করে কী করবি? একদিন তো মরেই যাবি। দশ টাকার বিরিয়ানি খেয়ে কী লাভ, একদিন তো মরেই যাবো।

ফাহিম, বাপজান আমার একটি কথা শুনবি? বল আম্মা। এই গরমে তুই পাঁচ দিন ধরে গোসল করিসনা। গন্ধে থাকতে পারতেছিনা। গোসল করবি কিনা বল? ফাহিম- গোসল করে কী হবে, একদিন তো মরেই যাবো ইত্যাদি।

ভেবে দেখেছেন কি? সামান্য কয়েকটি নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে গিয়ে আমাদের কতজনেরই হাত- পা কাঁপাকাঁপি, গলা ধরে যাওয়া, মুখ দিয়ে কথা বের না হওয়াসহ কত আতংক, ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমার কাছেও পৃথিবীর কঠিন ও জটিল বিষয়গুলোর একটি হলো যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া। আর দুনিয়ার অণু পরিমাণ থেকে শুরু করে মহাসাগরের চেয়েও বড় অপরাধের ঢালি নিয়ে যে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের উপস্থিত হতে হবে, ভয়াবহ মৌখিক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে সে বিষয়টি কি আমরা আদৌ মনে রাখি? অনেকেই রাখি না। কতো নির্দ্বিধায় মৃত্যুর মতো ভয়ংকর সিরিয়াস বিষয় নিয়ে আমরা ফেসবুকে আরো ভয়ানক কৌতুক, হাস্যরস, হেঁয়ালিপনায় মেতে উঠছি!

একদিন তো মরেই যাবো! ফেসবুকিং করে কী হবে? একদিন তো মরেই যাবো! ভাত খেয়ে কী হবে? একদিন তো মরেই যাবো! এত চিন্তা করে কী লাভ হবে? একদিন তো মরেই যাবো! এত সংগ্রাম করে কী হবে? আরো কত্ত কী? হুজুগে বাঙালি বলে বহুদিন থেকে এমনিতেই একটি তকমা আমাদের গায়ে সেঁটে আছে। তাই বলে এমন একটি বিষয় নিয়েও আমাদের হুজুগিপনায় মেতে উঠতে হবে? আপনার প্রোফাইল ছবি, কাভার ফটো কিংবা প্রকাশভঙ্গি আসলেই কি আপনাকে-আমাকে মৃত্যুর কথা, সর্বশক্তিমান রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে? না মহান আল্লাহর দরবারে একজন গোপাল ভাঁড় হিসেবে হাজির হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রবলতর করে তুলছে?

আমরা কি আদৌ চিন্তা করছি মৃত্যু আমাদের কত কাছে? ঘাড়ের পেছনে অথবা নাকের ডগায় এসে আজরাইল এসে আমাদের প্রাণবায়ু কেড়ে নেয়ার জন্য সর্বক্ষণ অপেক্ষা করছে। নদীতে ভাসমান মাছকে যেমন ছিল কিংবা মুরগির প্রিয় বাচ্চাকে যেমন কাক ছোঁ মেরে মুহূর্তের মধ্যে নিয়ে যায় তার চেয়েও কল্পনাতীত ন্যানো সেকেন্ডে মহান ফেরেশতা তার রবের নির্দেশে আমাদের রুহটা ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

‘পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়’

আল্লাহ্ তা’আলা বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পরিপূর্ণ বদলা দেওয়া হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়।” -(সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৮৫)। অপর এক আয়াতে তিনি বলেন, “প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” -(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫)

‘মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই’

“তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও।” -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ৭৮)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, “অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।” (সূরা নাহল, আয়াত: ৬১)

সবচাইতে বুদ্ধিমান লোক কে?

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! সবচাইতে বুদ্ধিমান লোক কে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি অধিকহারে মৃত্যুকে স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত থাকে। (ইবনে মাজাহ)।

সুতরাং, সত্যিকারের মরণ আসার আগে সেই মৃত্যুকে স্বরণ করুন। যার স্বাদ বড়ই তিক্ত। এটা ফাজলামো ছাড়া কিছুই নয়। সাবধান!

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।