আজকের বার্তা | logo

২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

ইতিহাসের ভয়াবহ কিছু বিমান দুর্ঘটনা

প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৮, ২০:৫৬

ইতিহাসের ভয়াবহ কিছু বিমান দুর্ঘটনা

অনলাইন ডেক্সঃ গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে আরও অনেক বিমান।কাঠমন্ডুর ত্রিভূবন বিমান বন্দরে মর্মান্তিক বিমান দুঘর্টনার পর থেকেই আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে আলোচিত এই আকাশযান।

বিধ্বস্ত হওয়া বিমান থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এতটাই ক্ষীণ যে, বেঁচে যাওয়ার কাহিনী নিয়ে হলিউডে-বলিউডে সিনেমাও নির্মিত হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে প্রায়ই শোনা যায় বিমান দুর্ঘটনার কাহিনী।

ইতিহাসে বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজের বহু ঘটনা আছে তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। পৃথিবীর ভয়াবহ প্রাণঘাতী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েকটি চিত্র তুলে ধরা হল।

এক নজরে দেখে নিন বিশ্বের বড় বড় কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনা:

১২ মার্চ, ২০১৮: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন বিমানকর্মী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি এবং একজন করে মালদ্বীপ ও চীনের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ৩৪ বছর আগে ১৯৮৪ সালে ফকার এফ২৭ তখনকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এতে প্রায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

২০০৯: রিও ডি জেনরিও থেকে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর এসে ফ্লাইট ৪৪৭ নিখোঁজ হয়ে যায়। এতে ২২৮ জন যাত্রী ছিলেন। প্রায় দুই বছর পর সাগরের নিচে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এর খোঁজ পাওয়া যায়। বিমান চালানোর অত্যাধুনিক ব্যবস্থা কাজ না করায় বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আটলান্টিকের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়।

১০ এপ্রিল, ২০১০: পোল্যান্ডের বিমান বাহিনীর একটি বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্টসহ ৯৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। সরকারি তদন্তে দুর্ঘটনার জন্য পাইলটকে দায়ী করা হয়।

২৫ মে, ২০০২: তাইওয়ান থেকে হংকংগামী এক বিমান ফ্লাইট ৬১১ মাঝ আকাশে বিকল হয়ে পড়লে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২২৫ জনের সবাই নিহত হন।

২১ ডিসেম্বর ১৯৯৮: সন্ধ্যার কিছু পর দক্ষিণ স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরে ভেঙে পড়েছিল প্যান-এম ফ্লাইট ১০৩-এর বোয়িং ৭৪৭-১২১ বিমানটি। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের কেনেডি বিমানবন্দরগামী বিমানটির ২৫৪ জন যাত্রী এবং ১১ ক্রু নিহত হন।

১২ নভেম্বর, ১৯৯৬: ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে সৌদি এবং কাজাখস্তান এয়ারলাইন্সের দুটি বিমানের সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন দুই বিমানের ৩৪৯ জন।

১৭ জুলাই, ১৯৯৬: নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ট্রান্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়। এতে ২১২ জন যাত্রী এবং ১৮ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

১১ জুলাই, ১৯৯১: সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই আগুন ধরে যায় নাইজেরিয়ান এয়ারওয়েজের ‘ডিসি-৮’ বিমানটিতে। ২৬১ জন যাত্রী ও ক্রুর সবাই নিহত হন।

২৬ মে, ১৯৯১: ‘লডা এয়ার’র একটি বোয়িং-০১৭৬৭ বিমান উড্ডয়নের ১২ মিনিটের মাথায় আকাশেই বিকল হয়ে যায়। ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমে এটি বিধ্বস্ত হলে ২২৩ জন যাত্রী এবং ক্রুর সবাই নিহত হন।

১২ আগস্ট, ১৯৮৫: একক বাণিজ্যিক বিমানে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এটি। জাপান এয়ারলাইন্সের বিমানটি টোকিও থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই দেশটির পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হলে ৫২০ জন নিহত হন। বিস্ময়করভাবে প্রাণে বেঁচে যান চার যাত্রী।

২৮ নভেম্বর, ১৯৭৯: নিউজিল্যান্ডের ডিসি-১০ বিমান অ্যান্টার্কটিকায় বিধ্বস্ত হলে ২৫৭ জন যাত্রী এবং ক্রুর সবাই নিহত হন।

২৫ মে, ১৯৭৯: আমেরিকার মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা এটি। শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ডিসি-১০ বিমান উড্ডয়ন শুরু করলে রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটির কারণে বাম পাশের ইঞ্জিনটি খুলে পড়ে। এতে নিহত হন ২৭৩ জন।

২৭ মার্চ, ১৯৭৭: স্পেনের টেনেরিফে নর্থ এয়ারপোর্টে কেএলএম রয়েল ডাচ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং-৭৪৭ বিমান উড্ডয়ন শুরু করার ঠিক পরপরই ‘প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ’-এর অপর একটি বোয়িং-৭৪৭ বিমানের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে দুই বিমানের মোট ৫৭৪ জনই নিহত হন।

৩ মার্চ ১৯৭৪: দুর্ঘটনার কবলে পড়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ‘ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০’ বিমানটি। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই এরমেওনভিলে একটি পার্কে আছড়ে পড়লে ৩৩৫ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।