আজকের বার্তা | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

আমতলীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ!

প্রকাশিত : মার্চ ০৯, ২০১৮, ০০:৪৩

আমতলীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ:  নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ!

 

আমতলী প্রতিনিধি ॥ বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মুন্সির হাট থেকে চালিতাবুনিয়া পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে কাজ করছে। দরপত্রে উল্লেখিত কার্যাদেশ অনুসারে কাজ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারের নি¤œমানের কাজের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও ঠিকাদার সড়কের কাজ ফেলে রেখেছেন। ঠিকাদার বশির উদ্দিনের অভিযোগ, স্থানীয় লোকদের চাঁদা দিয়ে কাজ করতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা স্থানীয়দের চাঁদা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।  আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে সিসিআরআইপি প্রকল্পের অধীনে মুন্সির হাট থেকে চালিতাবুনিয়া পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার সড়কের কাজের দরপত্র আহবান করে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস। ৩ কোটি ৬ হাজার ১৬৫ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় পটুয়াখালী এমকেকেইঅ্যান্ডএমবিইউ যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজের মধ্যে ছিল ২.৫ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ, একটি কালভার্ট ও একটি ব্রিজ। এ কাজের মেয়াদ গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়। ওই বছর ঠিকাদার সড়কের সাব-বেইজের জন্য বেড কেটে ফেলে রাখেন। কাজের মেয়াদ ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কাজ না করে ফেলে রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  দরপত্রের কার্যাদেশে এজিনসহ সড়কের প্রস্থ ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি, ২১ ইঞ্চি বেডের ১০ ইঞ্চি বালু, ৫ ইঞ্চি সাববেইজ (বালু ও ইটের খোয়া), ৫ ইঞ্চি ম্যাগাডাম (ইটের খোয়া) ও ১ ইঞ্চি কাপের্টিংয়ের (পাথর ও পেইজ) কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে। নির্মাণ কাজের শুরুতেই সড়কের কার্যাদেশ অনুসারে কাজ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, এমন অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলামকে জানানোর পরেও তিনি স্থানীয়দের অভিযোগ আমলে নেননি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঠিকাদার গত বছর নাম মাত্র বেড কেটে রেখে দেন। এ বছর ওই বেডে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করা হয়। প্রতিবাদ করায় উল্টো স্থানীয়দের হুমকি দিচ্ছেন ঠিকাদার। স্থানীয় বাহাদুর হাওলাদার, সোহেল রানা, আবদুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের কাজের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুন্সির হাট বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজের দুটি পিলার নির্মাণ করে রেখে দিয়েছেন ঠিকাদার। চালিতাবুনিয়া গ্রামের ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে সাব-বেইজ ও এজিনে নিম্নমানের ইট ও খোয়া দিয়ে কাজ করা হয়েছে। কাদার প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আতাউল্লাহ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘দরপত্র অনুসারে কাজ করছি।’ নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, দরপত্রে  নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে এজিন ও সাববেইজ করার কথা উল্লেখ আছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে কাজের ৫ ভাগের ১ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার বশির উদ্দিন বলেন, ‘দরপত্রের কার্যাদেশ অনুসারে কাজ করছি। কোনো অনিয়ম করিনি। তবে ওই এলাকার বিভিন্ন লোকজনকে চাঁদা দিয়ে কাজ করতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন জনকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছি।’ আঠারোগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘আমি ঘুরে দেখেছি সড়ক নির্মাণ কাজে বিভিন্ন অনিয়ম রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে কাজ করছে তাতে ৩ মাসও সড়ক টিকবে না।’ তিনি সড়কের কাজ তদারকির জন্য বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।  আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম কাজের অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।’ নিম্নœমানের কাজে প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম কবির হোসেন বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে জেনে উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া কাজের জন্য আনা নিম্নমানের ইট এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি।’

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।