আজকের বার্তা | logo

১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

অস্তিত্ব সংকটে ১৩ নদী

প্রকাশিত : মার্চ ২৪, ২০১৮, ২০:০৮

অস্তিত্ব সংকটে ১৩ নদী

নাব্য সংকটে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে রংপুরের ১৩ নদ-নদী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ড্রেজিং না করায় পলি জমে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং চাষাবাদ করায় নদীগুলো শীর্ণদশা থেকে ধীরে ধীরে মরা নদীতে পরিণত হচ্ছে।

ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, এরই মধ্যে রংপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে চারটি নদী। প্রমত্তা তিস্তা এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হারিয়ে যাবে জীববৈচিত্র্য। ভয়াবহ মরু প্রক্রিয়ার কবলে পড়বে রংপুর। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট-বড় নদ-নদীর সংখ্যা ১৩টি। এগুলো হলো— তিস্তা, বুড়ি তিস্তা, আখিরা, যমুনেশ্বরী, ঘাঘট নদ, খোকসা ঘাঘট, মানাস, ইছামতি, আলাই কুমারী, বুড়াইল, বুল্লাই, টেপা, ধুম নদী। বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীগুলোতে পানি থাকলেও বছরের বাকি সময় থাকে শুকনো। পাউবো জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ-ভারত মন্ত্রী পর্যায়ের চুক্তি অনুযায়ী তিস্তার পানির ৩৮ শতাংশ ভারত এবং ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। আর নদীর নাব্য ঠিক রাখতে ২৬ শতাংশ পানি রিজার্ভ রাখা হবে। কিন্তু সেটি চুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। উল্টো তিস্তা ব্যারাজের উজানে ভারত গজল ডোবায় বাঁধ দিয়ে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিস্তায় পানি প্রবাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে নাব্য হারিয়ে প্রমত্তা তিস্তা এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে নদীর দেড়শ কিলোমিটার এলাকা এখন মরা গাঙ্গে পরিণত হয়েছে। যৌবন হারা তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। যতদূর চোখ যায় শুধু ধু-ধু বালুচর। তিস্তার বুক চিরে এখন নৌকার পরিবর্তে নানান রকমের যানবাহন চলাচল করছে। চরে বিভিন্ন ধরনের ফসলেরও আবাদ হচ্ছে। শুকনো বালুর ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রথম ও দ্বিতীয় তিস্তা সড়কসেতু এবং তিস্তা রেলসেতু। নাব্য সংকট ও দখলের কারণে বুল্লাই, টেপা, ধুম ও ইছামতি নদী রংপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। অস্তিত্ব হুমকিতে রয়েছে তিস্তা, বুড়ি তিস্তা, আখিরা, যমুনেশ্বরী, খোকসা ঘাঘট, মানাস, আলাই কুমারী, বুড়াইল নদী ও ঘাঘট নদ। রংপুরের আদি শহর মাহিগঞ্জে ইছামতি নামে একটি নদী ছিল। যে নদীতে এক সময় নৌকা চলত। কলকাতার কোচবিহার, জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ীরা নৌকা ও বজরায় করে রংপুরে বাণিজ্য করতে আসতেন। ইছামতির বুক চিরে মাছ আকৃতির বাহনে সওয়ার হয়ে এসেছিলেন হযরত শাহজালাল বোখারী (রহ.)। মাছ আকৃতির বাহনে সওয়ার হয়ে এসেছিলেন বলেই মাহিগঞ্জের নামকরণ হয়েছে। এই নদীর পাশেই তার মাজার। দুই ধার দখল করে চাষাবাদ ও বসতি গড়ে তোলায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে ইছামতি। রংপুর নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ঘাঘট নদ। সেই ঘাঘটের ঘাটে ভিড়ত অসংখ্য বাণিজ্য তরী। দখল হয়ে যাওয়ায় ৫০ ফুট প্রশস্ত ঘাঘট নদ এখন ১০ ফুটে এসে ঠেকেছে। রংপুর পাউবোর পানি বিজ্ঞান শাখার (হাইড্রোলজি বিভাগ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ বলেন, দেশের নদ-নদীগুলোতে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টন (৫৫২ লাখ ঘনমিটার) পলি-বালি জমে। নদ-নদীগুলোকে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হলে প্রতি বছর ৫১৮ ঘনমিটার পলি-বালি ড্রেজিং করা দরকার। করা হয় মাত্র ৯০ লাখ ঘনমিটারের মতো। কিন্তু গত ৪৭ বছরে রংপুরের কোনো নদ-নদী ড্রেজিং করা হয়নি। রিভাইন পিপলের পরিচালক ও নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, আমাদের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আছে, কিন্তু তাকে কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

১২টি বিষয়ে শুধু সুপারিশ করার কথা বলা হয়েছে। ফলে নদ-নদী রক্ষা করার জন্য আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শক্ত কোনো অবস্থানে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনরা নদী দখল করে স্থাপনা তৈরির পাশাপাশি ফসলের আবাদ করায় নদ-নদীগুলো অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব বলেন, রংপুরের নদ-নদীগুলো যাতে রক্ষা করতে পারি সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদ-নদীগুলোর নাব্য ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আজিজ মোহাম্মদ চৌধুরী এ অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর করুণ দশার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের যদি বাঁচতে হয় আর দেশকে বাঁচাতে হয়, তাহলে সবার আগে নদ-নদীকে বাঁচাতে হবে। নদ-নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ না থাকলে দেশ বাঁচবে না। এরই মধ্যে এ অঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।