আজকের বার্তা | logo

৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

ভোলায় নির্মিত হচ্ছে ৯৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ১২:৪৫

ভোলায় নির্মিত হচ্ছে ৯৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র

ভোলা প্রতিনিধি: দ্বীপ জেলা ভোলা উপকূলীয় বৈরি আবহাওয়া মোকাবেলায় ভোলার সাত উপজেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে এসব স্কুল কাম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মিত হবে।

এসব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন করবে বিশ্ব ব্যাংক। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর নিচতলা ফাঁকা রেখে তৃতীয় তলা পর্যন্ত করা হবে। দুর্যোগকালে প্রতিটি কেন্দ্রে দুই হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোলা উপকূলীয় জেলা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এখানে সাইক্লোন শেল্টার অতি গুরুত্ব বহন করে। দুর্যোগের সময় এসব আশ্রয় কেন্দ্রই হয়ে ওঠে সাধারণ  মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতিটি কেন্দ্র বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ৯৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা করে। এ ছাড়া জেলায় একই প্রকল্পের মাধ্যমে ২২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ৪২টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। দুর্যোগের সময় সকল টিউবয়েল পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্যোগের আতঙ্ক অনেটাই কমে আসবে বলে মনে করেন এলজিইডির এই প্রধান কর্মকর্তা।

একাধিক সূত্রমতে, আধুনিক ডিজাইনের এসব সাইক্লোন শেল্টারে সরাসরি অসুস্থ রোগীকে র‌্যামের মাধ্যমে দোতালায় ওঠানো, গরু-ছাগল রাখা, বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব সাইক্লোন শেল্টারে জলোচ্ছ্বাসের সময় পানি সহজে সরে যাওয়ার জন্য নিচতলা ফাঁকা রাখা হয়েছে। আর দুই তলা ও তিন তলায় অন্যান্য সময় যখন ঘূর্ণিঝড় থাকবে না তখন স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া দুর্যোগের সময় এখানে মানুষ, গবাদি পশু, প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ  জিনিসপত্রসহ অবস্থান করতে পারবে। সরকারের নতুন নতুন এসব আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনে দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

জেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক মো.  শাহাবুদ্দিন মিয়া আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন করে ৯৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ উপকূলবাসীর জন্য একটি ভালো খবর। জেলায় বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে চার শতাধিক সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। দুর্যোগ মুহূর্তে এসব কেন্দ্রে চার লাখেরও বেশি মানুষ অবস্থান করতে পারে। এসব শেল্টারের অবস্থাও বেশ ভালো। সরকারের নতুন করে ৯৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ভোলার দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় অনেক কাজ দেবে।’ তবে আমাদের চরাঞ্চলগুলোতে আরো সাইক্লেন শেল্টার নির্মাণ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষ আগের চেয়ে দিন দিন সচেতন হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষ আগাম সতর্কতা সংকেত পাচ্ছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক কম হচ্ছে বর্তমানে।

জেলার মোট ৯৬টি সাইক্লোন শেল্টারের মধ্যে সদর উপজেলায় নির্মিত হবে ১৭টি। এর মধ্যে শিবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৯ নম্বর দক্ষিণ রতনপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে একটি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে। আর এই খবরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জনসাধারণ। তারা বলছেন, এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। সাইক্লেন শেল্টার হলো ঝড়ের সময় অন্যতম প্রধান নিরাপদ স্থান। তাই এখানে নতুন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণকে সরকারের একটি সময়উপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তারা।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।