আজকের বার্তা | logo

৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৪ই আগস্ট, ২০১৮ ইং

ভাষা আন্দোলনের অমর গান বরিশালেই সৃষ্টি

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১৭:৩৬

ভাষা আন্দোলনের অমর গান বরিশালেই সৃষ্টি

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে যেমন বরিশালবাসী সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন তেমনি ভাষা আন্দোলনের গানেও বরিশালের ভূমিকা ছিল অন্যতম। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’ বিখ্যাত এ গানের গীতিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং সুরকার আলতাফ মাহমুদ দু’জনই বরিশালের কৃতি সন্তান।

 

এছাড়া সেই বিখ্যাত গান ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালী ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি’ কিংবা ‘ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়, ওরা কথায় কথায় শিকল পড়ায় আমার হাতে পায়….’ সাড়াজাগানো গানের গীতিকার ও সুরকার বরিশালের আরেক সঙ্গীত সাধক আব্দুল লতিফ। এদের গণসংগীতই পরবর্তীতে সাধারণ মানুষকে একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।

 

বরিশালের চারণ কবি মুকুন্দ দাসের গান বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছিলো। মুকুন্দ দাসের গান শুনে মানুষ বিদেশী পণ্য বর্জন করেছিলেন। বৃটিশরা বিভেদ সৃষ্টির জন্য কূটচাল হিসেবে হিন্দুদের জন্য ভারত ও মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র গঠণ করে। শুরু থেকেই পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী শোষণ করতে থাকে বাঙালীদের। যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালীর ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা করা হয়, তখন গর্জে ওঠে বাংলার ছাত্র-জনতা। উন্মেষ ঘটে বাঙালী জাতীয়তাবাদের। তারা বুঝতে পারে প্রকৃতি বাঙালীদের একই আকৃতির ছাপে, একই ভাষা দিয়ে সৃষ্টি করেছে।

 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে। শহীদের স্মরণে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী গান লিখেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’। প্রথমে গানটির সুর দিয়েছিলেন আব্দুল লতিফ। তার বাড়িও বরিশালের রায়পাশা কড়াপুর গ্রামে। বর্তমানে আমরা যে সুরে গানটি শুনি বা গেয়ে থাকি তার সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদ। তার সুরটিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 

বরিশালের মুলাদী থানার পাতারচর গ্রামের এএম নেজাম আলীর পুত্র আলতাফ মাহমুদ (ডাকনাম ঝিলু) ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের একদিন বরিশাল নগরীর শ্রীনাচ্যাটার্জী লেনের একটি দোতালা টিনের বাড়িতে আসেন। ওই বাড়িটি ছিল প্রগতিশীল সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টির ডেন অর্থাৎ মেস। এখানে চলতো প্রগতিশীল ছাত্র-জনতার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। মনের খেয়ালেই তিনি (আলতাফ মাহমুদ) বেহালায় বর্তমান সুরটি তোলেন। এর কিছুদিন পরে সদর রোডের শিল্পী সংসদে বসে (বর্তমান রূপালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায়) হারমোনিয়ামে গানটি নতুন সুরে গাইলেন। তখন তবলা বাজিয়ে ছিলেন নারায়ণ সাহা। নতুন সুরে গানটি শুনে উপস্থিত সবাই বিমোহিত হলেন। ওই বছরই ২১ ফেব্রুয়ারী পালন করা হয় ওই শিল্পী সংসদে।
তখন মাইক ছিল দুস্প্রাপ্য। তবুও মাইক জোগার করা হল। আলতাফ মাহমুদ তার দেয়া সুরে গাইলেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’। তার সাথে কোরাস গাইলেন বিএম স্কুলের শিক্ষক চন্দ্রশেখর বাবু, বরুণ বর্মন, রমিজুল হক চুন্নু, মামুনুর রশিদ ও আলম। ৫৪’তে আলতাফ মাহমুদ বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।

 

এরপরই প্রতিষ্ঠা পায় বর্তমান সুরটি। তা হয়ে ওঠে বাঙালীর আবেগের গান, প্রাণের গান হয়ে। তৎকালীন সময়ে গ্রামফোন রেকর্ডেও গানটি শোনা যেতো। শিল্পী আব্দুল লতিফও আলতাফ মাহমুদের সুরকে প্রশংসা করেছিলেন।

 

অপরদিকে আব্দুল লতিফ অমর হয়ে রয়েছেন ‘ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়’ এবং ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালী, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি’ এই গান দুটি গেয়ে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই আসে উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, সর্বোপরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।