আজকের বার্তা | logo

৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং না নির্যাতন?

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮, ১১:০৮

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং না নির্যাতন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্যাম্পাসে প্রথম পা রেখেই র‌্যাগিং নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নবীন শিক্ষার্থীরা। অবস্থা দিন দিন বেড়েই চলছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) কর্তৃপক্ষ র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় সেখারে নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতনের সাহস পান না পুরনোরা। কিন্তু অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা ভিন্ন এবং খুবই নাজুক। জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, শাহজালাল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়ে এ অবস্থা চরম নাজুক।

জাবির এক শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি এখন তার বাবা-মাকেই চিনতে পারছেন না। আর রাবিতে এক ছাত্র পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।

জানা গেছে, র‌্যাগিং শব্দের প্রচলিত অর্থ হচ্ছে ‘পরিচয়পর্ব’। অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুরাতন শিক্ষার্থীদের একটা সখ্য গড়ে তোলার জন্য যে পরিচিতি প্রথা সেটাকে র‌্যাগিং বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু বর্তমানে যে র‌্যাগিং হচ্ছে তা এককথায় টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতনের মতো। এতে পরিচয়ের নামে পুরনো শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হুকুম পালন করতে হয় নতুনদের। পালন না করলেই শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। এর মধ্যে রয়েছে- ‘পুরনো শিক্ষার্থীরা তাদের থুথু মাটিতে ফেলে নতুনদের তা চাটতে বলে’। ‘কান ধরে উঠবস করতে বলে’। ‘বড় ভাইদের পা ধরে সালাম করার মাধ্যমে সম্মান করতে বলে।’ এসব না করলে মা বোনকে তুলে গালি দেওয়া হয় এবং নির্যাতন চালানো হয়।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম র‌্যাগিং অত্যাচারের শিকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মিজানুর রাহমান মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা এতটাই খারাপ যে সে তার বাবা-মাকে পর্যন্ত চিনতে পারছে না। মিজান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

গত বুধবার দুপুরে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা (৪৬ ব্যাচ) প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য (সিটিং) ডাকে। সেখানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র‌্যাগিং) করে। এ সময় মিজানকে আপত্তিকর কাজ করতে বলা হয়। না করায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া তাকে তার আবাসিক হল (শহীদ সালাম বরকত হল) ছেড়ে আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হলে ওঠার নির্দেশ দেওয়া হয়। কামালউদ্দিন হলে না উঠলে তাকে হত্যা ও গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারও তাকে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা মানসিক নির্যাতন করে ও হুমকি দেয়। যার কারণে নবীন শিক্ষার্থী মিজানুর ভয় পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

এমন অবস্থায় পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে মিজানুরের বাবা ও চাচা ক্যাম্পাসে আসেন। মিজানুর তারা বাবা ও চাচাকে প্রথমে চিনতে পারছিল না। অনেক পরে চিনতে পারে। এ সময় ছেলের এমন অবস্থা দেখে চাপা কান্নায় ভেঙে পড়েন মিজানুরের বাবা।

চাচা জয়নাল আবেদীনের কাছে মিজানুরের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিজানুরের অবস্থা খুবই খারাপ। সে কোনো স্বজনকেই চিনতে পারছে না। এমনকি কাউকে দেখলেই সে ভয় পাচ্ছে।  র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে শুক্রবার রাত ১টার দিকে বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের মামুন, হিমেল, সুদীপ্ত ও ক্লাস প্রতিনিধি আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদকারী ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। তবে তাদের কথা শুনে যতটুকু বোঝা গেছে তারা র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এদিকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

রাবি শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস ত্যাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ অনার্স প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ বিন ইসমাঈল র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছেন। নিজ বিভাগের সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষার্থী ফাহাদকে র‌্যাগ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী ফাহাদ তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, র‌্যাগের প্রভাব যেন আর কোনো মা-বাবার ওপর না পড়ে। আমি নিজের মর্যাদাহানি করতে পারব, কিন্তু আমার মা-বাবাকে অপমানিত হতে দেব না। তাই আমার স্বপ্নকে ছাড়তে সম্মত হলাম। বিদায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।’

কুয়েটে চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০১৬ ব্যাচের ছাত্রদের ওপর র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারা হলেন- লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং (এলই) বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্র আ স ম রাগিব আহসান মুন্না, একই বিভাগের হুমায়ুন কবিরকে, ইউআরপি বিভাগের তরিকুল ইসলাম রাতিনকে বহিষ্কার করা হয়।

শাবি ছাত্রী ক্যাম্পাস ত্যাগ
র‌্যাগিংয়ের নামে সিনিয়র বড়ভাইরা যৌন হয়রানি করায় ২০১৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে চলে যান এক ছাত্রী। এ ঘটনায় গণিত বিভাগের ৩ শিক্ষার্থীসহ ৫ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করলে ওই ছাত্রী আরও চাপ অনুভব করেন। পরে তিনি আর শাবিতে পড়ালেখার জন্য আসেননি।

ইবি ছাত্রের হলত্যাগ
গত বছরের ৩১ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মো. আল আমিন নামে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের নবাগত এক শিক্ষার্থীকে রাতভর র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি যশোরের নওয়াপাড়ায়। ওই শিক্ষার্থী জানান, ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরে হাসান ম্যানসন্স মেসে উঠি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেসে অবস্থানরত বড় ভাইয়েরা আমাকে ডেকে মেসের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। তারপর শুরু হয় র‌্যাগিং। তারা আমাকে একের পর এক আপত্তিকর প্রশ্ন করতে থাকে । তার উত্তর দিতে বলে। এসময় আমি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। আমাকে দুই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।