আজকের বার্তা | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বলতে দ্বিধা নেই জয়ের কারণেই ডিভোর্স!

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ১৩:২২

বলতে দ্বিধা নেই জয়ের কারণেই ডিভোর্স!

শাকিব খানের ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন অপু। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হচ্ছে তাদের। বিয়ে ডিভোর্স আর ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে অপু বিশ্বাস কথা বলেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন— রণক ইকরাম

 

কেউ কেউ বলেন আপনি খুব বেশি প্রচারণা খোঁজেন, এটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আমি জানি না এটা কারা বলে। আমি প্রচারণা খুঁজতে যাব কেন? আমি নিজেই একজন প্রচারণার লোক। আমি যেখানে যাই সেখানেই একটি প্রচারণা শুরু হয়ে যায়। আমি অপু বিশ্বাস, লোকে তাদের প্রচারণার জন্য আমাকে নিয়ে যায়। আমি কেন প্রচারণা খুঁজতে যাব?

 

অনেকের অভিযোগ আপনি সব জায়গায় শাকিবকে সেল করার চেষ্টা করেন। শাকিবকে নিয়ে এই বলেন সেই বলেন, শাকিবই নাকি আপনার প্রচারণার মূলধন।

যারা বলে তারা ভুলে যায় কেন শাকিব আমার স্বামী। আর তাদের আমি বল শাকিব কিংবা আমার দিকে তাকিয়ে নয়, শাকিবের সন্তানের দিকে তাকিয়ে একবার কথা বলতে বলুন। শাকিব খানের যে একটি বাচ্চা আছে! শাকিব খানের শরীরের অংশ যে আছে, তাকে ভালোবাসতে বলেন তারপর আমার এসব কথার এক্সপ্লেইন করতে বলুন।

 

আপনি ডিভোর্স মেনে নিয়েছেন। ২২ তারিখ আপনাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে…

আসলে আমার মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি অনেক চেষ্টা করেছি শাকিবের সঙ্গে সংসার করতে। বারবার চেষ্টা করার পরও ব্যর্থ হয়েছি। এমনকি সিটি করপোরেশনের সালিশে গিয়েও বলেছি আমি শাকিবের সংসার করতে চাই। কিন্তু কিছু হয়নি।

 

কেন ভাঙল এত বছরের সংসার?

আসলে এখন আর বলতে দ্বিধা নেই যে, আমার সন্তান জয়ের কারণেই সংসার ভেঙেছে। এই সত্য এখন বাংলাদেশের মানুষ জানে। শাকিব কখনো চায়নি আমার সন্তানের জন্ম হোক। সন্তান বিষয়ে শাকিব আমাকে বারবার বলেছে সন্তান নিলে ডিভোর্স। এই ডিভোর্সের কোনো পরোয়া আমি করিনি। আমি আমার সন্তানের মুখ দেখতে চেয়েছি। ভেবেছি সন্তান এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। শাকিবও সব মেনে নেবে।

 

তার মানে সন্তান জয়ের কারণেই ঘটল সব?

অবশ্যই। শাকিব কখনই চায়নি আমার সন্তান আলোর মুখ দেখুক। এখন বাচ্চার জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। আমি যখন প্রেগন্যান্ট ছিলাম আমার পাশে কেউ ছিল না। এমনকি বাচ্চার জন্মের পরও আমি একা একা ওকে নিয়ে চলেছি। অন্যের পরিচয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি। এসব তো মিথ্যে নয়।

 

শাকিব বলেছেন আপনি সবার কাছে তাকে ছোট করেছেন…

আমার আর উপায় ছিল না। আমি অনেকভাবে শাকিবকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বাচ্চার কথা বলেছি। শাকিব কোনো কিছুই মানতে রাজি ছিল না। তখন আমার নিজের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। আমার সন্তানের স্বীকৃতি ছিল না। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বেদনার আর কী হতে পারে। আমার কাছে উপায় ছিল না বলেই আমি গণমাধ্যমে এসে মুখ খুলেছি। এটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার কোনো সুযোগ নেই।

 

শাকিব বলেছেন অপু ক্ষমা চাইলেই সব ঠিক হয়ে যেত। তার মানে আপনি কী ফেরার চেষ্টা করেননি?

এটা গণমাধ্যম সবচেয়ে ভালো জানে। আমি কতবার স্যরি বলেছি। ক্ষমা চেয়েছি। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শাকিব কিছুই কানে তোলেনি। আসলে আমার কাছে শাকিবের মতো রেকর্ডিং নেই যে আমি প্রমাণ করব স্যরি বলেছি। শুধু বলতে চাই আমি বরাবরই শাকিবের স্ত্রী থাকতে চেয়েছি। সব কিছুর ঊর্ধ্বে ও আমার সন্তান জয়ের বাবা। এ সত্যকে কোনোভাবে মোছার সুযোগ নেই।

 

এখন যদি শাকিব ফিরতে চান তাহলে আপনি কী করবেন?

ওমা, আমার বাচ্চা আছে না! ও বাচ্চার বাবা না! গ্রহণ করা না করার কি আছে? যা হওয়ার তা তো বাচ্চার সঙ্গে গ্রহণ হয়েই গেছে। যেখানে বাচ্চা থাকে সেখানে গ্রহণ করা না করার কথা আসে! বাচ্চাটা কার? বড় হয়ে কার পরিচয় দেবে? কার আদর থেকে ও বঞ্চিত হচ্ছে? আমি সব সময়ই আমার বাচ্চাকে প্রাধান্য দিই। কারণ, আমার জীবনে যা অর্জন হয়েছে! তা অনেক। আর শাকিবকে আমি কখনই অস্বীকার করিনি। করতে চাইও না।

 

একাধিক নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আপনি বলেছিলেন ফিট না হয়ে ফিরবেন না। এখন কী নিজেকে ফিট মনে করছেন?

না আমি এখনো ফিট নই। ইনফ্যাক্ট আমার পরিচালকরাও আরও দেড়-দুই মাস পর থেকে কাজ শুরু করবেন। আমি সত্যি দর্শকদের হতাশ করতে চাই না। নিজেকে শতভাগ তৈরি করার পরই পর্দায় ফিরব।

 

কতগুলো ছবি হাতে আছে?

ওপারের চন্দ্রাবতী নামের ছবিটির মহরত হলো সেদিন। চ্যানেল আইয়ের দুটি ছবি করছি। আর আরটিভির শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২ এর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।

 

বাচ্চাকে বড় করে কী বানাতে চান?

না না না.. এমন কোনো স্বপ্ন এখনো দেখিনি। তবে এরকম ইচ্ছে আছে আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দান করেন, আমি যেন ওকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারি। যে মানুষটা আমার শ্বশুর-শাশুড়ি শাকিবকে করতে পারেননি। আমি যদি আমার বাচ্চাকে সে রকম মানুষ না করতে পারি আল্লাহ যেন আমাকে ওই দিনই পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেন। আমি একটি কমিটমেন্ট করেছিলাম, তা রাখতে পারিনি, আল্লাহ যেন আমাকে উঠিয়ে নেন। না হলে আমি নিজেই আত্মহত্যা করব। কারণ, আমি আমার ছেলেকে মানুষ করতে পারিনি।

 

আমরা জয়ের কথা জানলাম, এখন আপনি সামনের দিনগুলোর কথা বলেন।

যেহেতু আমি বেশ কিছু সিনেমা সাইন করে ফেলেছি। আসলে প্রতিটি মানুষকে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে বাঁচতে হয়, আর বাঁচার মূলমন্ত্র হচ্ছে নিজের পরিবার। নিজের পরিবারের মধ্যে জয় আছে এটা তো সবাই জানেন। জয় ছাড়া আমার কিছু নেই। জয়ের জন্য আমি সব ধরনের আত্মত্যাগ করতে রাজি আছি। এর পরের দিকটি হলো, আমি তো আসলে পড়াশোনায় খুব একটা এগুতে পারিনি যেমন- ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী হতে পারিনি। কিছু হতে পারিনি তাতে কি! শিক্ষাটা যদি থাকত অবশ্যই আমি আমার পেশায় ফিরে যেতাম। যেহেতু আমি শিখেছি অভিনয়, শিখেছি আমি নাচগান, অভিনয় আমার পেশাই হয়ে গেছে। তাই আমি এই পেশাটাকেই ভালোবাসি। সব কিছু মিলে আমি এখানেই (অভিনয়) সুখে থাকতে চাই।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।