আজকের বার্তা | logo

৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বরিশালে বর্জ্যের গন্ধে বাড়ি-ঘর ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ!

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৮, ১৩:৪৭

বরিশালে বর্জ্যের গন্ধে বাড়ি-ঘর ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ!

অনলাইন ডেক্সঃ বরিশাল সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর প্রান্তের ২০ সহস্রাধিক মানুষ। ময়লা-আবর্জনার পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া, দুর্গন্ধ ও বর্জ্য থেকে চুইয়ে পড়া নোংরা পানিতে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে পরিবেশ। ফলে ওই এলাকার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগব্যাধিতে। বর্তমানে কেবল মানুষই নয়, ওই এলাকার পশুপাখি, গাছপালাও হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিসিসি স্বীকার করেছে, এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ছে নগরীর তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে। ভয়াবহ এ দূষণ মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। যার দরুন, মুক্তি পেতে এলাকা ছাড়ার পথ খুঁজছে ডাম্পিং স্টেশনের আশপাশের মানুষ।

“সংগ্রহীত ছবি”

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের ময়লা পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে কার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সিসাসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। এ ধোঁয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের বেশি ক্ষতি হয়। এসব এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর উত্তরাংশের ১, ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২০০০ সালের শেষের দিকে ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র অনুযায়ী পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন করার কথা থাকলেও গত ১৫ বছরেও সেটি পারেনি। ফলে ধীরে ধীরে ওই এলাকার জনগণের জীবন বর্জ্যরে বিষে হুমকির মুখে পড়েছে। এ কলেজের ইংরেজি প্রভাষক ইসমাইল হোসেন জানান, খোলা পরিবেশে ময়লা রাখা হয়। এতে তার কলেজ সহ শেরেবাংলা নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজের ছাত্রাবাস, দুটি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়েছে। ময়লাখোলার আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় এক হাজার পরিবারের বসবাস। তাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, পশু-পাখি মারা যাচ্ছে। তিনি আজকের বার্তা’কে বলেন, ওই এলাকার হোসনাবাদ, পুরানপাড়া, উত্তর কাউনিয়া হাউজিং, চরবাড়িয়া, সাপানিয়া, উলালঘুনির মানুষ এই বর্জ্য-বিষের শিকার। পার্শ্ববর্তী সাপানিয়া খাল থেকে বর্জ্য যাচ্ছে কীর্তনখোলা নদীতে। সেখানকার বাসিন্দা সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগেও তিনি তার বাবাকে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়েছেন এই ভাগাড়ের দূষণের কারণে। আশপাশের পরিবারগুলোর বসবাসই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ২০১৫ সালে বিসিসি একটি ছাড়পত্র নিয়েছিল যে, তারা কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল প্রজেক্ট করবে। কিন্তু সেটি আর বাস্থবায়ন হয়নি। ফলে স্থানীয়রা অভিযোগ দিয়েছেন একাধিকবার। তারাও সিটি করপোরেশনকে ডাম্পিং স্টেশনটি একটি সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনার তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান। সহকারী পরিচালক আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনা যেখানে ফেলা হচ্ছে সেখানে তরল পদার্থের জন্য ইটিপি, কঠিন বর্জ্যরে জন্য ইনফিনারেশন করা উচিত। কিন্তু এসব উদ্যোগ না নেওয়ায় ওই এলাকার আশপাশের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

“সংগ্রহীত ছবি”

বরিশাল ‘নদী খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’র সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নগরীর একাংশের মানুষের জীবন এখন ময়লা-আবর্জনার দূষণে হুমকির মুখে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা আজকের বার্তা’কে জানান, ডাম্পিং স্টেশনের উন্নয়নে তেমন কিছুই করা হয়নি। তারা নতুন জায়গা খুঁজছেন।

তিনি আজকের বার্তা’কে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছিল, সেটি বাস্থবায়ন করা যায়নি। ফলে আশপাশের আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আজকের বার্তা’কে বলেন, দৈনিক দেড়শ টন ময়লা সেখানে ফেলতে হয়। বর্জ্য খালে পড়ছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে।

মেয়র আহসান হাবিব কামাল আজকের বার্তা’কে বলেন, ‘জায়গার সংকটের কারণে ডাম্পিং স্টেশনটি এই মুহূর্তে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য রিসাইক্লিনিং করার বিষয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থাকে প্রস্থাব দেওয়া হয়েছে।

 

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।