আজকের বার্তা | logo

৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বরগুনায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শিশু-কিশোরদের নির্ঘুম রাত

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮, ১২:৩০

বরগুনায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শিশু-কিশোরদের নির্ঘুম রাত

ঘড়ির কাটায় রাত ১টা। চোখে ঘুম নেই, নেই ক্লান্তির ছাপ, অপেক্ষা শুধুই ভোর হওয়ার। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ বেদীতে ফুল দিলেও ওদের মূল আনুষ্ঠানিকতা সকালে। বলছি একদল দুরন্ত শিশু ও কিশোরের কথা। সবারই বয়স ১০ থেকে ২০ এর মধ্যে। সবাই নির্ঘুম রাত জাগছে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বয়সে ছোট হলেও, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে একটুও কার্পণ্যতা নেই ওদের।

২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গভীর রাতে বরগুনার প্রান্তিক জনপদে ঘুরে ঘুরে এ রকমই হাজারো দুরন্ত শিশু ও কিশোরের মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের দৃশ্য চোখে পড়ে।

ইট-পাথরের শহীদ মিনার গড়ার সামর্থ্য নেই ওদের। আছে বুক ভরা ভালোবাসা ও ভাষার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা। নিজেরাই চাঁদা দিয়ে শহীদ মিনারকে সুন্দর করতে কিনেছে জড়ি, লাল, সবুজ, নীল হরেক রকম কাগজ। সেগুলো দিয়ে রাতভর শহীদ মিনারকে সুন্দর করে সাজিয়েছে ওরা। পাড়ার বিভিন্ন বাড়ি থেকে ফুল নিয়ে এসেছে শহীদ বেদীকে সুন্দর করে সাজাতে। শেষ মুহূর্তে নিজেদের তৈরি কলা গাছের শহীদ বেদীর খুঁটিনাটি দেখে নিচ্ছে ওরা। ভোর হলেই সকলের শ্রদ্ধায় পূর্ণতা পাবে ওদের শহীদ মিনার।

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের ধূপতি, লাকুরতলা, পৌর শহরের কড়ইতলা, কাঠপট্টিসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, একদল শিশু ও কিশোর রাত জেগে শহীদ বেদীতে বসে আছে। পাশেই সাউন্ড বক্সের বাজছে দেশের গান। চোখে ঘুম নেই কারোরই। সবাই সরব শহীদ মিনারে। কেউ কেউ শেষ বারের মতো শহীদ মিনারের সাজ-সজ্জায় চোখ বুলিয়ে নিয়েছেন। আবার কেউ ব্যস্ত আছেন নতুন কোনো সাজসজ্জার কাজে।

পৌর শহরের কড়ইতলা এলাকায় একটি কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনারে গিয়ে কথা হয় বেল্লাল, নাঈম, রাজু, রাইয়ান, অনিক ও রাফসানের সঙ্গে। প্রত্যেকের কথাতেই ফুটে উঠে শহীদদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা। বইয়ের পাতায় শহীদদের আত্মত্যাগের কথা পড়ে ভাষা শহীদদের প্রতি জন্মেছে তাদের এই শ্রদ্ধা। তাদের মতে, ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের জন্য একটি রাত কোনো বিষয় নয়। এরকম একশো রাত জেগের তাদের ঋণ শোধ করা যাবে না।

এরপর পৌর শহর ছেড়ে এ প্রতিবেদকের যাত্রা শুরু হয় ইউনিয়নের পথে। গৌরিচন্না ইউনিয়নের ভুতমারা নামক এলাকায় চোখে পড়ে কলা গাছের তৈরি শহীদ মিনার।

এখানেই কথা হয় ছোট্ট শিশু শুভ‘র সাথে। শুভ বলেন, আমরা সবাই চাঁদা দিয়ে এই শহীদ মিনারের আয়োজন করেছি। মাটি ও কলাগাছ দিয়ে শহীদদের প্রতিকৃতি তৈরি করেছি এটা আমাদের কাছে আনন্দদায়ক।

এখানেই উপস্থিত আরেক শিশু জয় বলেন, বছরের একটি দিন আমরা বিশেষ ভাবে আমাদের মাতৃভাষার স্রষ্টাদের স্মরণ করি। সে রাতে আবার ঘুম কিসের? সারা বছরই তো ঘুমিয়ে থাকি একটি দিন নাই ঘুমালাম।

রাত যতই গভীর হয় এ প্রতিবেদক এগিয়ে চলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নির্ঘুম শিশুদের খবর জানতে। পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলি-গলির অধিকাংশ স্থানেই দেখা মেলে শিশুদের তৈরি কলাগাছের শহীদ মিনার। যে শহীদ মিনারে জড়িয়ে আছে বাংলা ভাষার প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা।

ঘড়ির কাটায় রাত তখন দুটো। শহরের পশ্চিম বরগুনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটো শহীদ মিনারে প্রায় ২৫/৩০ জন শিশু জেগে আছে। সেখানেই আড্ডা জুড়ে দেয় পরিবর্তন ডটকমের এ প্রতিবেদক। বাংলা ভাষা ও ভাষা শহীদদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে পরিবর্তন ডটকমে আপলোড নিউজ পড়ে শোনানো হয় তাদের।

এরপর আবার যাত্রা শুরু দুই চাকার বাহন মটোরসাইকেলে। শুধু শিশুরাই নয় অনেক স্থানে শিশুদের পাশাপাশি জেগে ছিল পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠারাও।

চরকলোনি এলাকায় কথা হয় জলিল হাওলাদারের সঙ্গে। ছেলের সঙ্গে তিনিও নির্ঘুম রাত জাগছেন শীহদ মিনারে।

তিনি বলেন, ওরা সবাই ছোট ছোট এতো অল্প বয়সে ওদের মধ্যে ভাষার প্রতি যে ভালোবাসা লক্ষ করেছি তা আমাকে ঘরে আটকে রাখকে পারেনি তাই ওদের সাথে আমিও রাত জাগছি ওদের ভালোবাসা ও পরিশ্রম দিয়ে তৈরি এই শহীদ মিনারে।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও অকুণ্ঠ ভালোবাসায় ক্ষুদে এই শিশুরা স্মরণ করছে ৫২‘ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদ সেই সকল বীরদের। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মাতৃভাষা বাংলা।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।