আজকের বার্তা | logo

৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদন্ড: তারেকের ১০

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৮, ০১:০১

খালেদা জিয়ার ৫ বছরের  কারাদন্ড: তারেকের ১০

 

বার্তা ডেস্ক ॥ বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা আর টান টান উত্তেজনার মধ্যে পুরান বকশীবাজারে জনাকীর্ণ আদালতে খালেদার উপস্থিতিতে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। ১০ বছর আগে জরুরি অবস্থার মধ্যে দুদকের দায়ের করা এ মামলায় ৬ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের হয়েছে ১০ বছর করে কারাদ-। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ৭২ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার সাজার এই রায় এসেছে ফৌজদারি দ-বিধির ৪০৯ ধারায়, মতায় থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ‘অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ কারণে। আদালত বলেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলেও খালেদা জিয়ার সাজা অন্য আসামিদের তুলনায় কম হয়েছে তার ‘বয়স ও সামাজিক মর্যাদা’ বিবেচনা করে। আসামিদের মধ্যে তারেক মুদ্রা পাচারের এক মামলায় ৭ বছরের সাজার রায় মাথায় নিয়ে গত ১০ বছর ধরে পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানও পলাতক। কারাগারে থাকা সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিনকে রায়ের জন্য সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। সাজা ঘোষণার পর আবারও তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জামিনে থাকা খালেদা জিয়া দুপুরে আদালতে পৌঁছানোর পথে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী তার গাড়ি ঘিরে মিছিল শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছানোর পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। তার পুরো রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হলেও এর সংপ্তিসার ও সাজা ঘোষণার জন্য তিনি সময় নেন ১৫ মিনিটের মত। রায়ের পরপরই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার ভবনে। সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের পর খালেদা জিয়া হলেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সরকারপ্রধান, যাকে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যেতে হল। ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া এই রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ‘অযোগ্য’ হলেও হাইকোর্টে আপিল করলে যেহেতু সাজা স্থগিত হয়ে যাবে, সেেেত্র তার ভোটে দাঁড়াতে আইনি বাধা থাকবে না। দীর্ঘ এই বিচার প্রক্রিয়ায় মামলা থেকে রেহাই পেতে খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেছেন বার বার। তার অনাস্থার কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনবার এ মামলার বিচারক বদল হয়। শুনানিতে হাজির না হওয়ায় তিনবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। এসব কারণে দুদক ও আ’লীগ নেতারা খালেদা জিয়া ও তার আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা বিলম্বিত করারও অভিযোগ করেছেন বহুবার। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, মতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা এই ‘মিথ্যা’ মামলাকে রায় পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তাদের মূল ল রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে খালেদা জিয়াকে ‘সরাতে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার নীলনকশা’ বাস্তবায়ন করা।

খালেদা জিয়ার জন্য কারাগারে দুটি ক :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আসামিদের বাচ্চাদের জন্য একসময় ব্যবহৃত কিডস ডে কেয়ার সেন্টারের তিনতলা ভবনের নিচতলায় দুটি রুমে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রায় ঘোষণা করা হয়। এর আধা ঘণ্টা পর খালেদা জিয়াকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পরিচারিকা ফাতেমাকে তাঁর সঙ্গে রাখার আবেদন করা হয়েছে। তবে সে বিষয়ে কোনো আদেশ জানা যায়নি। বুধবার কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এ ছাড়া গতকাল থেকেই ওই এলাকায় জনসাধারণের চলাচলেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে খালেদার রায়ের খবর :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। গতকাল সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া এ দ-ের খবর বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। বিবিসির অনলাইন সংস্করণে ‘দুর্নীতির মামলায় দোষী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’ শিরোনামে প্রতিবেদন করা হয়েছে। এতে তার ৫ বছরের কারাদ-ের কথা জানিয়ে বলা হয়, আদালতে দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

পুলিশ-নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় শুনতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশান থেকে বকশিবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন অনেকটা নেতাকর্মী শূন্য অবস্থায়, পুলিশি পাহারায়। গুলশান থেকে রওনা দেয়ার পর খালেদা জিয়ার গাড়ি তেজগাঁও লিংক রোডের সাতরাস্তা মোড় পার হয়ে মগবাজার রেলক্রসিং-এ পৌঁছালে হঠাৎ জড়ো হন হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের বিােভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। নেতাকর্মীদের ভিড়ে ধীর হয়ে যায় গাড়ির গতি। মগবাজার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে সেখানে বিএনপি ও আ’লীগের কর্মীদের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না তাৎণিকভাবে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এরপর গাড়ি বহর কাকরাইল মোড় পার হওয়ার পর মৎস্য ভবন সংলগ্ন এলাকায় আরো কয়েকদফায় বাধে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসময় কাকরাইলের পুলিশ বক্সটি ভাংচুর করা হয়, পাশে থাকা একটি বাইকে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।