আজকের বার্তা | logo

২রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং

কাছে আসার অপ্রিয় সত্য গল্প!

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮, ২৩:৩৪

কাছে আসার অপ্রিয় সত্য গল্প!

১৪ই ফেব্রুয়ারি নাকি কী দিবস? ও ভালোবাসা দিবস। তুমি জানালার পাশে বসে বসে বসন্তের আগমনী বার্তার প্রহর গণনা করছ। ওপাশ ফিরে বান্ধবীর অবস্থা অবলোকন করছ। চুল গুলো খুব পরিপাটি সহকারে বেঁধেছে। দামি দামি প্রসাধনী দিয়ে চেহারাকে সুজ্জিত করেছে শুধু তাই না লাল শাড়িটা পরিধান করে বের হয়েছে বিকেল যে ঘনিয়ে আসছে। জানি তোমার খুব অভিপ্রায় কবে এইভাবে তুমিও বের হবে।

অবন্তিকা, আমার এই পাশ থেকেও থেমে নেই অনেকে হয়তো আজকে রংবেরং এর জামা পড়ে, দামি প্রসাধনী সামগ্রী আর ৫ টাকার গোলাপ টা ৫০০ টাকায় নিয়ে বের হয়েছে। বিকাল যথই ঘনিয়ে আসবে তারা তত কাছে আসবে, মিলিত হবে। ফেসবুকে এসব দিয়ে নিজেদের ভালোবাসা জাহির করবে। সূর্যটা হেলে পরবে এরই ফাঁকে অনেকে ভালোবাসার উচ্চস্তরে পৌছাতে পৌছাতে নিজেরাও হেলে পরবে।

অবন্তিকা একটু ৬০,৭০ কিংবা ৮০ দশকে ফিরে যাও। একটু চিন্তার গভীরে যাও। একটু আংকেল আর আন্টির ভালোবাসাটার দিকে তাকাও। কোনও ঘাটতি কি তুমি খুঁজে পাও! উনাদের মধ্যে এত ভার্চুয়ালিটি নাই। না না কোনও অপবিত্রতা নাই। উনাদের কোন স্পেশাল ডে ও ছিল না। প্রতিটা মুহুর্ত স্পেশাল হয়তো সেটা এখনো আছে, থাকবে। কারণটা কোথায় জান? তাঁদের ভালোবাসা প্রাকৃতিক ভাবে নির্ধারিত ছিল।

এখনকার গুলোকে আমি কি বলব নিজেও বুঝতে পারছিনা। মোহ বলা বা নেশা বলা যায়। নেশা কেটে গেলে তুমিও যাবে কেটে এই টাইপের অবস্থা হয়তো। একটা যাবে একটা আসবে Its an ongoing process বলতে পার। অনেকে হতাশ হবে, অনেকে খুবই আনন্দিত আবার অনেকে ভীত সংকিত। আস এই উপরের ৩(টেনশন,এঞ্জয়,ফ্রাস্ট্রেশিন) টা বিষয় নিয়ে তোমাকে একটা গল্প শোনাই।

হাইকোর্টের একজন আইনজীবীর ছেলেকে পড়াতাম। আংকেল বলেছিল এই যুগের ছেলে-মেয়েরা TEF এর কারণে এডিক্টেট হয়ে পরে। TEF= Tension, Enjoy,Frustration. যখন সে কাউকে পায় না তখন এক পর্যায়ে হয়তো এডিক্টেট হয়ে পরে আবার যখন কাউকে নিয়ে খুব এঞ্জয় মোমেন্ট এ থাকে তখন অতিরিক্ত এঞ্জয়মেন্ট পাওয়ার জন্য এডিক্টেট হয়ে পরে। তুমি শুধু শুধু চিন্তায় মগ্ন। এসব কি আর ভালোবাসা হয় বল। এটা নোংরামি ছাড়া কিছুই না।
ভালোবাসা হচ্ছে পুতপবিত্র। এইখানে নোংরামির স্থান নাই। তোমার আর আমার ভালোবাসা একান্ত আমাদের মাঝে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা গিয়ে তার রহস্য উদঘাটন করতে পারে না। প্রতিটা শ্বাস-প্রশ্বাসে শুধুই তুমি। চোখ বন্ধ করে অন্তরটাকে একটু মেলে ধর দেখতে পারবে। কানটাকে দুহাতে চেপে ধরে অন্তরের কানকে জাগ্রত কর তোমার ভালোবাসার প্রতিধ্বনি শুনতে পাবে। আধুনিকতার এই অসম সংবিধানে হয়তো তোমার আর আমার ঠাই নেই কিন্তু উপরের সংবিধান থেকে সবকিছু আগে থেকেই নির্ধারিত। সেটা কেউ সংশোধন করতে পারেনা।

রুহানি জগত থেকে তুমি আমাকে ভালোবেসেছ আমি তোমাকে। বাম পাঁজরের হাড়টা তোমার কাছেই আছে সেটা যত্ন করে রেখে দাও সময় হলে পুরাটা চলে আসবে। তোমাকে ভালোবাসার জন্য কোন মাস, বছর কিংবা দিনের দরকার হয় না আমার। প্রতিটা মুহুর্ত তোমারি জন্যই। সেখানে বিলাসিতা না থাকলেও সুখ বিদ্যমান। তোমার কাছে কবি রফিক আজাদের কবিতার কয়েকটা লাইনের সারমর্ম তুলে ধরছি।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা নয় প্রতীক্ষা করবো। অভিধানে শব্দ দুটোর তেমন কোনও মানে নেই। অপেক্ষা শব্দটি প্রয়োজন মিটায়। আটপৌরে, দ্যেতনাহীন,ব্যাঞ্জনাবিহীন একটি শব্দ। প্রতীক্ষায় আমাদের ব্যবহারের উপযুক্ত শব্দ। আমি তোমার জন্য প্রতীক্ষা করব অনন্তকাল ধরে। আমি ঠাই দাঁড়িয়ে থাকব তোমার পথপানে আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরোবেনা, তবু ফুরোবেনা। যেখানে থাক ভালভাবেই থাক, ভালোবাসি, বাসবো…

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।