আজকের বার্তা | logo

৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

কতদিন জেলে থাকবেন খালেদা…!

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ১১:১০

কতদিন জেলে থাকবেন খালেদা…!

♦ বিলম্ব হতে পারে রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে
♦ গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে আরও পাঁচ মামলায়
♦ বিচার শেষ পর্যায়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাও

আরাফাত মুন্না: এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছর সাজা মাথায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) হাতে না পাওয়ায় তার মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছেন না আইনজীবীরা। অনুলিপি পাওয়ার পরই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হবে বলেও জানান তারা। আইন-আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন ৬৩২ পৃষ্ঠার এ বিশাল রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে এক-দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ ছাড়া আরও পাঁচ মামলায় জারি থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানাও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন তারা। আইনজ্ঞরা বলছেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করবেন, এটা ঠিক। সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষও তো তার জামিনের বিরোধিতা করবে। আপিল আবেদনেও লড়বে। হাই কোর্টে যে পক্ষই হারুক তারা আবার সুপ্রিম কোর্টে যাবে। উচ্চ আদালত পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া শেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে বেশ বিলম্বই হতে পারে বলে মত তাদের। এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল  ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে। যদি এর মধ্যে ওই মামলায় রায়ও হয়ে যায়, আর খালেদা জিয়া যদি নতুন করে দণ্ডিত হন তাহলে তার সামনে নতুন খড়গ হাজির হবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে প্রথমে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেতে হবে। অনুলিপি ছাড়া তো জামিন বা আপিল, কোনো আবেদনই করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে বেশকিছু সময় বিলম্ব হতে পারে। আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব মামলায় পুলিশ চাইলে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারে। যদি দেখায় তাহলে অবশ্যই জামিন নিতে হবে। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেতে পারেন কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর সাজা হয়েছে। সাধারণত সাত বছর পর্যন্তও জামিন দেয় হাই কোর্ট। তবে হাই কোর্ট যদি জামিন দেয়ও রাষ্ট্রপক্ষেরও এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রায়ের সার্টিফাইড কপি দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এটা আদালতের ওপর নির্ভর করে। রায়ের অনুলিপি প্রস্তুত হওয়ার পর সবার স্বাক্ষর হলেই সার্টিফাইড কপি সরবরাহ করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি থাকা পাঁচ গ্রেফতারি পরোয়ানায়ও পৃথক করে জামিন নিতে হবে বলে জানান তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা শেষ পর্যায়ে থাকলেও কবে শেষ হচ্ছে তা আসামিপক্ষের ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত করেছি। এখন আসামিপক্ষ শেষ করলেই রায়ের জন্য দিন ঠিক হবে। জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রায়ের পরই আমরা সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করেছি। রবিবার পর্যন্ত আমাদের কপি সরবরাহ করা হয়নি। সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পরই আমরা আপিল ও জামিনের বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করব। পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব গ্রেফতারি পরোয়ানা কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায় সে বিষয়টি আমরা দেখছি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা কবে শেষ হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক শেষ করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব। মামলার বিষয়ে আমাদের পক্ষে থাকা যুক্তিগুলো উপস্থাপন শেষ হলেই এ মামলার বিচার শেষ হবে।

যে পাঁচ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা : দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও মানহানিসহ পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। মামলাগুলো হচ্ছে— ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রলবোমায় ৮ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলা, যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার একটি মানহানির মামলা, ভুয়া জন্মদিন পালন করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম নষ্টের একটি মামলা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের একটি মামলা। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর খালেদা জিয়া এসব মামলায় জামিন নেননি। তাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার এই পাঁচ মামলায়ও তাকে জামিন নিতে হবে। আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় গত বছর ৯ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার জেলা জজ আদালত। একই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় চলতি বছর ২ জানুয়ারি কুমিল্লার ৫ নম্বর অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মানহানির মামলায় ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নুর নবী। এ ছাড়া ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করার মামলায় ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মাজহারুল ইসলাম পরোয়ানা জারি করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট নড়াইলের একটি আদালত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে।

শেষ পর্যায়ে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাও : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি বর্তমানে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যায়ে রয়েছে। এই যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলেই রায়ের জন্য দিন ঠিক হবে। গত ৩০ জানুয়ারি মামলার রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে। এর পর ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিও এ মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনে আসামিপক্ষ নিয়েছে ১৫ কার্যদিবস। এ মামলায়ও এর চেয়ে বেশি সময় তারা নেবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান এ রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। রায়ের পরপরই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার ভবনে। মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী সরফুদ্দিন আহমেদ। এর মধ্যে তারেক রহমান বিদেশে অর্থ পাচারের এক মামলায় সাত বছরের সাজার রায় মাথায় নিয়ে ১০ বছর ধরে দেশের বাইরে পলাতক জীবনযাপন করছেন। একইভাবে কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানও পলাতক। রায়ের পর পলাতক এই তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি জারি করেছে আদালত।

১০ বছর আগে সৌদি আরব থেকে এতিমদের জন্য আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করেন। এর প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরু করেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। গত ২৫ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত হলে ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।