আজকের বার্তা | logo

১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

আওয়ামী লীগ ভোটে বিএনপি কোর্টে!

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ১৩:২৬

আওয়ামী লীগ ভোটে বিএনপি কোর্টে!

মাহমুদ আজহার ও রফিকুল ইসলাম রনি: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলটির দৃষ্টি এখন কোর্টে। রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য দলের আইনজীবী নেতারা আদালতের দ্বারে ঘুরছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি স্থানে জনসভা করে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান দুই দলের একটি ভোটের জন্য প্রস্তুত। অন্যটি মামলা সামলাতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তাদের তৈরি করতে হবে। বিগত ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন যেন না হয়, সে ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম ছহুল হোসাইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল বিনা বাধায় পার হতে চায় এটাও ঠিক, আবার বিএনপিও তাদের নেত্রীকে বাইরে রেখে নির্বাচনে যেতে চাইবে না— এটাও স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধাটাকেই প্রাধান্য দেয়। তবে সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠুর সংজ্ঞায় বলা যেতে পারে, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো— সব দলকে নিয়ে নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। এটাও ঠিক, তারা কাউকে জোর করে নিয়ে আসতে পারবে না। এটা তাদের কাজও নয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই নির্বাচন হবে অর্থহীন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেখানেও সরকারি দলের কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। আশা করি, একাদশ নির্বাচনে তা হবে না। সব দলই নির্বাচনে যাবে এবং তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্যও হবে।

আন্দোলন নিয়ে ভাবছে না আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার সঙ্গে দল বা সরকারের কোনো হাত নেই। সরকারের হাত থাকলে আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদেই বিএনপি নেত্রীর সাজা হতো। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এটি আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা হলে মামলাটি দীর্ঘ ১০ বছর চলত না। এটি আইনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আর মামলাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের। কাজেই সরকারের ওপর দোষারোপ করা ঠিক নয়। সূত্রমতে, এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ বিএনপির আন্দোলন নিয়ে ভাবছে না। তারা সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও বিএনপির দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী সফর শুরু করেছে। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট ও ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভা করে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা ১৫টি টিমে ভাগ হয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। ওই সফরের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং স্থানীয় এমপিদের কীভাবে জনগণের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায় সে কাজ করছেন। সরকারের টানা ৯ বছরের উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। আগামী ৩ মার্চ খুলনায় ও ৭ মার্চ রাজধানীতে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। এ জন্য আগামীকাল দুপুরে ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগী সংগঠন ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাদের যৌথ সভা ডাকা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১ মার্চ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এটা প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে রাজপথে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও, সহিংসতা বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না। এ বিষয়ে বিএনপি নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘আপনারা যারা এখনো মাঠে নেমে কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে— আপনারা দুর্নীতিবাজ নেতাদের পরিহার করুন। যদি দেশের জন্য রাজনীতি করতে চান, জনগণের জন্য রাজনীতি করতে চান, তাহলে পরিচ্ছন্ন ইমেজের নতুন নেতৃত্ব দলে নিয়ে আসুন।’ সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। তারা রাজপথে আন্দোলন করবে নাকি বাসায় এসি রুমে বসে থাকবে সেটা ভাবছি না। আমাদের দৃষ্টি ভোটের দিকে। কীভাবে ভোট বাড়ানো যায় সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিএনপির ভাবনায় কেবল খালেদা জিয়া : বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বাইরে বিএনপি এখন আর অন্য কিছুই ভাবছে না। এ জন্য তারা রাজপথের কিছু গণতান্ত্রিক কর্মসূচিও দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। এ নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা দলের বাইরে জোট, কূটনীতিবিদ, আইনজীবীসহ সব পেশাজীবীর সঙ্গেও বৈঠক করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নেরও অনুরোধ জানাচ্ছেন।

বিএনপি নেতারা জানান, দলের চেয়ারপারসনের কারামুক্তি বিলম্ব হতে পারে। এ সুযোগে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে অপ্রস্তুত রেখেই নির্বাচনে যেতে তত্পরতা চালাচ্ছে। সরকার চাইছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিক। কিন্তু বেগম জিয়ার নির্দেশনা হলো— পরিস্থিতি যত প্রতিকূলতায় থাকুক, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সরকার সবার অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএনপি সেই নির্বাচনে যাবে। দলের নেতারা আরও বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মাইনাস করে সরকার নির্বাচন করতে চায়। এ জন্যই তড়িঘড়ি করে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে আইনের ফাঁকফোকর খোঁজা হচ্ছে। তবে বিএনপি জিয়া পরিবারকে বাইরে রেখে নির্বাচনে যাবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনে যেতে চান নেতা-কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি যেন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে জন্য একটা নীলনকশা চলছে। তাই নতুন আদালত সৃষ্টি করা হচ্ছে। একটা মামলাকে ভেঙে দুটো করা হয়েছে। বিস্ফোরকের জন্য একটা মামলা, ভাঙচুরের জন্য আরেকটা মামলা। অর্থাৎ বিরোধী দল যারা করবে, তাদের এই মামলা মোকাবিলা করতে করতেই সারাটা জীবন চলে যাবে। মৃত্যুবরণ করতে হবে তাদের এই মামলা মোকাবিলা করতে করতে। জানা যায়, বেগম জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার কারাবাস কতদিনের হতে পারে তা নেতা-কর্মীদের কাছে স্পষ্ট নয়। এ কারণে আন্দোলন কর্মসূচিও দেওয়া হচ্ছে বুঝেশুনে। বেগম জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই থাকবে বিএনপি। যদি কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি। এর আগে দলকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের কাছে দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হলো, বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনা। অন্যটি, আন্দোলন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’

আজ আদালতে নেওয়া হচ্ছে না খালেদাকে : বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় আজ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য থাকলেও আদালতে নেওয়া হচ্ছে না কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আদালতে হাজির না করার বিষয়টি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেন। গতকাল বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘কাল (রবিবার) খালেদা জিয়াকে আদালতে নেওয়া হবে না। তবে আমরা আদালতে যাব। সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।