আজকের বার্তা | logo

১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

স্বামীর সঙ্গে ছোট বোনের পরকীয়া; অতঃপর …. যা করল বড় বোন!

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৫, ২০১৮, ১৯:০৫

স্বামীর সঙ্গে ছোট বোনের পরকীয়া; অতঃপর …. যা করল বড় বোন!

নির্মম। হৃদয় বিদারক। গা শিউরে উঠার মতো ঘটনা। ২ বছরের শিশু কন্যাকে নিজেই শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন নিষ্ঠুর মা। পরে সেই মাও ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া।

ঘটনাটি রাজধানীর সবুজবাগ থানার আহমেদবাগ এলাকার। নিজের ছোট বোনের সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে এ ঘটনা ঘটান শান্তনা আক্তার। সবুজবাগ থানা পুলিশ গতকাল সকালে নিজ ঘরের ভেতর থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছার বাসিন্দা মামুন ও শান্তনা। এক সন্তানের জননী শান্তনার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলেন মামুন। প্রেমের টানে তারা দুজনই বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা আসেন। সবুজবাগ এলাকার আহমেদবাগে নতুন করে সংসার গড়েন। বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার।

মামুন ইলেকট্রিক ও ইন্টারনেটের মিস্ত্রি এবং শান্তনা একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। কিছুদিন পর তাদের ঘর আলো করে মাহফুজা নামের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। চার মাস আগে বোনের বাসায় বেড়াতে আসেন শান্তনার ছোট বোন স্বর্ণা। স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালিকাকে নিয়ে বেশ আনন্দেই দিন কাটতে থাকে মামুনের। ধীরে ধীরে শ্যালিকা স্বর্ণার সঙ্গে মামুনের সখ্যতা বাড়তে থাকে। একসময় তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। আর এই প্রেমের টানেই মামুন গত রোববার শ্যালিকাকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি শান্তনা। রোববার ছোট বোনকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ঘরে মন বসাতে পারছিলেন না তিনি। নাওয়া- খাওয়া ছেড়ে দিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকতেন। মামুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি।

প্রতিবেশীরা তাকে অনেক বুঝিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কষ্ট সইতে না পেরে সোমবার রাতের কোনো এক সময় তিনি নিজের অবুঝ কন্যা সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ওড়না দিয়ে টিন শেডের ঘরের বাঁশের আড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করেন। বিকালেই রাজধানীর উত্তর খান এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত শান্তনার কোনো আত্মীয়স্বজন তার খোঁজ নিতে আসেননি।

নিহত শান্তনার পাশের ঘরের শাহিনা বেগম বলেন, সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত শান্তনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সারাদিন সে খুব কান্নাকাটি করছিল। আমি অনেক বুঝিয়েছি। রাতে সে মেয়েকে নিয়ে আমার ঘরে এসেছিল। কান্না করতে করতে সে চোখ ফুলিয়ে ফেলে। খাবারের জন্য মেয়ে কান্না করতে থাকে। তখন মেয়েকে চিপস খেতে দেয়। কিন্তু মেয়ে কান্না থামায়নি। এজন্য মেয়েকে মারধর করে। আমি তখন তাকে বকেছি। পরে ঘরে গিয়ে মেয়েকে দুধ খাওয়ায়। তারপর আর আমি কিছু বলতে পারি না। ভোরে উঠে আমি ও আমার স্বামী কাজে চলে যাই। দুপুরে বাসায় এসে শুনি এই ঘটনা।

অপর প্রতিবেশী আকলিমা বেগম বলেন, সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত তাদের ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। আশপাশের সবাই অনেক ডাকাডাকি করতে থাকে। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে আমি ঘরের পেছনে গিয়ে বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখি সে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। পরে সবাইকে ডেকে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে মরদেহ নিয়ে যায়।

শান্তনার পাশের ঘরের আরেক গৃহিণী আকলিমা বলেন, দু’দিন ধরে রান্না করেনি। তার শাশুড়ি এসে খাবার দিয়ে যেত। সোমবার রাতে আমি তাকে তরকারি দিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছি খাবার খেয়েছে কিনা। তখন সে বলেছে, অল্প খেয়েছি। এখন আর খাবো না। পরে আমি ঘরে চলে আসি। কিন্তু সকালে শুনতে পাই এই ঘটনা।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস কুদ্দুস ফকির বলেন, ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক। অবুঝ শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা। ছোট বোনকে নিয়ে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার কষ্ট থেকেই হয়তো এমনটা করেছে। মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র: মানবজমিন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।