আজকের বার্তা | logo

১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

সহবাসের পর গোসল না করে কী কী করা যাবে

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৬, ২০১৮, ২০:১৬

সহবাসের পর গোসল না করে কী কী করা যাবে

আরটিভির সরাসরি ইসলাম নিয়ে প্রশ্নোত্তরমূলক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শরিফ মেটাল প্রশ্ন করুন’। এ অনুষ্ঠানে কোরআন ও হাদিসের আলোকে দর্শক-শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। এবারের পর্বে উত্তর দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আতাউর রহমান মিয়াজী।

প্রশ্ন : ক্রিকেট খেলে উপার্জন হালাল না হারাম?

উত্তর : খেলার বিনিময়ে টাকা নেয়া হারাম তা কোথাও বলা নেই। শরীয়া মোতাবেক কাপড় পরে খেললে কোনো সমস্যা হবে না। আর ক্রিকেট খেলা যেহেতু হাটুর নিচ পর্যন্ত কাপড় পরে খেলতে হয় এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। ড্রেসকোড ঠিক থাকলে আর অন্যান্য ব্যাপারগুলো নিয়মনীতি অনুসরণ করে চললে খেলা থেকে উপার্জনও হালাল হবে।

প্রশ্ন : ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত মোনাজাত জরুরি কী না?

উত্তর : আমাদের দেশে যে সিস্টেম সেখানে দেখা যায় নামাজ শেষে সালাম দিয়ে সাথে সাথে দোয়া পড়া শুরু করা হয়, যার মাধ্যমে দোয়াটিকে নামাজের অংশ বানিয়ে ফেলা হয়। এমনটা যেন না হয়। সালাম ফেরানোর পরপরই নামাজের পর্ব শেষ।

প্রশ্ন : সহবাসের পর শুধু ওজু করে কী সব কাজ করা যাবে? নাকি গোসল করতে হবে?

উত্তর : এসব স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো এভাবে করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ বিশেষ সময়ে ফরজ গোসল বিলম্ব করেছেন। তবে এ সময় কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ বা অন্যান্য ইবাদত করা যাবে না।

প্রশ্ন : সাধারণ বীমা এবং ইসলামী বীমার মধ্যে পার্থক্য কী? ইসলামিক ব্যাংকে বীমা করার বিধান ইসলামী শরীয়তে জায়েজ আছে কী?

উত্তর : এ ক্ষেত্রে তিনটি কথা, এক হলো সাধারণ বীমা, দুই হলো ইসলামী বীমা, তিন হলো ইসলামী ব্যাংকে ইসলামী বীমা করার সুযোগ আছে কী না এবং সেটা শরিয়তসম্মত কী না।আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাংকগুলো, ব্যাংক হচ্ছে দুইরকম- একটা হলো আধুনিক যে সাধারণ নিয়মনীতি দ্বারা পরিচালিত। ব্যাংক বীমাগুলো আরেকটা হলো ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত ব্যাংকিং সিস্টেম, বীমা সিস্টেম। এখন এই যে সাধারণ বীমা এটাতে আমরা দেখছি ইসলামের বিধান মানা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক না। তবে একটা মজার ব্যাপার হলো- যেকোনো বীমা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ বীমা হোক আর ইসলামী বীমাই হোক, ইসলামের বিধানগুলো তারা জানুক আর নাই জানুক, ইচ্ছাকৃত হোক আর অনিচ্ছাকৃত হোক, প্রতিটি সেক্টরে ইসলামের বিধানগুলো অধিকাংশই প্রতিপালিত হয়ে যায়।

প্রশ্ন : রাসুলুল্লাহ সাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা সুদের সাক্ষী এবং সুদ কারবার লিখছে ও কারবারের সাথে জড়িত তারা সকলেই গুনাহগার।সুদ কবীরাহ গুনাহ। তাহলে সেই হিসেবে যারা ব্যাংকে চাকরি করছেন, তারা এই হাদীসের আওতাভুক্ত হবেন কী না?

উত্তর : ব্যাংকিং সেক্টর সুদের কারবারের সাথে জড়িত। যেহেতু প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে এটা ওই চাকরির সাথে সংশ্লিষ্ট, তার বেতনও সুদের সাথে সম্পৃক্ত। আর সে কারণে যদি তার কোনো বিকল্প না থাকে, এবং এ টাকা না হলে সংসার চলছে না, সেক্ষেত্রে যতদিন পর্যন্ত তিনি বিকল্প চাকরি খুজে না পাবেন, ততদিন পর্যন্ত এটা তিনি করতে পারবেন।

প্রশ্ন : দুর্ঘটনার ফলে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করা ঠিক হবে কী না?

উত্তর : যতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নামাজ পড়ার শারীরিক অবস্থায় না পৌঁছাবে, ততদিন পর্যন্ত শুয়ে শুয়ে নামাজ পড়া যাবে। তবে শুয়ে শুয়ে পড়লেও কেবলামুখী হয়ে যেন পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রশ্ন : আর্থিক সমস্যার কারণে যদি কোরবানি না করা যায়, অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে কোরবানি করা জায়েজ হবে কী না?

উত্তর : জায়েজ হবে, তবে ওয়াজিব হবে না। ওয়াজিব না হলে ও কোরবানি নফল হিসেবে অবশ্যই আদায় হবে।

প্রশ্ন : বিভিন্ন ব্যাংকে যে ইসলামী ডিপিএস এর কথা বলা হচ্ছে এগুলো শরীয়তসম্মত কী না? কারণ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন তো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে হয়, তাহলে এটা কিভাবে সুদমুক্ত হয়?

উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কন্ট্রোলের কারণে চাইলেও ইসলামী ব্যাংকগুলো শতভাগ ইসলামী হয়ে উঠতে পারবে না। ইসলামী ব্যাংকগুলোর ইসলামী ডিপিএস ঠিকই আছে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং সিস্টেম যেহেতু সুদভিত্তিক তাই তাদের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ওইভাবেই চলতে হচ্ছে। সে কারণেই এখানে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আর এই সীমাবদ্ধতার জন্য কিন্তু অথরিটি দায়ী না। দায়ী হচ্ছে ওই ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেমটা এবং আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সূত্র: আরটিভি

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।