আজকের বার্তা | logo

৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বিএনপি পন্থীদের তালিকায় বরিশালের ছয় ওসির নাম

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৩, ২০১৮, ২০:০৩

বিএনপি পন্থীদের তালিকায় বরিশালের ছয় ওসির নাম

নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং বিভিন্ন থানায় কর্মরত ওসিদের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) গোপনে প্রতিবেদন তৈরি করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এরইমধ্যে তা জমা হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তাদের শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা-মতাদর্শ এবং তাদের আত্মীয় স্বজনের কর্মকান্ডে তালিকা সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

সূত্রমতে, ওই কর্মকর্তারা নিজেদের আড়াল করে বর্তমানে অতিমাত্রার আওয়ামীলীগ সেজেছেন। তারা সুক্ষভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র কোন্দল সৃষ্টি করে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। সময়মতো এসব কর্মকর্তা তাদের খোলস বদলে আগের ভূমিকায় ফিরে যেতে পারেন। যা সরকারের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তালিকায় নাম আসা কর্মকর্তারা অনেকেই ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তারা এখনও গোপনে বিএনপি-জামায়াতকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন বর্তমানেও বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। অতিসম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

 

প্রকাশিত সারাদেশের ৯৫ জনের নামের তালিকার মধ্যে রয়েছে বরিশাল জেলার ছয় থানার ওসির নাম। তারা হলেন-গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম, বানারীপাড়া থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন, বাবুগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম, মুলাদী থানার ওসি মতিয়ার রহমান, মেহেন্দীগঞ্জের আকতারুজ্জামান ও বাকেরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি মোঃ আজিজুর রহমান। এরা সকলেই ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দল করার পুরস্কার হিসেবে ওইসব অধিকাংশ ওসি বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন মেয়াদে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষগ্রহণের অভিযোগে কয়েকজন ওসিকে ক্লোজডও করা হয়েছিলো। কয়েকজনের বিরুদ্ধে বর্তমানেও তদন্ত চলছে। নানাবির্তকিত কর্মকান্ডের জন্মদিলেও বরাবরেই ওইসব ওসিরা আওয়ামীলীগের তকমা লাগিয়ে পারপেয়ে যাচ্ছেন।

 

এরমধ্যে বানারীপাড়া থানায় কর্মরত ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রমতে, নোয়াখালীর চাদখিলের সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কামরানের ভাতিজা ও নোয়াখালী সরকারী কলেজের ছাত্রদলের সাবেক জিএস সাজ্জাদ হোসেন। ১৯৯৩ সালে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের সুপারিশে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। কুষ্টিয়া সদর থানায় সেকেন্ড অফিসার থাকাকালীণ সময়ে কুষ্টিয়া সদরের তৎকালীণ বিএনপির সংসদ সদস্যর সান্নিধ্য লাভের জন্য আওয়ামীলীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকে চরমপন্থী আখ্যায়িত করে কথিত ক্রসফায়ার দেন সাজ্জাদ হোসেন। পুরস্কার স্বরুপ তাকে কঙ্গোর শান্তি মিশনে পাঠিয়েছিলেন তৎকালীণ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সাজ্জাদ হোসেন বিভিন্ন থানায় চাকুরীকালীণ সময়ে একাধিক বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্ম দেয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করে তিনি বিভিন্ন নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পরেন। এরপর বিএনপি ও জামায়াতের অবরোধের সময় তাকে গৌরনদী থানায় বদলী করা হয়। তিনি গৌরনদী থানায় যোগদান করেই ব্যাপক চাঁদাবাজীতে লিপ্ত হয়ে পরেন। তার নিস্কিয়তায় গৌরনদীতে স্মরনকালের পাঁচটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়।

 

এরমধ্যে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারী টরকীর সুন্দরদী এলাকায় লবন বোঝাই ট্রাকে অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় নিহত হয় দুইজন। ওইঘটনাটি ওসি সাজ্জাদ ধামাচাঁপা দিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। এছাড়া নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের অভিযোগে ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে বরিশাল পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিলো। বর্তমানে তিনি বানারীপাড়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি পন্থী আসামিকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, কমিটির তদন্তে ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।বিএনপি পন্থীদের তালিকায় বরিশালের ছয় ওসির নাম

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং বিভিন্ন থানায় কর্মরত ওসিদের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) গোপনে প্রতিবেদন তৈরি করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এরইমধ্যে তা জমা হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তাদের শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা-মতাদর্শ এবং তাদের আত্মীয় স্বজনের কর্মকান্ডে তালিকা সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্রমতে, ওই কর্মকর্তারা নিজেদের আড়াল করে বর্তমানে অতিমাত্রার আওয়ামীলীগ সেজেছেন। তারা সুক্ষভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র কোন্দল সৃষ্টি করে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। সময়মতো এসব কর্মকর্তা তাদের খোলস বদলে আগের ভূমিকায় ফিরে যেতে পারেন। যা সরকারের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তালিকায় নাম আসা কর্মকর্তারা অনেকেই ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তারা এখনও গোপনে বিএনপি-জামায়াতকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন বর্তমানেও বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। অতিসম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রকাশিত সারাদেশের ৯৫ জনের নামের তালিকার মধ্যে রয়েছে বরিশাল জেলার ছয় থানার ওসির নাম। তারা হলেন-গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম, বানারীপাড়া থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন, বাবুগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম, মুলাদী থানার ওসি মতিয়ার রহমান, মেহেন্দীগঞ্জের আকতারুজ্জামান ও বাকেরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি মোঃ আজিজুর রহমান। এরা সকলেই ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দল করার পুরস্কার হিসেবে ওইসব অধিকাংশ ওসি বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন মেয়াদে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষগ্রহণের অভিযোগে কয়েকজন ওসিকে ক্লোজডও করা হয়েছিলো। কয়েকজনের বিরুদ্ধে বর্তমানেও তদন্ত চলছে। নানাবির্তকিত কর্মকান্ডের জন্মদিলেও বরাবরেই ওইসব ওসিরা আওয়ামীলীগের তকমা লাগিয়ে পারপেয়ে যাচ্ছেন।
এরমধ্যে বানারীপাড়া থানায় কর্মরত ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রমতে, নোয়াখালীর চাদখিলের সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কামরানের ভাতিজা ও নোয়াখালী সরকারী কলেজের ছাত্রদলের সাবেক জিএস সাজ্জাদ হোসেন। ১৯৯৩ সালে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের সুপারিশে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। কুষ্টিয়া সদর থানায় সেকেন্ড অফিসার থাকাকালীণ সময়ে কুষ্টিয়া সদরের তৎকালীণ বিএনপির সংসদ সদস্যর সান্নিধ্য লাভের জন্য আওয়ামীলীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকে চরমপন্থী আখ্যায়িত করে কথিত ক্রসফায়ার দেন সাজ্জাদ হোসেন।

পুরস্কার স্বরুপ তাকে কঙ্গোর শান্তি মিশনে পাঠিয়েছিলেন তৎকালীণ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সাজ্জাদ হোসেন বিভিন্ন থানায় চাকুরীকালীণ সময়ে একাধিক বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্ম দেয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করে তিনি বিভিন্ন নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পরেন। এরপর বিএনপি ও জামায়াতের অবরোধের সময় তাকে গৌরনদী থানায় বদলী করা হয়। তিনি গৌরনদী থানায় যোগদান করেই ব্যাপক চাঁদাবাজীতে লিপ্ত হয়ে পরেন। তার নিস্কিয়তায় গৌরনদীতে স্মরনকালের পাঁচটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়।

এরমধ্যে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারী টরকীর সুন্দরদী এলাকায় লবন বোঝাই ট্রাকে অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় নিহত হয় দুইজন। ওইঘটনাটি ওসি সাজ্জাদ ধামাচাঁপা দিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। এছাড়া নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের অভিযোগে ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে বরিশাল পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিলো।

বর্তমানে তিনি বানারীপাড়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি পন্থী আসামিকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, কমিটির তদন্তে ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।