আজকের বার্তা | logo

৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৮ ইং

বরিশাল-৪ আসনে বিভক্ত আ. লীগ-বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রার্থী

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৯, ২০১৮, ১৬:৩৫

বরিশাল-৪ আসনে  বিভক্ত আ. লীগ-বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রার্থী

অনলাইন ডেক্সঃ হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ—বরিশালের এ দুটি উপজেলাকে বিভক্ত করেছে মেঘনা নদী। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ দুটি জনপদ নিয়েই বরিশাল-৪ সংসদীয় আসন। আসনটির মতোই এখানে বিভক্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির রাজনীতি। আগামী নির্বাচন ঘিরে দুটি দলেই মনোনয়নপ্রার্থীর সংখ্যাও একাধিক।

জাতীয় সংসদের ১২২ নম্বর নির্বাচনী এলাকাটির বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের পংকজ নাথ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম নির্বাচনে জয়লাভ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পংকজ।

এর আগে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করে। তখন এ আসনে ভোটে জেতেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তখন এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ মো. আবুল হোসাইন জয়লাভ করেন। ২০০১ সালেও তিনি জয়ী হন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দলে সংস্কার আনার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে আবুল হোসাইন বিএনপির মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়েন। এ সুযোগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে দলীয় মনোনয়ন পান বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে যে দুটি আসনে বিএনপি জয়লাভ করে তার একটি হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ।

আওয়ামী লীগ : বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ সুস্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি পক্ষের নিয়ন্ত্রণে আছেন সংসদ সদস্য পংকজ নাথ এবং অন্যপক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুলসহ দলের অন্য নেতারা। আওয়ামী লীগের এ বিভক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গেল স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে। প্রতিটি ইউনিয়নেই দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধ হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীর। বিদ্রোহী পাঁচ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

দলের নেতাকর্মীরা বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নতার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। অন্তর্দ্বন্দ্ব দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাবে না ক্ষমতাসীন দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে হঠাৎ করে পংকজকে মনোনয়ন দেওয়ার পরই আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্বের সূচনা। এ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের একাধিক নেতা অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছেন।

এ আসনে মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আরো রয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মহিউদ্দিন আহম্মেদের মেয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ ও দলের আরেক নেতা মেজর (অব.) মহসিন সিকদার।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু বলেন, ‘সংসদ সদস্য পংকজ আমার বিপক্ষে প্রার্থী দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাকে ভোটে হারাতে পারেননি। তবে তাঁর ক্যাডার বাহিনী আমাকে সব সময় তাড়া করে। আমি ভীত। বিষয়টি আওয়ামী লীগের অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ অবগত। তাঁর ভয়ে কর্মীরা কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।’

টিপুর দাবি, পংকজের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বাইরে আর কোনো নেতাকর্মী নেই। তিনি মনোনয়ন পেলে এ আসন হারাবে আওয়ামী লীগ।

আফজালুল করিম বলেন, সংসদ সদস্য নৌকা পছন্দ করেন না। যে কারণে এবার ইউপি নির্বাচনে মেহেন্দীগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকা ডুবিয়েছেন। আগামীতে পংকজ প্রার্থী হলে কর্মীরাই তাঁকে বয়কট করবে। তিনি আরো বলেন, ‘পারিবারিকভাবেই আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমার বাবা মরহুম এ কে এম নুরুল করিম (খায়ের মাস্টার) ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র এবং ১৯৭৩ সালে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছি। ২০০৮ সালেও আমি ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। আসন পরিবর্তন করে আমাকে বরিশাল-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু মহাজোটের কারণে পরে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করি। দলীয় মনোনয়ন পেলে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে এ আসনটিতে বিজয়ী হব।’

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জেলায় পাঠিয়েছি। জেলা থেকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনিই মনোনয়ন দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তবে পাঁচজন প্রার্থী আমাদেরই বিদ্রোহীদের কাছে হেরেছেন। একটি ইউপিতে বিএনপি জিতেছে।’

নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মইদুল বলেন, ‘সংসদ সদস্য পংকজ নাথ কতিপয় ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছেন। তাঁদের নির্বাচিত করতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্যাডাররা ভোটারদের বাধা দিয়েছিল। যে ক্যাডাররা আমার ওপরও হামলা চালিয়েছিল।’

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়া প্রসঙ্গে মইদুল বলেন, ‘২০০৮ সালে ৯০ হাজার ভোট পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।’

সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেন, মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা এককালের উত্তর শাহাবাজপুর পরগনা। ৩৬০ ঘর মুসলিম জমিদার ও সামন্তপ্রভুদের প্রবল আধিপত্য ছিল এই জনপদে। হিজলা-মুলাদীতে ’৭০-এর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে মই মার্কা নিয়ে খায়ের মাস্টার জিতেছিলেন। ’৭০ ও ’৭৩ সালের পর ’৭৯ সালের নির্বাচনে মহিউদ্দিন সাহেব মই মার্কায় নির্বাচন করায় নৌকা নিয়ে মেজর নাসির পরাজিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী জব্বার মাস্টারের কাছে। ’৮৬ সালের নির্বাচনে জিতে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হওয়া মইদুলের নির্যাতনে বিপর্যস্ত হয় আওয়ামী লীগ। ’৯১ পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির কোনো শক্ত প্রার্থী না থাকায় মিজান গ্রুপ থেকে ফিরে এসে সংসদ সদস্য হন মহিউদ্দিন আহমেদ। এরপর ’৯৬ সালে মহিউদ্দিন আহমেদ, ২০০১ সালে মেজর মহসিন, ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আসা মইদুল ইসলাম পারেননি নৌকাকে জেতাতে।

পংকজ আরো বলেন, ‘অধিকসংখ্যক তরুণের অংশগ্রহণে দল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণ খুশি। আমরা আশাবাদী আগামী নির্বাচনে এ আসনে জনগণ নৌকাকে বিজয়ী করবে।’

দলীয় বিরোধ প্রসঙ্গে পংকজ নাথ বলেন, ‘অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দলছুট, সুবিধাবাদী, অনুপ্রবেশকারীরা মনোনয়ন পাওয়ায় প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনগণ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’ আগামী সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কর্মীরা সংগঠিত। কিন্তু হাতে গোনা দুই-চারজন ভেতরে ভেতরে বিরোধিতা করছেন। তাঁরাও নৌকার বাইরে যাবেন না। কারণ আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁরাও এলাকায় থাকতে পারবেন না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সংসদ সদস্য পংকজ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামকে নিয়ে একসঙ্গে বসিয়ে বিরোধ মিটিয়ে দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে এখন আর বিরোধ নেই। তবে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের বিরোধের মিথ্য প্রচারণা চালিয়ে কর্মীদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে। যে সমস্যাটুকু রয়েছে, তা ভুলে কর্মীরা আসছে নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করবে।’

বিএনপি : দুই উপজেলায় বিএনপির কর্মীরা খুব সংগঠিত। তবে খণ্ডে খণ্ডে। একেক খণ্ডের নেতৃত্বে একেক নেতা। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে দারুণ মিল। নেতাদের সবাই তাঁদের অনুসারী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানে এসে কর্মীদের খোঁজ নেন। এ অবস্থা সবার। তবে দলীয় কর্মীদের তোপের মুখে সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন না। নিজের জন্মস্থান মেহেন্দীগঞ্জে যান শুধু সামাজিক অনুষ্ঠানে। দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন জেলা বিএনপির সভাপতি (উত্তর) সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। এ ছাড়াও মনোনয়ন প্রার্থীর তালিকায় আছেন ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, বরিশাল জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক নুর রহমান জাহাঙ্গীর, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবুল হোসাইন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক হাওলাদার ও খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম হেলাল উদ্দিন।

সংস্কার ইস্যু নিয়ে দূরত্ব মিটে গেলে শাহ মো. আবুল হোসাইন বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন দাবি তাঁর অনুসারীদের। তারা সাবেক এ সংসদ সদস্যকে নিয়ে এ আসনে চমক দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে।

হিজলা উপজেলা বিএনপির পুরনো কমিটির সভাপতি দেওয়ান মো. শহীদুল্লাহ দাবি করেন, দলের জন্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ কোনো কাজ করেননি। কিভাবে তিনি কাজ করবেন, তিনি কর্মীদের তোপের মুখে এলাকায় আসেন না। তবে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আর সেটা করেন কর্মীদের তোপের মুখ থেকে বাঁচতে।

শহীদুল্লাহ আরো দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য ফরহাদ অবৈধ পকেট কমিটি দিয়েছেন। ওই কমিটির সদস্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝেতা করে দলের বারোটা বাজিয়েছে। আগামীতে ফরহাদ মনোনয়ন পেলে বিএনপির এই ঘাঁটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যাবে।

হিজলা উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হলেও শহীদুল্লাহ সেই কমিটি মেনে নেননি। এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে।

হিজলা উপজেলা শাখা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল আলম রাজু বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য ফরহাদের নেতৃত্বে হিজলা বিএনপি সংগঠিত। দীর্ঘদিন ধরে এক পদ থেকেছেন, কিন্তু দলের কোনো কাজে আসছেন না—এমন কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। তাই পদবঞ্চিত কতিপয় ব্যক্তি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দলের ক্ষতি করে আসছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের বাধার কারণে দলীয় কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচন এলেই, কতিপয় নেতা দলের মধ্যে বিরোধ তৈরি করেন। তাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে কখনোই অংশ নেন না।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান একমত। তাঁদের বিবেচনায় থাকার কারণেই আমি বরিশাল-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।’

বরিশাল জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি নূর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) থেকে বিএনপিতে এসে দলকে সুসংগঠিত করেছি। কিন্তু উড়ে এসেই শাহ মো. আবুল হোসাইন দলীয় মনোনয়ন পেলেন। তাঁকে ভোটে জয়ী করলাম। ১/১১ (বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার) সময় বিএনপিতে শূন্যতা তৈরি হলো। ম্যাডামের নির্দেশে আবার হাল ধরলাম। ২০০৮ সালে সেই একইভাবে মনোনয়নবঞ্চিত হলাম। মনোনয়ন পেলেন ফরহাদ। তিনিও দলীয় কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন। আগামীতে মনোনয়ন পেলে দলকে সুসংগঠিত করে ধানের শীষের পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে আনব।’

মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর কেউ মাঠে ছিলেন না। আওয়ামী লীগের নির্যাতন সহ্য করে মাঠে থেকেছি। সংসদ সদস্য হয়েও এলাকায় যেতে পারিনি। যখনই গিয়েছি, তখনই হামলার শিকার হয়েছি। একই ধারা এখনো বিদ্যমান।’ দলীয় কোন্দলের ব্যাপারে তিনি বলেন, হিজলাতে একটু সমস্যা রয়েছে। তবে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

মনোনয়ন প্রসঙ্গে ফরহাদ বলেন, ‘আমার কর্মকাণ্ডই আমার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আমি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অবিচল। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা-ই মাথা পেতে নেব।’

যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক হাওলাদার বলেন, ‘দুইবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি। এবার দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সব সময় আমার যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।