আজকের বার্তা | logo

৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

বরিশালে পৌর এলাকায় অবৈধভাবে চলছে তিন ইটভাটা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৮, ২০১৮, ১৭:৩৮

বরিশালে পৌর এলাকায় অবৈধভাবে চলছে তিন ইটভাটা

জেলার উজিরপুর পৌর সদরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিনটি ইটভাটার কার্যক্রম। পৌর নগরীর প্রান কেন্দ্রের প্রায় দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে এসব ইট ভাটাগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ঘণবসতিপূর্ণ পৌর এলাকার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইটভাটাগুলোতে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে কাঠ।
সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব ইটভাটা স্থাপনে দেখা দিয়েছে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ। সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী সরকারী গেজেট আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে উজিরপুর পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হলে ইট ভাটাগুলো পৌর এলাকার মধ্যে পরে। সেই থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ভাটাগুলো আগের মতো চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আইন অনুযায়ী জনবসতি এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে (যেখানে আনুমানিক ৫০টি পরিবার বাস করে) ইটভাটা করার নিয়ম নেই। এ ছাড়া পৌর এলাকার মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবেনা। পাশাপাশি সংরক্ষিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর, সরকারী বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বনভূমি, অভয়ারণ্য, জলাভূমি ও কৃষি প্রধান এলাকাসহ পরিবেশ সঙ্কাটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা।
সরকারী এ আইন অমান্য করলে পাঁচ বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ইট প্রস্তুত ও ভাঁটা স্থাপন বিল ২০১৩ পাশ করা হয়েছে। তারপরেও এ আইন অমান্য করে উজিরপুর পৌরসভার ফসলি জমি ও ঘণবসতিপূর্ন আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে ইট ভাঁটা তৈরি করে চালানো হচ্ছে কার্যক্রম।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পরমানন্দসাহা গ্রামের ঘণবসতিপূর্ণ এলাকার মাত্র একশ’ গজের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মেসার্স হাজী ব্রিকস নামের ইটভাটায় জ¦ালানী হিসেবে স্তুপকরে রাখা হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ। কয়লার পরিবর্তে জ¦ালানী হিসেবে এসব কাঠ দিয়েই পোড়ানো হচ্ছে ইট। পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় ফসলি জমিতে গড়ে ওঠেছে ওই ভাটা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে ওই এলাকার গাছপালা ও লতাপাতা কালো-বিবর্ণ হয়ে গেছে।

 

ওই গ্রামের দিনমজুর আবুল হোসেন বলেন, ইট ভাটার কারণে গত কয়েক বছর ধরে গ্রামের ফলজ গাছগুলোতে ফল ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে জনদূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌর নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের কালিরবাজার গ্রামের কয়েক শতাধিক বাসিন্দাদের। সেখানে জনবসতি এলাকার ২০০ গজের মধ্যে এবিএস ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। যদিও ওই ভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। তবুও পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে জনদূর্ভোগের কমতি নেই। ওই গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, এই ভাটার কারণে গাছপালা ও মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। ভাঁটা সংলগ্ন একই এলাকার আবুল সরদার জানিয়েছেন, ইট ভাটার কারণে প্রতিবছর তার ঘরে নতুন ঢেউটিন লাগাতে হয়।

 

এ ছাড়া পৌরসভার উত্তর রাখালতলা গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে এসবিআই ব্রিকস। সেখানেও একই অবস্থা। উজিরপুর পৌরসভার মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই তিন ইটভাটার চারপাশে ঘণবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে রয়েছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাট-বাজার ও সড়ক-মহাসড়ক। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ার বিরূপ প্রভাবে মরে যাচ্ছে গ্রামগুলির ফলজ, ওষুধি গাছ। ইতোমধ্যে ওইসব গ্রামের অধিকাংশ ফলদ গাছের ফল ধরাও বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পৌর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সবগুলো ভাঁটা মালিকরা বলছেন, তারা ইটভাটার অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মোঃ আহসান হাবিব বলেন, বরিশালে নীতিমালার বাইরে গড়ে ওঠা ইটভাটার সংখ্যাই বেশি। পরিবেশ আইন অনুযায়ী জনবসতির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা। সে অর্থে পৌর সদরের মধ্যে গড়ে ওঠা সব ইটভাটাই অবৈধ। ওইসব ইটভাটার পরিবেশ বিভাগের কোন ছাড়পত্র নেই। পরিচালক আহসান হাবিব আরও জানান, খুব শীঘ্রই ওই এলাকায় গিয়ে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।