আজকের বার্তা | logo

৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ফসলি জমির মাটি ইটভাটায়! কৃষি উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৮, ২০১৮, ০২:২৩

ফসলি জমির মাটি ইটভাটায়! কৃষি উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে

আমতলী প্রতিনিধি ॥ বরগুনার আমতলী উপজেলার ফসলি জমির উর্বর মাটি ইটভাটার গ্রাসে। কৃষকরা ইটভাটার মালিকদের প্রলোভনে পরে দেদারসে বিক্রি করছেন ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। এতে হুমকিতে পড়েছে ফসলি জমির আবাদ। কৃষিবিদরা বলেছেন, এভাবে মাটি কাটায় ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ না হলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। উপজেলার আমতলী সদর, হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, গুলিশাখালী, আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে জিকজ্যাক, ড্রাম চিমনি এবং পাঁজা পদ্ধতির ২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এ ইটভাটাগুলোতে বছরে কয়েক কোটি ইট পোড়ানো হয়। ইট পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ভাটার মালিকরা ফসলি জমি কেটে আনছেন। আবার অনেকে ভাটায় মাটি বিক্রির জন্য কৃষি জমি কেটে পুকুর খনন করেছেন। এর ফলে হাজার হাজার একর কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। গত বছর যারা ফসলি জমির মাটি বিক্রি করেছেন সেই জমিতে আমনের মৌসুমে ভালো ফসল হয়নি। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ আছে, ইট প্রস্তুতের জন্য ভাটার মালিকরা কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি ২ বছরের কারাদ- বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। ইটভাটার মালিকরা আইনের তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। গতকাল শনিবার আমতলী উপজেলার রায়বালা, ফকিরবাড়ি, বান্দ্রা, ছোট নীলগঞ্জ, খলিয়ান, ঘটখালী, কালীবাড়ি, হলদিয়া, তালুকদার বাজার, চাউলা, সোনাখালী ও বাদুরা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রলার ও ট্রলি বোঝাই করে শ্রমিকরা দেদারসে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটিতে নিয়ে যাচ্ছেন। ছোট নীলগঞ্জের বাদল চন্দ্র জানান, অনেকেই জমির মাটি বিক্রি করছেন। কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে ভুল করেছি। ওই জমিতে এ বছর ভালো ফসল হয়নি।’ আমতলী কৃষি অফিসের কৃষিবিদ বিধান চন্দ্র জানান, মাটির ৬ ইঞ্চি উপরিভাগে উর্বরতার বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এ মাটি কাটা হলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাবে। আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম বদরুল আলম বলেন, কৃষি জমি’র উপরের ৬ ইঞ্চি থেকে দেড়ফুট পর্যন্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন জানান, ‘জমির মালিকরা না বুঝে জমি বিক্রি করলে সেখানে আমার কিছুই করণীয় থাকে না। খাল, সরকারি খাস জমির মাটি ইটভাটায় নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ চাওড়া চালিতাবুনিয়া এসএইচবি ব্রিকসের মালিক মোঃ সেলিম হাওলাদার জানান, ফসলি জমি থেকে কোন মাটি কাটা হচ্ছে না।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।