আজকের বার্তা | logo

২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

পরকীয়া, স্বামীকে হত্যা, এবার হবে ফাঁসি

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৭, ২০১৮, ১৯:১৩

পরকীয়া, স্বামীকে হত্যা, এবার হবে ফাঁসি

প্রেম মানে কোন বাধা। তাই মানুষ প্রেমে পড়ে, প্রেম করে। এজন্য তো সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে মানুষ হত্যা এটাতো কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

এমনই একটি প্রেমের ঘটনা- মুঠোফোনে পরকীয়া প্রেমের জেরে ধরে পাবনায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন।

পরকীয়া প্রেমে পড়ে পাবনা সদর উপজেলার টেকনিক্যাল মোড়ের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় স্ত্রীকে এই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী পাবনা সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার কুলসুম নাহার বিউটি (৪৬), আতাইকুলা থানাধীন রাণীনগর গ্রামের রুহুল আমিন (৪৭) ও সোলেমান আলী (৪৫)।

জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধা কুষ্টিয়ার লালনের ভক্ত ছিলেন।

আদালতে রায় ঘোষণার সময় কুলসুম নাহার বিউটি উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেফতার হলেও পরে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। মোশাররফ হোসেন হত্যায় তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

জানা যায়, টাকার উপরে মোবাইল নাম্বার পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা কুলসুম নাহারের সাথে কথা বলা শুরু করেন রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি। এরপর রুহুল আমিন ও কুলসুম নাহারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের জেরে তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাদের অবৈধ সম্পর্কে মোশাররফ হোসেনকে পথের কাটা মনে করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে কুলসুম নাহারের পরকীয়া প্রেমিক রুহুল আমিন তার বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাড়িতে যান। এরপর তারা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। মোশাররফ ঘরে ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে ৩ জন মিলে মোশাররফ হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এ ঘটনার পর মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গুম করতে একটি বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে ফেলেন। এর মাঝে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান। ওই রাতেই পাবনা সদর থানার পুলিশ গিয়ে মোশাররফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী কুলসুম নাহারকে গ্রেফতার করে। এরপরের দিন পাবনা সদর থানায় মামলা হয়।

পরে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে মোশাররফ হত্যা মামলাটি পাবনা থেকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালতে ১৫ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া কুলসুম নাহারের এক মাসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।