আজকের বার্তা | logo

৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

পত্রিকা বিক্রির টাকায় সংসার চলছে বাক-প্রতিবন্ধী হকার মিলনের

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৬, ২০১৮, ১৮:২৪

পত্রিকা বিক্রির টাকায় সংসার চলছে বাক-প্রতিবন্ধী হকার মিলনের

বার্তা প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা গ্রামের পিতৃহারা প্রতিবন্ধী মিলন ভিক্ষা না করে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে। উপজেলার সর্বস্তরের প্রিয় প্রতিবন্ধী হকার মিলন বাবুগঞ্জ থানার ওসির গতিরোধ করে একটি পত্রিকা তুলে দেয়। এ সময় ওসি বিস্ময় বালক বাক ও শারিরিক প্রতিবন্ধী মিলনকে দেখে অবাক হয় ও একটি ছবি তুলে রাখেন এবং দুইশত টাকা দেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে।

 

প্রতিবন্ধী মিলন স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারেনা। ইশারা ইঙ্গিতে মনের ভাব প্রকাশ করে প্রত্যাহ কাকডাকা ভোর থেকে বিকাল অবদি পত্রিকা বিক্রি করে। এমনকি দুই হাত বাঁকা থাকায় হাত দিয়ে কোন কাজ করতে পারে না বলে, সে পত্রিকা বগলে চেপে উপজেলা সদরের সরকারি অফিস আদালতে পত্রিকা বিক্রি করছে। হাত বাঁকা থাকায় যাদের কাছে পত্রিকা বিক্রি করছে সকলে মিলনের পকেটে টাকা গুঁজে দিচ্ছে। ভিক্ষাবৃত্তি না করে মিলন পত্রিকা বিক্রি করে তার বিধবা মাকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেছে। তার এই উদ্যোমী কাজ দেখে বাবুগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সালাম বিস্মিত।

 

প্রতিবন্ধী মিলনের এহেন প্রতিভা দেখে ওসি আবদুস সালাম বলেন প্রতিবন্ধী মিলনের মতো সমাজের সুস্থ্য সবল ব্যক্তিরা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কাজ কর্মে নিয়োজিত থাকতো তাহলে বাংলাদেশে কোন ভিক্ষুক খুঁজে পাওয়া যেতনা। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পত্রিকা বিলি করে সে ১০ বছর পার করলো সোমবার (০১ জানুয়ারী)। বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা গ্রামের মৃত্যু মোঃ ফজলুল হাওলাদারের বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী পুত্র মিলন। মা সালমা বেগম বলেন তার স্বামী বিগত ১ যুগ আগে মারা যায় তখন মিলনের বয়স মাত্র ৫ বছর। জম্ম থেকে মিলন বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধি।তার বয়স এখন ২৫ বছর হলেও এখনও কথা বলতে পারে না এমনকি দুই হাতের আঙ্গুলগুলোও বাঁকা, অর্থাভাবে তার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি।

 

মিলনের বিধবা মা আজকের বার্তা’কে বলেন আমার আরো ২ ছেলে ও ১ কন্যাসন্তান থাকলেও তারা ঢাকায় যার যার মতো সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। তার অন্য সন্তানরা মিলনের কোন খোঁজ খবর না নেয়নি বলে মিলনের মা সাংবাদিকদের কাছে বলতেই অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

তিনি আজকের বার্তা’কে আরো বলেন মিলন নিজের পায়ে দাঁড়াতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, পত্রিকা বিক্রির টাকায় তার সংসার কোনো ভাবে চলছে। বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মিলন প্রতিদিন সকাল ৬ টায় নাস্তা না খেয়ে রহমতপুর পত্রিকার এজেন্ট সুলতানের কাছ থেকে পত্রিকা নিয়ে উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পায়ে হেঁটে সকাল থেকে বিকাল অবদি পত্রিকা বিক্রি করে। স্থানীয়রা বলেন, বাক ও শারিরীক প্রতিবন্ধী মিলন পত্রিকা বিক্রির আগে তাকে কখনও ভিক্ষা করতে দেখিনি। বাড়ি থেকে যখন উপজেলা পরিষদে আসতো সকলেই তাকে ভালোবেসে খাবার খেতে দিতেন কিন্তু টাকা দিতে চাইলে সে টাকা নিতে অনিহা প্রকাশ করতো।

 

২০০৮ সালে মনির হোসেন নামে এক যুবক বাক ও শারিরীক প্রতিবন্ধী মিলনকে নিয়ে আসেন পত্রিকার এজেন্ট সুলতান’র দোকানে। সুলতানের পত্রিকা এজেন্সি থেকে প্রথমে মিলনের হাতে কিছু পত্রিকা তুলে দেন পত্রিকা এজেন্ট সুলতান। সেই থেকে প্রতিবন্ধী মিলন খুঁজে পান তার সামনের দিকে পথ চলার প্রেরণা।

 

আর পিছু নয়, নয় সমাজের বোঝা হয়ে থাকার মানুষিকতা। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবেই। সেই থেকে আজও মিলন সাড়াদেশের খবর মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার কাজটি করছেন অবিরত!

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।